আয়ুর্বেদিক উপায়ে পান উজ্জ্বল, নিখুঁত ও সুন্দর ত্বক

আয়ুর্বেদিক উপায়ে পান উজ্জ্বল, নিখুঁত ও সুন্দর ত্বক

আয়ুর্বেদিক (ayurvedic) উপায়ে পান উজ্জ্বল-নিখুঁত সুন্দর ত্বক (bright and glowing skin)



ছোটবেলা থেকেই মডেলিং করে তমালিকা। সবাই বলে, অবিকল দিদার মতো দেখতে তাকে। ঠিক যেন ডানাকাটা পরী! কিন্তু দিদার মতো সৌন্দর্য পেলেও তার ত্বক (skin) খুবই সেনসিটিভ (sensitive)। এ দিকে সেই ছোট বয়স থেকে মেক আপের চক্করে স্কিনের প্রায় বারোটা বেজে গিয়েছিল। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, কোনও ওষুধ কাজে আসছিল না। নাতনির স্কিনের শোচনীয় অবস্থা ভাবিয়ে তুলেছিল দিদাকেও। এগিয়ে এলেন তিনি। বাতলে দিলেন তাঁর সুন্দর ত্বকের (skin) রহস্য! কিন্তু তমালিকার দিদার উজ্জ্বল ত্বকের (bright skin) রহস্যটা কী? জানালেন, কোনও রকম কসমেটিকস (cosmetics) কখনও ব্যবহার করেননি তিনি। শুধুমাত্র আয়ুর্বেদিক (ayurvedic) উপায়েই ত্বকচর্চা করে আসছেন। তমালিকার দিদার মতো অনেকেই কসমেটিকস-মেকআপ (cosmetics-makeup) ব্যবহার করতে পছন্দ করেন না। অথচ অন্য কোনও উপায় না জানার দরুন ঠিকমতো রূপচর্চাও করে উঠতে পারেন না। তাঁদের জন্য রইল আয়ুর্বেদিক (ayurvedic) উপায়ে রূপচর্চা করার কিছু টিপস (tips)।


আরো পড়ুনঃ ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফেরাতে ঘরোয়া ফেসপ্যাক



জল আর হার্বাল চা: উজ্জ্বল ত্বক পেতে সারা দিনে প্রচুর পরিমাণে জল (water) খেতে হবে। আর হার্বাল চা-ও (herbal tea) ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। বিকেলের দিকে ক্যামোমাইল, লেবু বা আদা (ginger) দিয়ে চা বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই হার্বাল চা হজম করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। আর হজম-ক্ষমতা বাড়লে ত্বকও ভাল থাকবে।



শাকসবজি: প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি (vegetables) খেলে স্বাভাবিক ভাবেই ত্বকের ঔজ্জ্বল্য (glow) বাড়বে। তাই রোজকার ডায়েটে মাছ-মাংসের সঙ্গে থাকুক তাজা শাকসবজিও। উজ্জ্বল ত্বক (bright skin) পেতে গেলে তাই খাবারে বাছবিচার করলে চলবে না।



শরীরচর্চা: শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ভাল রাখতে শরীরচর্চা (exercise) করতে হবে, তার কোনও মানে নেই। কারণ শরীরচর্চা ভাল ত্বকেরও চাবিকাঠি। শরীরচর্চা করলে শরীরে রক্ত চলাচল ভাল হয়। যার ফলে ত্বকের কোষগুলোও আরও উজ্জীবিত হয়।



কাঁচা দুধ: ফেসওয়াশ দূরে সরিয়ে রাখুন। তার বদলে প্রতিদিন কাঁচা দুধ (raw milk) দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। কারণ মুখের চামড়ার উপরিভাগ ও রোমকূপের ময়লা দূর করার সব চেয়ে ভাল পদ্ধতি হল কাঁচা দুধ। প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে কাঁচা দুধে একটি তুলোর বল ভিজিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। কিছু দিনের মধ্যেই হাতেনাতে ফল পেয়ে যাবেন।



কমলালেবু: উজ্জ্বল ত্বকের (glowing skin) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ হল কমলালেবু (orange)। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি (vitamin c) ও অ্যান্টি এজিং (anti-ageing) উপাদান। যা আপনার ত্বককে খুব সহজেই সুন্দর করে তুলবে। একটি তাজা কমলালেবুর রস বার করে একটি তুলোর বলের সাহায্যে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন। তার পরে ইষদুষ্ণ গরম জলে (lukewarm water) মুখ ধুয়ে ফেলুন।



কমলালেবুর খোসা: কমলালেবুর রসের মতো কমলালেবুর খোসাও (orange peel) উজ্জ্বল ত্বকের জন্য খুবই জরুরি। প্রথমে কমলালেবুর খোসা শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এক টেবিল চামচ কমলালেবুর খোসার গুঁড়োর সঙ্গে ২ টেবিল চামচ দই (yoghurt) মিশিয়ে নিতে হবে। একটি ব্রাশের সাহায্যে মুখে ও ঘাড়ে ওই মিশ্রণটি লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে। তার পরে ধুয়ে ফেলতে হবে।



হলুদ-চন্দন: হলুদ (turmeric) আর চন্দন (sandalwood)- এই দুইয়ের মধ্যেই রয়েছে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল (anti bacterial) উপাদান। ব্রণ (acne) দূর করতে এই দু’টি জিনিসই খুব জরুরি। ১ টেবিল চামচ চন্দন আর আধ টেবিল চামচ হলুদ নিয়ে তার মধ্যে ২-৩ (পরিমাণমতো) টেবিল চামচ মধু (honey) মিশিয়ে নিতে হবে। ক্রিমের মতো মসৃণ মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে মুখে লাগিয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিতে হবে।



আলু: উজ্জ্বল ত্বকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল আলু (potato)। কারণ এর মধ্যে রয়েছে স্টার্চ। পিগমেন্টেশন, কালো দাগ-ছোপ দূর করে আলু। একটি আলু নিয়ে সেটিকে থেঁতো করে রস বার করে নিতে হবে। শুতে যাওয়ার আগে মুখের দাগের উপর একটি তুলোর বলের সাহায্যে ওই রস লাগিয়ে নিতে হবে। সারা রাত রেখে দিয়ে পরের দিন সকালে উঠে ধুয়ে ফেলতে হবে।



মেথি: চল্লিশ পেরোতেই মুখে বলিরেখার দেখা মিলছে? তা হলে ব্যবহার করুন মেথি (fenugreek)। মেথি পাতাও চলতে পারে। কারণ এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-মিনারেলস। একমুঠো মেথিপাতা নিয়ে মিক্সারে দিয়ে বেটে নিন। এর পর ওই মেথি বাটার পাতলা আস্তরণ মুখে লাগিয়ে নিন। আর মেথি নিলে সেটা সেদ্ধ করার জলটা তুলো দিয়ে মুখে লাগান। আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা রাখার পরে ইষদুষ্ণ গরম জলে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।



ঘি: গরুর দুধের খাঁটি ঘিয়ের (ghee) মধ্যে রয়েছে একাধিক প্রয়োজনীয় উপাদান। বিশেষ করে অ্যান্টি এজিং উপাদান। আধ চামচ ঘিয়ের মধ্যে কয়েক ফোঁটা জল মিশিয়ে ১০ মিনিট ধরে মুখে মাসাজ করতে হবে। তার পর ঘণ্টাখানেক সেটি রেখে দিতে হবে। এমনকি সারা রাত রাখতে চাইলে তা-ও করতে পারেন। এর পরে কোনও মাইল্ড ক্লিনজার (mild cleanser) দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।



তুলসি: স্বাস্থ্যের জন্য তুলসি (tulsi/basil) খুবই উপকারিতা বলে শেষ করা যায় না। খুব ভাল আয়ুর্বেদিক (ayurvedic) ওষুধ হিসেবে পরিচিত তুলসি। কম সময়ে উজ্জ্বল ত্বক (bright skin) পেতে তুলসি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এক মুঠো তুলসি পাতা আর ১ টেবিল চামচ দুধ নিয়ে মিক্সারে ফেলে দিন। বাটা হয়ে গেলে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।



সাদা চন্দন-দই: আয়ুর্বেদিক ওষুধের খুবই পরিচিত উপকরণ হল চন্দন। ত্বককে পরিষ্কার করার সঙ্গে সঙ্গে জীবাণুও ধ্বংস করে চন্দন। ত্বককে তরতাজা করে তোলে। এক চা-চামচ সাদা চন্দন গুঁড়োর (white sandalwood powder) সঙ্গে আধ চা-চামচ দুধ (milk), দই (yoghurt) আর হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিতে হবে। একটি ব্রাশের সাহায্যে মুখে আর ঘাড়ে ওই পেস্টটা লাগিয়ে ফেলুন। এর পরে কুড়ি মিনিট মতো রেখে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।



কেশর-অ্যালো ভেরা: নিখুঁত সুন্দর ত্বকের জন্য কেশর খুবই উপকারী। প্রথমে অল্প পরিমাণে কেশর (saffron) নিয়ে আর ১ চা-চামচ দুধ (milk) নিন। সারা রাত ফেলে ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন তার মধ্যে ১ টেবিল চামচ অ্যালো ভেরা জেল (aloe vera gel) মিশিয়ে নিন। তার পরে মুখে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা মতো রেখে দিন। এর পর ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন।



POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি এবং বাংলাতেও!