চোখের তলায় ফোলাভাব (puffiness under eyes) কাটাতে চান? ঘরেই রয়েছে উপায়

চোখের তলায় ফোলাভাব (puffiness under eyes) কাটাতে চান? ঘরেই রয়েছে উপায়

রোজ সকাল আটটার সময় অফিস বেরোতে হয় নন্দিতাকে। সকালে উঠেই রান্নাবান্না, বরের আর ছেলের টিফিন বানানো। আর অফিস করে ফিরতে ফিরতে আবার সেই রাত। ফলে ঘুমোতে যেতেও দেরি হয়। এ দিকে ঘুম থেকে উঠতেও হয় তাড়াতাড়ি। ফলে ঠিক করে ঘুমটা হয় না। ইদানীং তাই সকালে উঠে দেখছে, চোখের তলাটা ফুলে (puffiness under eyes) থাকে। অফিসে অনেক সহকর্মীই ব্যাপারটা নিয়ে প্রশ্ন করে। কিন্তু ও কোনও উত্তর দিতে পারে না। কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না কেন এটা হচ্ছে। সে দিন শপিং মলে স্কুলজীবনের বন্ধু প্রিয়ার সঙ্গে দেখা। তখন সে-ই বলল আসলে ঘুমের অভাবেই মূলত চোখের তলায় ফোলাভাব (puffiness under eyes) হয়। অনেকেরই এই ধরনের সমস্যা রয়েছে। আসলে শুধু ঘুমের অভাবেই নয়, চোখে ফোলা ভাব (puffiness under eyes) হওয়ার আরও অনেক কারণ রয়েছে। এই যেমন- অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অতিরিক্ত কান্না, ধূমপান, মদ্যপান, হরমোনাল ইমব্ল্যালান্স, অতিরিক্ত নুন খাওয়া এই সব কারণেও চোখের তলা ফোলা (puffiness under eyes) লাগে। তবে কোনও রকম আই-ক্রিম, ক্রিম, লোশন বা বিউটি ট্রিটমেন্টও কাজে দেয় না। ফলে চোখের তলার ওই ফোলাভাব (puffiness under eyes) আপনাকে দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়ায়। তবে আপনার রান্নাঘরেই কিন্তু ওই ফোলাভাব কমানোর উপায় রয়েছে। অথচ আপনি সেটা জানতেনই না। আসুন আর দেরি না করে চটপট দেখে নিই কী ভাবে চোখের নীচের ফোলাভাব দূর করবেন।



ঠান্ডা চামচ


সব থেকে সহজে ও কম সময়ে আপনার চোখের ফোলাভাব (puffiness under eyes) কমিয়ে দেবে ঠান্ডা চামচ (spoon)। হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিকই বলেছি! এক কাজ করুন, ৫-৬ টা চামচ ফ্রিজে রেখে দিন। ১৫মিনিট মতো রেখে ঠান্ডা করার পরে চামচের গোল অংশ আপনার চোখের উপর চেপে ধরুন। চামচটি গরম হলে বদল করে আর একটা চামচ চোখের উপর ধরে রাখুন। এটি চোখের আশপাশের স্কিনকে টাইট করে ও রক্ত চলাচল ভাল করে।


cold spoon



আলুর রস


চোখের তলার কালি কমাতে আলুর (potato) রস অত্যন্ত উপকারী। কিন্তু চোখের তলায় ফোলাভাব (puffiness under eyes) কমানোর জন্যও আলুর রস একই ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি মাঝারি আলু নিয়ে রস করে নিন। এ বার সেই আলুর রস ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন। এর পরে তুলোর বল নিয়ে ওই ঠান্ডা করা আলুর রসে ভিজিয়ে চোখের উপর রাখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পরে ঠান্ডা জলে চোখ ধুয়ে ফেলুন। রোজ ব্যবহার করলে ভাল ফল পাবেন।


potato



শসা


শসা (cucumber) স্লাইস করে নিন। সেগুলি ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এ বার ঠান্ডা শসা চোখের উপর দিয়ে ১৫ মিনিট রেখে রিল্যাক্স করুন। তার পর ঠান্ডা জলে চোখ ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, চোখের তলায় ফোলাভাবটা (puffiness under eyes) কেটে গিয়েছে।


cucumber


 


ডিমের সাদা অংশ


ডিমের সাদা অংশ ()egg white) নিয়ে সেটিকে ভাল করে ফেটিয়ে নিন। এমন ভাবে ফেটাবেন যে, যেন ফেনা উঠতে শুরু করে। এর পর একটি তুলোর বল বা ব্রাশের সাহায্যে চোখের তলায় লাগিয়ে নিন। এ বার চোখ বুজে কিছুক্ষণ রিল্যাক্স করুন। ২০ মিনিট মতো এ ভাবে থাকার পরে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। চোখের তলার ফোলা ভাব (puffiness under eyes) তো দূর হবেই, চোখের ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করবে ডিমের সাদা অংশ।


egg white



টি-ব্যাগ


কালো ও গ্রিন টি-ব্যাগ (tea-bag) চোখের তলার ফোলা ভাব (puffiness under eyes) দূর করতে সাহায্য করে। কয়েকটা টি-ব্যাগ নিয়ে ফ্রিজে রাখুন। খুব ঠান্ডা হলে ১০-১৫ মিনিট চোখের উপর দিয়ে রাখুন। এর ১৫ মিনিট পরে জল দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। চোখের তলার ফোলা ভাব দূর করার সঙ্গে চোখের তলার কালিও দূর করে এই টোটকা।


tea bag



নুন-জল


চার কাপ জলে আধ চামচ নুন (salt) মিশিয়ে নিন। ওই মিশ্রণে একটি তুলোর বল ভিজিয়ে নিয়ে ১৫-২০ মিনিট চোখের উপর রাখুন। এটিও চোখের তলার ফোলাভাব (puffiness under eyes) দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।



অ্যালোভেরা জেল


সকালে উঠে চোখ ফোলা লাগছে? তা হলে অ্যালোভেরা জেলও (aloe vera gel) ব্যবহার করতে পারেন। ফ্রিজে রাখা অ্যালোভেরা জেল চোখের তলায় হালকা করে মাসাজ করে রাখুন। কিছু ক্ষণ ওই ভাবে থাকার পরে দেখবেন, চোখের তলার ফোলাভাব (puffiness under eyes) উধাও।


aloe vera



জল খাওয়া


এমনিতে শরীর সুস্থ রাখতে সারা দিনে প্রচুর জল খাওয়ার (drinking water) কথা বলেন ডাক্তার ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা। সারা দিনে পর্যাপ্ত জল খেলে চোখের তলার ফোলাভাবও (puffiness under eyes) কাটবে। পাশাপাশি, সারা দিনে বেশ কয়েক বার চোখে জলের ঝাপটা দিন। তা হলে দেখবেন, চোখের তলার ফোলাভাব (puffiness under eyes) কমে গিয়েছে।



তা হলে দেখতেই পাচ্ছেন, ঘুম থেকে উঠে অফিস বেরোনোর তাড়া থাকা সত্ত্বেও ঘরের কাজ করতে করতেই অল্প সময় বার করে এগুলো করতেই পারেন। আর কয়েক দিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন পরিবর্তনটা!



POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি এবং বাংলাতেও!