২০১৮’ র ম্যানবুকার বিজয়িনী হলেন অ্যানা বার্নস (Anna Burns won Man booker for 2018)

২০১৮’ র ম্যানবুকার বিজয়িনী হলেন অ্যানা বার্নস (Anna Burns won Man booker for 2018)

প্রতি বছরই ম্যান বুকার পুরষ্কার (Man Booker) অনুষ্ঠানে নতুন কিছু হয়। গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ (2018) তেও তার অন্যথা হল না। বুকারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় যুক্ত হল নিক জুনেজো’র ‘স্যাবরিনা’। এটি একটি গ্রাফিক নভেল। এর আগে বুকারের তালিকায় কোনও গ্রাফিক নভেল (graphic novel) সংযোজিত হয়নি। দ্বিতীয় ঘটনা হল ‘মিল্কম্যান’ (Milkman) উপন্যাসের জন্য অ্যানা বার্নসের পুরষ্কার লাভ। অ্যানার এটি তৃতীয় নভেল। তিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের (Ireland)  বাসিন্দা। বুকারের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও উত্তর আইরিশ লেখক এই সম্মান পেলেন।(Anna Burns won Man Booker for 2018)


কেমন হল মিল্কম্যান? (#book review: Milkman)


যারা এর আগে অ্যানার লেখা পড়েছেন তারা জানেন লেখিকার স্টাইল ঠিক কীরকম। লেখনী নিয়ে কোনও কথা হবে না। ঝরঝরে লেখা। এক কথায় সুখপাঠ্য। এটি অ্যানার তৃতীয় উপন্যাস বলেই বোধহয় তিনি নিজের লেখাকে একটু হলেও ভাঙা গড়ার চেষ্টা করেছেন।‘মিল্কম্যান’ এর মজা হল এটা অনেকটা নানা জিনিস দিয়ে তৈরি করা স্যান্ডউইচের মতো। মানে আপনি প্রথম কামড় দিয়েই উহু করে উঠলেন ঝালে। আবার তার পরের কামড়েই হয়তো পাবেন নোনতা স্বাদ। উত্তর আয়ারল্যান্ডের উত্তাল রাজনৈতিক পরিবেশে এক আঠেরো বছরের তরুণীকে জোর করে ঠেলে দেওয়া হল এক মাঝবয়সী লোকের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে। পুরো উপন্যাসটিই রচিত হয়েছে এই তরুণীর জবানিতে। কিন্তু কে এই মেয়েটি? কী নাম তার? এখানেই সাহিত্যকে দুমড়ে মুচড়ে ব্যবহার করেছেন অ্যানা। গোটা উপন্যাসে এই মেয়েটির কোনও নাম নেই!পুরো উপন্যাসে মেয়েটিকে ‘মিডল সিস’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন অ্যানা। যে আইরিশ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে উপন্যাসটি রচিত সেই পটভূমিকাও ‘মিল্কম্যান’ উপন্যাসে খুব একটা উগ্র নয়। এই ধরণের উপন্যাস যদিও আইরিশ সাহিত্যের একটি অংশ। তবে ‘মিল্কম্যান’ এর নিজস্ব একটা সত্ত্বা আছে। আর সেইজন্যই অ্যানা চেয়েছিলেন যুদ্ধের দুর্বিষহ ইতিহাস নয় বরং আর বেশি করে প্রকট হোক দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার, পিতৃতন্ত্রের ধ্বজা ওড়ানো কিছু মিথ্যে স্তোকবাক্য...এগুলো বেশি করে দাগ কাটুক পাঠকের মনে। ডার্ক কমেডির মোড়কে অ্যানা যখন উত্তর আয়ারল্যান্ডের যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা লিখেছেন, না চাইলেও আমাদের মনে উঁকি দিয়ে গেছে স্তালিনের রাশিয়া আর তালিবান শাশনের কথা।তবে গোটা উপন্যাসে মূল চরিত্রের বা সূত্রধারের কোনও নাম না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে ‘মিল্কম্যান।’ অনেকেই বলছেন, যেখানে মানুষ উপন্যাস নয় চরিত্রগুলি আজীবন মনে রাখে সেখানে নামহীন চরিত্র অ্যানার উপন্যাসকে অনেক ম্লান করে দিয়েছে।তবে এগুলো সবই ব্যক্তিগত মতামত। কিন্তু একজন পাঠক হিসেবে আপনি বুঝতে পারবেন এটা অ্যানার কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। শুধু ওই আঠেরো বছরের তরুণী নয়, এই উপন্যাসে কারও কোনও নাম নেই। নাম নেই দেশের, নাম নেই শহরের। কিন্তু কে এই মিল্কম্যান? মিল্কম্যান যে কেউ হতে পারে। যাকে আশেপাশেই দেখা যায়। রহস্য...অনেক রহস্য। মিল্কম্যান পড়ুন। আমার মনে হয়েছে যারা ভার্জিনিয়া উলফ বা জেমস জয়েস পড়েছেন বা ভালোবাসেন তাদের এই উপন্যাস ভালো লাগবে।


   milkman   


 


‘মিল্কম্যান’ বইটি কিনতে হলে নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন


 https://www.amazon.in/Milkman-Anna-Burns/dp/0571338755/ref=sr_1_1?s=books&ie=UTF8&qid=1546570713&sr=1-1&keywords=milkman


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!


 ছবি সৌজন্যঃ ফেসবুক ও আম্যাজন