শিকারা আর টয়ট্রেন ভ্রমণ এবার হাতের কাছেই, চলে যান বারাসতের হাতিপুকুর (barasat hatipukur)

শিকারা আর টয়ট্রেন ভ্রমণ এবার হাতের কাছেই, চলে যান বারাসতের হাতিপুকুর (barasat hatipukur)

অনেক দিন হয়ে গেল কোথাও বেরোনো হয় না। আরে ভুল বুঝবেন না আবার! কারণ ভ্রমণপিপাসু বাঙালির বেরোনো মানে হল বেড়াতে যাওয়া! সে দূরেই হোক বা দু’দিনের ছুটিতে কাছেপিঠে কোথাও। মানে সব থেকে বড় কথা হল, ভ্রমণপিপাসু বাঙালি আসলে ছুটির সদ্ব্যবহার করতে জানে। পুজো বা ছেলেমেয়ের স্কুলে তো লম্বা ছুটি, তাই লটবহর নিয়ে এই সময় বড় ট্যুর (travel) আরামসে সেরে ফেলা যায়। আবার ক্রিসমাসে ওই সাত দিনের ছুটিতে একটা মাঝারি ট্যুর। আর ছোটখাটো ছুটি মানে এই ধরুন একটা উইকেন্ডে (weekend) কোথাও টুক করে ঘুরে আসা (travel)। আর লং উইকেন্ড (weekend) হলে তো কথাই নেই! মানে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ আমরা বাঙালিরা ছাড়ি না। তবে মাঝেমাঝে অফিসের চাপ, হাজারো টেনশন, ছেলেমেয়ের স্কুলের পরীক্ষা- সব ম্যানেজ করে হয়তো বড় ট্যুর হয়ে ওঠে না। এই ধরুন মনটা অনেক দিন ধরে দার্জিলিং দার্জিলিং করছে। উফ! বাবা রে! কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি। আর টয়ট্রেনে (toy train) ঘোরা। কাশ্মীর তো সেই কবে থেকে আপনার উইশলিস্টে রয়েছে। কিন্তু প্ল্যানটা আর জমে উঠছে না। বহু দিন ধরেই ডাল লেকে শিকারায় (shikara) ভ্রমণ যেন স্বপ্নেই ভেসে বেড়ায়। কিন্তু সকালে উঠলেই সেই স্বপ্ন গায়েব।


তবে হ্যাঁ, যাঁরা হামেশাই এই ধরনের স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য সুখবর! শিকারা (shikara) আর টয়ট্রেন (toy train) চাপতে পারবেন শহরের উপকণ্ঠেই। মানে বারাসতে (barasat hatipukur)! অনেকেই হয়তো বলবেন, এ তো দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো। কিন্তু তাতে ক্ষতি কোথায়!


hatipukur-park


সম্প্রতিই বারাসত শহরের হাতিপুকুরে (barasat hatipukur) একটি পার্কের (park) উদ্বোধন হয়েছে। বারাসত জেলশাসকের দফতরে একদম পাশে। নাম সিরাজ উদ্যান। কারণ এই হাতিপুকুরের (barasat hatipukur) সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন নবাব সিরাজদৌল্লার নামও। বাংলায় তখন রাজত্ব ছিল নবাব সিরাজদৌল্লার। নবাবের মসনদ ছিল মুর্শিদাবাদ। তখন মুর্শিদাবাদ থেকে মাঝেমধ্যেই কলকাতায় আসতেন তিনি। সঙ্গে থাকত সৈন্য-সামন্ত, হাতি-ঘোড়া। কলকাতা আসার মাঝে পড়ত বারাসত। শোনা যায়, পথের ক্লান্তি কাটাতে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিতেন সেখানে। আর নবাবের হাতি-ঘোড়া জল খেত ওই পুকুরে। ফলে সেই থেকে ওই পুকুরের নাম হয়েছে হাতিপুকুর (barasat hatipukur)!


pagoda


বহু বছর আগে হাতিপুকুরের (barasat hatipukur) পাড়ে একটি উদ্যান (park) তৈরি হয়েছিল বটে, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পুকুরটাও মজে গিয়েছিল। তবে সে সব কাটিয়ে এখন নতুন ভাবে সেজে উঠেছে এই পার্ক। সম্পূর্ণ রূপে ভোল বদলে গিয়েছে।


park-horse-corrected


এ বার জেনে নিন, কী কী আকর্ষণ থাকছে সেখানে? হাতিপুকুর (barasat hatipukur) পার্কে (park) ঢোকার মুখে থাকবে নবাবি তোরণ। আর হাতি-ঘোড়ার মডেলও থাকবে। ওই মডেলের পিঠে থাকবে তলোয়ারধারী সেনাদের মডেল। সিরাজদৌল্লার মূর্তিও বানানো হয়েছে। পার্কে শিশুদের মনোরঞ্জনের জন্য থাকছে হাজারো বন্দোবস্ত। কাশ্মীরের আদলে রয়েছে শিকারার (shikara) মতো বোট। আর থাকবে টয়ট্রেনও (toy train)। হাতিপুকুরের (barasat hatipukur) মাঝখানে একটা দ্বীপের মতো রয়েছে। সেখান যাওয়ার জন্য রয়েছে একটি সেতুও। দ্বীপের এক দিকে লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ বানানো হয়েছে। আর দ্বীপের উপর থাকছে প্যাগোডাও। সেখানে ছিল একটি বহুপ্রাচীন গাছ। কয়েক বছর আগে বাজ পড়ে গাছটি মারা গিয়েছিল। গুঁড়িসমেত গাছটি থাকলেও তার ডালপালা শুকিয়ে গিয়েছিল। গাছটি না কেটেই গুঁড়ি খোদাই করে দেওয়া হয়েছে মানুষের আদলে। আর পার্কে (park) শোনানো হবে পলাশির যুদ্ধের গল্পও। থাকবে আলো আর সুরের মূর্চ্ছনাও। বসে গল্পগুজব করার জন্য একটি ক্যাফেও তৈরি হচ্ছে। পরে অডিটোরিয়াম ও আর্ট গ্যালারি তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।


siraj-corrected


তা হলে সারা সপ্তাহের ক্লান্তি কাটাতে উইকেন্ডে এক বার ঘুরেই (travel) আসতে পারেন। স্ট্রেসও কাটবে, একটা রিফ্রেশমেন্টও হবে!


ছবি সৌজন্যে: ইউটিউব ও ফেসবুক


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি এবং বাংলাতেও!