একজন আদর্শ মায়ের মধ্যে যে-যে গুণ থাকা উচিত বলে মনে করেন সকলে

একজন আদর্শ মায়ের মধ্যে যে-যে গুণ থাকা উচিত বলে মনে করেন সকলে

"মাদার্স লাভ ইস পিস। ইট নিড নট বি অ্যাকোয়ার্ড, ইট নিড নট বি ডিসার্ভড!" কথাটা যে সব দিক থেকে ঠিক তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। সত্যিই তো মা (mother) হল সেই নিরাপাদ আস্তানা, যেখানে শান্তির খোঁজ মেলে। শুধু কি তাই, মা হল সেই ভালোবাসার পরশ, যা অতি দুঃখের দিনেও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শেখায়। তাই মায়েরা (mother) যে কখনই বচ্চাদের জীবন নিয়ে কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নেবে না, তা তো বলাই বাহুল্য! তবু কখনও-সখনও এই জীবনের পিচ্ছিল রাস্তায় হড়কে পড়ার ভয় থাকে বৈকি! তাই তো আজ এই লেখায় এমন একটি গাইড লাইনের সন্ধান দেওয়া হবে (how to be a good mother), যা মেনে চললে প্রতিটি মা হয়ে উঠবে একজন আদর্শ জননী (good mother)। আর একজন আদর্শ মায়ের হাতে গড়া ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ যে সদা উজ্জ্বল হয়, তা কি বলার অপেক্ষা রাখে!


আরও পড়ুনঃ শিশু দিবস স্পেশাল কিছু মেসেজ


১. ধৈর্যের বাঁধ যেন কখনও না ভাঙে:


patients-mother
বাচ্চারা যত বড় হবে, তত তাদের দুষ্টুমি যাবে বেড়ে। কখনও সে দেওয়ালে ছবি আঁকবে, তো কখনও বাগানে গিয়ে মাটি খাবে! কখনও সখনও আবার দুধের গ্লাসও উল্টে দিতে পারে! তাবে যা কিছুই করুক না কেন ধৈর্য হারিয়ে চিৎকার করলে কিন্তু চলবে না। কারণ ছোটবেলা থেকে প্রতিটি পদক্ষেপে যদি বাচ্চারা চিৎকার চেঁচামেচি বা রাগের সাক্ষী থাকে, তাহলে কিন্তু শৈশব বিগড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তাছাড়া বাচ্চরা যখন মা-বাবাকে ধৈর্যশীল হতে দেখবে, তখন সেই গুণ তাদের মধ্যেও ধীরে ধীরে দানা বাঁধবে। আর আজকের দিন যাদের ধৈর্য আছে, তাদের সফলতা লাভের সম্ভবনা যে বেশি, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। তাই একজন আদর্শ মা হয়ে ওঠার প্রথম শর্ত হল ধৈর্যশীল হয়ে ওঠা।


২. উৎসাহে যেন খামতি না থাকে:


inspire-mother
হাজারো চেষ্টার পরে হাঁটতে পারছে না। বারে বারে হাঁটতে গিয়ে পরে যাচ্ছে তোমার বাচ্চা। এমন কি শত চেষ্টার পরেও নিজে হাতে খেতে পারছে না! কোনও চিন্তা নেই। তোমার বাচ্চা যত বার পরে যাবে, যতবার খেত গিয়ে ভুল করবে, ততবার তাকে উৎসাহ দাও। প্রতিটি পদে তাকে বলো, "তুমি পারবে সোনা, তুমিই পারবে!" এমনভাবে জীবনের প্রতিটি ব্যর্থতার দিনে বাচ্চার দিকে বাড়িয়ে দাও উৎসাহের হাত, দেখবে হেরে যাওয়ার গ্লানি তাকে কোনও দিন ঘিরে ধরতে পারবে না। ফলে একদিন না একদিন সফলতা তার রোজের সঙ্গী হয়ে উঠবেই উঠবে (relationship)। আর উৎসাহের ডোজ পেতে পেতে বড় হয়ে ওঠা বাচ্চা অন্য আরও অনেককে উৎসাহ দিতে শিখবে। আর এইভাবেই তো গড়ে উঠবে এক আদর্শ সমাজ। তাই মা, দয়া করে সমালোচনা বা অন্য বাচ্চার সঙ্গে নিজের বাচ্চার তুলনা করতে যেও না যেন! এমনটা করলে দেখবে সুফল তুমি পাবেই পাবে!



৩. বাচ্চার কথাকে দাবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কখনও করো না:


children-mother
চারা গাছ ধীরে ধীরে যত বড় হতে থাকে, তত সে এই প্রকৃতিকে, আশেপাশের পরিবেশকে নিজের মতো করে চিনতে শেখে। একই ভাবে কোনও বাচ্চা যখন বড় হয়, তখন তার আশেপাশে ঘটতে থাকা প্রতিটি ঘটনাকে সে নিজের মতো করে বিশ্লেষণ করতে শুরু করে। সেই বিশ্লেষণ হয়তো ভুল হতে পারে। তাই বলে বাচ্চার মতামতকে দাবিয়ে নিজের বক্তব্যকে তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার ভুল কাজটি করা কিন্তু কখনই উচিত নয় (how to be a good mother to a teenager)। বরং তাদের কথা শুনে ভুলটা শুধরে দেয়া উচিত। সেই সঙ্গে কোথায় ভুল হয়েছে, আর কেন ভুল হয়েছে, তাও বোঝানো উচিত। এমনটা করলে বাচ্চা দেখবে মন খুলে কথা বলবে তোমার সঙ্গে। মনের ছোট ছোট কথা শেয়ার করবে। আর এমনটা করতে থাকলেই তো আগামী দিনে তোমার বাচ্চার কোনও ভুল কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যাবে কমে। কারণ কোনও খারাপ ঘটনা ঘটার আগেই যে তুমি সে সম্পর্কে জেনে ফেলতে পারবে!


আর যদি কথায় কথায় তাদের দাবিয়ে রাখতে শুরু করো, তাহলে হয় তারা হিংস্র হয়ে উঠবে, নয়তো আত্মবিশ্বাস গিয়ে ঠেকবে একেবারে তলানিতে। আর এই দুটি পরিস্থিতিই যে বাচ্চার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পরিপন্থী, তা নিশ্চয় আর আলাদা করে বলে দিতে হবে না।


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!