প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাইক্রোওয়েভের ব্যবহার কিন্তু আমন্ত্রণ জানাতে পারে বিপদকে!

প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাইক্রোওয়েভের ব্যবহার কিন্তু আমন্ত্রণ জানাতে পারে বিপদকে!

মডার্ন কিচেনে যে জিনিসগুলি না থাকলেই নয়, তার অন্যতম হল মাইক্রোওয়েভ (microwave)। কারণ আজকের দিনে বেশিরভাগ পরিবারেই স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই চাকরি করেন। তাই তো সময়ের অভাবে সপ্তাহে ৩-৪ দিন রান্না করে, তা খাওয়া হয় বাকি দিনগুলিতে। আর ঠিক এই কারণেই প্রয়োজন বেড়েছে মাইক্রোওয়েভের। কিন্তু যেটা চিন্তার বিষয়, তা হল একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা একেবারেই উচিত নয় (dangers of microwave cooking)। কারণে তাতে নাকি খাবারের যেমন ক্ষতি হয়, তেমনি আমাদের শরীরেরও ক্ষতি হয়ে যেতে পারে, যার প্রভাবে একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে (is microwaving food bad for your health)।


এত দূর পড়ার পরেও মাইক্রোওয়েভের ক্ষতিকারক দিকটা নিয়ে যদি মনে প্রশ্ন থেকে যায়, তা হলে বাকি প্রবন্ধে চোখ রাখতে ভুলবেন না যেন!


১. খাবারে উপস্থিত পুষ্টিকর সব উপাদান ধ্বংস হয়ে যায়


micro-1
একাধিক স্টাডির পর এ কথা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে অনেকেই জানেন না কোন খাবার কতটা তাপমাত্রায় গরম করা উচিত। তাই তো যে খাবার এক মিনিট গরম করলেই চলে, তা বেশ কয়েক মিনিট গরম করে ফেলি আমরা। আবার যে যে খাবার বেশি করে গরম করা উচিত, তা গরম করতে অনেকক্ষেত্রেই আমরা কম সময় নিয়ে থাকি। ফলে খাবারে উপস্থিত পুষ্টিকর উপাদানগুলি এক এক করে ধ্বংস হয়ে যায়। আর এমন খাবার দিনের পর দিন খাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে একাদিক জটিল রোগ (microwave health risks)। তাই মাইক্রোওয়েভ যদি ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে কোন খাবার, কত তাপমাত্রায় গরম করলে পুষ্টিকর উপাদানগুলির কোনও ক্ষতি হবে না, সে সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন। আর এমনটা যদি করতে না পারেন, তা হলে আজ থেকেই এই যন্ত্রটির ব্যবহার একেবারে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।


২. হতে পারে ক্যান্সারের মতো রোগও


micro-2
কোনও গবেষণায় এই বিষয়ে সরাসরি প্রমাণ পাওয়া না গেলেও একটা বিষয়ে একমত হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে মাছ-মাংসের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যদি উচ্চ তাপমাত্রায় অনেকক্ষণ ধরে গরম করা বা রান্না করা হয়, তাহলে তাতে "এইচসিএ"(HCA) নামক একটি উপাদান জন্ম নেয়, যা থেকে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যায় বেড়ে। আর মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার সময় যেহেতু আমরা অনেকেই তাপমাত্রা কতটা হওয়া উচিত, সে বিষয়ে খেয়াল রাখি না, তাই এমন আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না যে আমাদের ভুলেই হয়তো কোনও সময়ে মাছ বা মাংসের মতো খাবারে "এইচসিএ" উপাদানটি জন্ম নিতে পারে। আর এমনটা হলে বিপদ যে কতটা, তা নিশ্চয় আর বলে দিতে হবে না (do microwave ovens cause cancer)!


সম্প্রতি "ইনফো এন এ" পোর্টালে প্রকাশিত এক স্টাডি অনুসারে চর্বি জাতীয় মাছ যদি মাইক্রোওয়েভে বেশি সময় ধরে গরম করা হয় অথবা ডিপ ফ্রাই করা হয়, তা হলে নাকি "এইচসিএ"-এর মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া আশঙ্কা অনেকাংশেই বৃদ্ধি পায়। তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে এবার থেকে মাইক্রোওয়েভে যে কোনও আমিষ খাবার গরম করা উচিত।


কোন-কোন খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা একেবারেই উচিত নয়?


micro-3
ফুড স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি বা এফএসএ-এর রিপোর্ট অনুসারে পালং শাক, গাজর এবং সেলারির মতো শাক দিয়ে তৈরি কোনও খাবার যেমন ভুলেও মাইক্রোওয়েভে গরম করা উচিত নয়, তেমনি ভাত, ডিম, মুরগির মাংস এবং অলুর কোনও পদও এই যন্ত্রের সাহায্যে গরম করতে বা রান্না করতে মানা করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই সবশেষে সিদ্ধান্ত আপনার, সময় বাঁচাতে মাইক্রোওয়েভের ব্যবহার চালিয়ে যাবেন, নাকি...


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!