মুখরোচক দোসা রেসিপি! (easy dosa recipe)

মুখরোচক দোসা রেসিপি! (easy dosa recipe)

এখন তো কলকাতার মোড়ে মোড়ে মশলা দোসার (dosa) স্টল। তাই এই লেখায় মশলা দোসা নিয়ে একটা শব্দও খরচ করা হবে না, বরং এমন দুটি দোসার রেসিপি (recipe) সম্পর্কে আজ তোমাদের জানাতে চলেছি, যা দক্ষিণ ভারতে, বিশেষত কর্নাটকে ব্যাপক জনপ্রিয়। আর বাঙালি খাদ্যরসিকেরা তার স্বাদ নেবে না তা কেমন ভাবে হয়! তাই তো বলি, একঘেয়ে ব্রেকফাস্টের মেনুতে যদি একটু বদল আনতে মন চায়, তাহলে এই লেখাটি পড়ে ফেলতে দেরি করো না যেন (easy dosa recipe)!


১. সেট দোসা (set dosa recipe):


dosa-1
সাধারণত সাউথ ইন্ডিয়ান রেঁস্তোরায় যে ধরনের দোসা আমারা খেয়ে থাকি, এই দোসা দেখতে কিন্তু একেবারেই তেমন নয়। বরং সেট দোসা অনেকটা রুটির মতো দেখতে। প্রকৃতিতে নরম এবং বেজায় সুাস্বাদু এই দোসাটি কোনও তরকারি বা চাটনির সঙ্গে ব্রেকফাস্টের সময় খেতে যে মন্দ লাগবে না, তা হলফ করে বলতে পারি। এই পদটি বানাতে মূল যে উপাদানটির প্রয়োজন পড়বে তা হল দোসা ব্যাটার, যা এখন কলকাতার প্রায় প্রতিটি সুপারমার্কেটে রেডিমেড পাওয়া যায়। কারণ বাড়িতে দোসা ব্যাটার বানানো কিন্তু বেজায় পরিশ্রমের কাজ!


এই পদটি বানাতে দোসা ব্যাটার ছাড়াও প্রয়োজন পড়বে অল্প পরিমাণ সাদা তেলের। এছাড়া আর কিছুই লাগবে না।


প্রণালী:


১. একটা ননস্টিক প্যান নিয়ে হালকা গরম করে নাও। এক্ষেত্রে একটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে, তা হল প্যানটা যেন অতিরিক্ত গরম করা না হয়। কারণ বেশি গরম করে ফেললে দোসাটা পুড়ে যেতে পারে। তাই যে কোনও দোসা রান্নার সময় আঁচটা বাড়ালে কিন্তু চলবে না। বরং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হালকা আঁচে রান্না করতে হবে।
২. প্যানটা হালকা গরম হওয়ার পর একটা ছোট বাটিতে ধোসা ব্যাটার নিয়ে তাওয়ার উপর ঢেলে বাটির নিচেটা দিয়ে রুটির মাপে গোল করে ব্যাটারটা ছড়িয়ে দিতে হবে।
৩. এরপর ব্যাটারটার উপর অল্প করে তেল ছড়িয়ে দাও। ইচ্ছা হলে এই সময়ে ব্যাটারের উপরে গাজর, বিট, পেঁয়াজ এবং লঙ্কা কুচিও ছড়িয়ে দিতে পারো। তাতে স্বাদ আরও বাড়বে বৈকি।
৪. যখন দেখবে দোসাটা ধীরে ধীরে সোনালী রং নিতে শুরু করেছে তখন উল্টে দিতে হবে।
৫. দোসার অপর দিকটা একইভাবে সোনালী রং নিলে আঁচটা বন্ধ করে দিতে হবে। তারপর গরম গরম সেট দোসাটা ঝাল ঝাল তরকারি, পুদিনার চাটনি অথবা নারকেলের চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করলেই দেখবে কেল্লা ফতে!


২. নির দোসা (neer dosa recipe):


dosa-2
দক্ষিণ ভারতে "নির" কথার অর্থ হল জল। আসলে এই দোসাটি বানাতে বেটারে জল মেশানো হয়ে থাকে। যাতে সেটা পাতলা হয়ে যায়া। আর এমন পাতলা ব্যাটার দিয়ে যে দোসা বানানো হয়, তাকেই দক্ষিণ ভারতের অনেক জায়গাতে নির দোসা নামে ডাকা হয়ে থাকে।


এই বিশেষ ধরনের দোসাটি বানাতে প্রয়োজন পড়বে দোসা ব্যাটার, অল্প পরিমাণ জল এবং অল্প পরিমাণে সাদা তেলের।


প্রণালী:


১. একটা ননস্টিক প্যান নিয়ে তাতে কয়েক ড্রপ তেল ফেলে ন্যাপকিনের সাহায্যে ভালো করে তাওয়াটা মুছে নিতে হবে। এমনটা করলে তেলের একটা লেয়ার তৈরি হয়ে যাবে। ফলে দোসাটা তাওয়াতে লেগে যাওয়ার আশঙ্কা যাবে কমে।
২. এবার আরও কয়েক ড্রপ তেল ফেলে একই ভাবে সারা প্যানে ছড়িয়ে দেওয়ার পর এক বাটি দোসা ব্যাটারে অল্প পরিমান জল মিশিয়ে ভালো করে মিক্স করে নিতে হবে।
৩. যখন দেখবে প্যানটা হালকা গরম হতে শুরু করেছে, তখন আঁচটা একটু কমিয়ে দোসা ব্যাটারটা গোল করে প্যানের চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। তারপর তাওয়ার প্রতিটি কোনায় অল্প করে তেল ছড়িয়ে দিতে হবে।
৪. ১-২ মিনিট প্যানটা ঢাকা দিয়ে রাখার পর খুন্তির সাহায্যে দোসাটা যে কোনও একটা কোনা থেকে ফোল্ড করে নিতে হবে। ইচ্ছা হলে দোসাটি ত্রিভুজ আকারেও মুড়িয়ে নিতে পারো।
৫. এরপর দোসাটা প্লেটে তুলে নিয়ে যে কোনও তরকারির সঙ্গে পরিবেশন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে একটা জিনিস জেনে রাখা একান্ত প্রয়োজন যে বাকি দোসার রং যেমন সোনালী বর্ণের হয়, নির দোসা কিন্তু সোনালী রঙের হয় না। বরং এর রং হয় সাদা। আর একেবারে অল্প পরিমাণ তেলে রান্না করার কারণে এমন দোসা খেলে শরীরের তো কোনও ক্ষতি তো হয়ই না। উল্টে পেট ভরা থাকে অনেকক্ষণ।


ছবির কৃতজ্ঞতা স্বীকার- youtube, wikipedia


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!