কম খরচে করে ফেলো বাড়ির মেকওভার! (how to make a house a home on a budget)

কম খরচে করে ফেলো বাড়ির মেকওভার! (how to make a house a home on a budget)

বাড়ি (house)। অক্ষর মাত্র দুটো। কিন্তু এই ছোট্ট শব্দটা আমাদের জীবনে যে কতটা গুরুত্ব রাখে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ এই চার দেওয়ালের মাঝেই যে আমরা খুঁজে পাই অপার শান্তি। গড়ে তুলি স্বপ্নের আপন দুনিয়া। যেখানে কোনও ভয় নেই। কোনও চোখ রাঙানি নেই। আছে শুধু অফুরন্ত ভালোবাসা। আর এমন স্বর্গকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব তো তাই আমাদেরই (house makeover)। তাই না?


একথা ঠিক যে কম-বেশি আমারা সবাই বাড়ির প্রতিটি কোনাকে সুন্দর করে তুলতে চাই (home makeover ideas)। কিন্তু খরচের কথা ভেবে বেশিরভাগ সময়ই তা করা হয়ে ওঠে না। ফলে বহু সময়ই মেরে ফেলতে হয় মনের ইচ্ছাকে। কিন্তু আর নয়! আর ইচ্ছারা বেঘোরে প্রাণ দেবে না। বরং বাড়িকে সুন্দর করে তোলার প্রতিটি স্বপ্ন হবে পূরণ। কিন্তু তাই বলে ভেবো না খরচ হবে অনেক! বরং কম খরচেই হয়ে যাবে বাড়ির মেকওভার (how to make a house a home on a budget)। কীভাবে সম্ভব এমনটা? 


১. গ্রিন কর্নার:


home-1
কে বলে বাড়ির অন্দরমহলকে সুন্দর করে তুলতে অনেক টাকা খরচের প্রয়োজন পড়ে! এক্কেবারেই নয়! বরং কম খরচেই এমনটা করা সম্ভব। কীভাবে তাই ভাবছো তো? তাহলে প্রথমে একটা কাজ করো। বাড়ির যে দেওয়ালে ডিপ কালার করা হয়েছে তার ঠিক উল্টো দিকে ছোট ছোট গাছ এনে রাখা শুরু করো। এমনটা করলে বাড়ির অন্দরে সবুজের প্রাধান্য বাড়বে। ফলে বাড়বে সৌন্দর্যও। আর ১০-১২ টা ছোট ছোট পাতাবাহার গাছ কিনতে যে খুব একটা বেশি খরচ হবে না, তা তো বলাই বাহুল্য (budget home makeover)!


বাড়ির এই গ্রিন কর্নারের সৌন্দর্য আরও একটু বাড়িয়ে তুলতে গাছের গোড়ায় অল্প করে সাদা নুড়ি পাথর ছড়িয়ে দিতে পারো। এমনটা করলে দেখবে আরও বেশি সুন্দর লাগবে।


২. সফ্ট লাইটের ব্যবহার বেশি করে করো:


home-2
ইন্টিরিয়ার ডিজাইনারদের মতে সাদা উজ্জ্বল আলোর পরিবর্তে যদি সফ্ট আলো ব্যবহার করা যায়, তাহলে নাকি বাড়ির সৌন্দর্য অনেকাংশেই বৃদ্ধি পায়। এমনকি সফ্ট এলইডি লাইট বা হলুদ বাল্ব ব্যবহার করলেও কিন্তু একই এফেক্ট পাওয়া যায়। ইচ্ছা হলে বাল্বের কাঁচে হালকা রংও করে ফেলতে পারো, বিশেষত ম্যাট ফিনিশ রং করলে দেখবে বাড়ির প্রতিটি কোনা আরও মায়াবী এবং সুন্দর হয়ে উঠবে।


বাড়ির মেকঅভার করতে আরও একভাবে লাইটের ব্যবহার করতে পারো। আজকাল সাধারণ লাইটের পরবির্তে নানান অবয়বের আধুনিক সব লাইট পাওয়া যায়। পছন্দ মতো সেগুলির কোনওটা কিনে এনে বাড়ির ইতিউতি লাগাতে পারো। কারণ এমনটা করলেও দেখবে বাড়ির অন্দরমহলের লুক একেবারে বদলে যাবে।


৩. বাহারি কার্পেট:


home-3
নিমেষে লিভিং রুমের সৌন্দর্য বাড়াতে কার্পেটের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এক্ষেত্রে দেওয়ালের রং যদি হয় হলকা, তাহলে গাড় রঙের কার্পেট বা রাগ, লিভিং রুমের মধ্যিখানে রাখা কাঁচের টেবিলের নিচে রাখলে দেখবে রুমের চেহারাটাই বদলে যাবে। তবে এক্ষেত্রে একটা জিনিস খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন। তা হল, কার্পটে কিন্তু খুব ময়লা জমে। তাই সপ্তাহে একবার এটা পরিষ্কার করতেই হবে।


কার্পেট বিছানোর পাশাপাশি লিভিং রুমের এক কোনায় এয়ার ডিফিউসারও রাখতে পারো। এতে সারা ঘরে সারাক্ষণ সুন্দর একটা গন্ধ থাকবে। তাতে বাড়ির পরিবেশ যে আরও সুন্দর হয়ে উঠবে, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে। এক্ষেত্রে ল্যাভেন্ডার,জ্যাসমিন অথবা গোলাপের সুগন্ধিওয়ালা এয়ার ডিফিসার রাখলে বুদ্ধিমানের কাজ করবে।


৪. অ্যান্টিক শোপিস:


home-4
ঘর সাজাতে অ্যান্টিক শোপিসের বিকল্প হয় না বললেই চলে। বিশেষত লিভিং রুমের এক কোনে একটা বুদ্ধের মূর্তি অথবা ড্রয়িং রুমে একটা অ্যান্টিক ঘড়ি রাখলে ঘরের শোভা যে বহু গুণে বেড়ে যায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে! তাই তো বাড়ির মেকঅভার করতে ইচ্ছা মতো নানা ধরনের শোপিস ব্যবহার করতে পারো। এইভাবে ধীরে ধীরে বাড়ির প্রতিটি ঘরকে সাজিয়ে তুললে গৃহস্থের প্রতিটি কোনার সৌন্দর্য যে বাড়বে, তা তো বলাই বাহুল্য!


বেশ কিছু অ্যান্টিক শোপিসের দাম অনেক। তাই খুঁজে খুজে এমন দোকান থেকে শোপিস কিনতে হবে যেখানে দাম একটু কম পড়বে। এক্ষেত্রে মানিকতলা, লিন্ডসে স্ট্রিট অথবা নিউ মার্কেটে একবার ঢুঁ মারতে পারো। তবে ইচ্ছা হলে সেকেন্ড হ্যান্ড শপ থেকেও অ্যান্টিক আইটেম কেনা যেতে পারে। তাতে কম খরচে ঘর সাজিয়ে তুলতে পারবে বৈকি!


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!