গরমে তেষ্টা মেটাতে চলে যান কলকাতার এই বিখ্যাত শরবতের দোকানগুলোয় (Sharbat shops)

গরমে তেষ্টা মেটাতে চলে যান কলকাতার এই বিখ্যাত শরবতের দোকানগুলোয় (Sharbat shops)

গরম (Summer) মানেই তেষ্টা। বারবার জল খেয়েও যেন তেষ্টা মেটে না। আর রাস্তায় বেরোলে তো কথাই নেই! শুধু জলে হয় নাকি! আর কোনও খাবারও তো এই সময়টায় জাস্ট খেতে ভাল লাগে না। শুধু চাই ডাবের জল, শরবত (Sharbat), লস্যি (Lassi), ঘোল এই সব। তেষ্টা তো মেটেই! খিদেও খানিক মেটে। আর শরীরও ঠান্ডা থাকে। নানা রকম ফলের লস্যি (Lassi) অথবা শরবত (Sharbat) বা দইয়ের ঘোল- এ সব তো দারুণ হেলদি। তাই এই রোদের তাপে পুড়ে বাইরে বেরোনোর আগে জেনে নিতে হবে তো যে কোথায় কোন দোকানে (Sharbat shops) দারুণ শরবত (Sharbat) অথবা লস্যি (Lassi) পাওয়া যায়।


প্যারামাউন্ট


daab sharbat


কলেজ স্ট্রিটের এই বিখ্যাত দোকানকে (Sharbat shops) তো শরবতের স্বর্গ বলা যেতেই পারে! কারণ এই দোকানের শরবত (Sharbat) আর সিরাপের রেসিপি একেবারেই নিজস্ব! প্রায় ১০০ বছরের পুরনো কলকাতার (Kolkata) এই শরবতের দোকানের (Sharbat shops) সঙ্গে শহরের ঐতিহ্যও জড়িত। কলকাতা পুরসভাও এই দোকানকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছে। আর এই দোকানের (Sharbat shops) অ্যাম্বিয়েন্সও আপনাকে সেই পুরনো কলকাতায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। কড়ি-বরগার ছাদ, মার্বেলের পুরনো টেবিল, সরু বেঞ্চ, কাচের ফ্রেমে বাঁধানো মনীষীদের ছবি- এই দোকানের আলাদা আকর্ষণ। যা এখনও বাঙালি নস্ট্যালজিয়ার সঙ্গে জড়িত। শুধু কি তা-ই, বিভিন্ন সময় এই দোকানে পায়ের ধুলো পড়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, কাজী নজরুল ইসলাম, শিবরাম চক্রবর্তী, সত্যজিৎ রায়, উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেনের মতো ব্যক্তিত্বদেরও। এখানকার ডাবের শরবত (Sharbat) খুবই নামকরা। ডাবের জল, শাঁস, সিরাপ ও বরফ দিয়ে তৈরি এই পানীয় তেষ্টা মেটাতে অতুলনীয়। তা ছাড়াও রয়েছে গ্রিন ম্যাঙ্গো, ক্রিম ভ্যানিলা, কোকো মালাই, রোজ মালাই, প্যাশন ফ্রুট, গ্রেপ ক্রাশ, স্ট্রবেরি মালাই। লিস্টটা বড় হতেই থাকবে। শেষ আর হবে না। আগে এই দোকান (Sharbat shops) শীত কালে বন্ধ থাকলেও চাহিদার জন্য এখন সারা বছরই খোলা থাকে। এখানে গেলেই চোখে পড়বে কলেজ পড়ুয়াদের ভিড়।


ঠিকানা- ১/১/১ডি, বঙ্কিম চ্যাটার্জী স্ট্রিট, কলেজ স্কোয়ার, কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা


খরচ- ৩৫০ টাকার আশপাশে (২ জনের)


শিব আশ্রম


shiv assram lassi


শহরের (Kolkata) অন্যতম বিখ্যাত সরবত (Sharbat), লস্যি (Lassi), ঠান্ডাইয়ের দোকান। গরমে (summer) বেরিয়ে এখানে এসে গলা ভেজাতেই পারেন। হরেক ফ্লেভারের লস্যি (Lassi), ঠান্ডাই, মিল্কশেক পেয়ে যাবেন এখানে। আর দামও খুব বেশি না। বিশেষ করে কলেজ পড়ুয়াদের জন্য দারুণ। কেসর ঠান্ডাই, কেসর-বাদাম, মিল্ক রাইপ ম্যাঙ্গো, মিল্ক গ্রিন ম্যাঙ্গো, রোজ লস্যি, গ্রিন ম্যাঙ্গো লস্যি, রাইপ ম্যাঙ্গো লস্যি এখানে চেখে দেখতে পারেন। আরও নানা রকমের লস্যি আর মিল্ক শেক পেয়ে যাবেন।


ঠিকানা- ১৬৮, বিধান সরণি, হাতিবাগান, কলকাতা


খরচ- ২০০ টাকার আশপাশে (২ জনের)


কেসি দাশ মোড়, এসপ্ল্যানেড


ango lassi


হামেশাই এসপ্ল্যানেড চত্বরে আসা হয়। সে কাজের সূত্রেই হোক আর সঙ্গীর অথবা বন্ধুদের সঙ্গেই হোক। আর এই গরমে এলে তো কথাই নেই। অবশ্যই ট্রাই করবেন কেসি দাশ মোড়ের লস্যি। ম্যাঙ্গো লস্যিটার কথা ভুলবেন না কিন্তু! খুবই কম দামে সুস্বাদু লস্যি আপনার শরীরকে ঠান্ডাও করবে আর সুস্থও রাখবে। 


খরচ- ম্যাঙ্গো লস্যি মাত্র ৩০ টাকা


 


বলবন্ত সিংয়ের দুধ কোলা


doodh cola


বলবন্ত সিং ইটিং হাউজের বিখ্যাত পানীয় দুধ কোলা। আপনি কি কোল্ড ড্রিঙ্ক পছন্দ করেন, তা হলে তো আপনার জন্য এই পানীয় দারুণ। দুধের সঙ্গে থাম্বস আপ মিশিয়ে তার মধ্যে বরফ দিয়ে সার্ভ করা হয় দুধ কোলা। আর তা সার্ভ করা হয় মাটির ভাঁড়ে। ১৯৮০ সালে প্রথম এখানেই তৈরি হয়েছিল এই পানীয়। তার পর অন্যান্য পানীয় অথবা শরবতের দোকান (Sharbat shops) এটা ট্রাই করলেও বলবন্ত সিংয়ের মতো  দুধ কোলা বানাতে পারেনি।


ঠিকানা- ১০/বি হরিশ মুখার্জী রোড, এলগিন রোড গুরুদ্বারের কাছে, ভবানীপুর, কলকাতা


খরচ- ১২০ টাকা প্রতি লিটার (দুধ কোলা লিটার হিসেবে বিক্রি হয়)


ছবি সৌজন্যে: ইনস্টাগ্রাম


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি এবং বাংলাতেও!