স্নানের জলে এই ১০টি উপাদান মিশিয়ে বাড়িয়ে তুলুন ত্বকের জেল্লা

স্নানের জলে এই ১০টি উপাদান মিশিয়ে বাড়িয়ে তুলুন ত্বকের জেল্লা

গরমকালে তরতাজা থাকতে স্নানের জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু আমরা যদি বলি, স্নান আপনার ত্বকের জেল্লাও বাড়িয়ে দিতে পারে শতগুণে? বিশ্বাস না হলে স্নানের জলে (bath) এবার থেকে মেশান এই সব উপাদানগুলি (10 Bath Ingredients For Soft Skin)। দেখবেন, রোগ তো দূরে পালাবেই, সঙ্গে ত্বকের জেল্লাও বাড়বে ষোলো আনা!


১. সৈন্ধব লবণ


b-1-final
এক বালতি জলে এক মুঠো সৈন্ধব লবণ মিশিয়ে দু'-একমিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর স্নান সেরে ফেলুন সেই জল দিয়ে। সৈন্ধব লবণে আছে ম্যাগনেসিয়াম। তাই নিয়মিত এমন লবণ মেশানো জলে স্নান করলে পেশির ব্যথা তো কমবেই, সঙ্গে-সঙ্গে ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের জেল্লাও শতগুণ বাড়িয়ে দেবে (relaxing bath recipes)।


২. আদা


b-2
আদা-স্নান! শুনতে অবাক লাগলেও, শরীরের ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করতে আধ-কাপ আদাকুচি বা এক টেবিলচামচ আদার গুঁড়ো (natural ingredients) স্নানের জলে মিশিয়ে নিন। ১৫-২০ মিনিট পর সেই জলে স্নান করুন। প্রতিদিন এই আদা-স্নান করলে শরীরের ক্ষতিকারক টক্সিন ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাবে। তবে মনে রাখবেন, আদা-স্নানের পর অন্তত ঘণ্টাখানেক আপনি দরদরিয়ে ঘামবেন। কাজেই স্নানের সময় সেভাবে ঠিক করুন।


৩. এসেনশিয়াল অয়েল:


b-3
কিছু এসেনসিশাল অয়েল, যেমন, গোলাপ, চন্দন, ল্যাভেন্ডার এবং ক্যামোমিল ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। এমনকী, এই সব তেল ঘামের দুর্গন্ধও দূর করে। তাই তো গরমকালে স্নানের জলে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল তেল মিশিয়ে স্নান করলে উপকার তো মেলেই, তার উপর আপনিও থাকবেন ন্যাচারালি সুরভিত (moisturizing bath recipe)!


৪. ওটস:


b-4
জানেন কি, চুলকানি এবং ত্বকের লাল ভাব কমাতে ওটস মিলের কোনও বিকল্প নেই? ত্বকের পোড়া ভাব দূর করতেও ওটস আপনাকে সাহায্য় করতে পারে। কিন্তু ওটস বাথ নেওয়ারও কায়দা আছে। এক কাপ ওটস (প্লেন, ফ্লেভারড নয়) নিয়ে এক্কেবারে মিহি করে গুঁড়ো করে নিন। তারপর এক বালতি জলে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে স্নান সেরে নিন সেই জল দিয়ে। ওটসে আছে ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক এবং সেলেনিয়ামের মতো খনিজ, যা ত্বকের যত্নে নানাভাবে কাজে আসে।


৫. নারকেল তেল


b-5
অল্প সময়েই ত্বকের জেল্লা (skin care) বাড়ুক, এমনটা যদি চান, তা হলে এক বালতি জলে এক টেবিল চামচ নারকেল তেল মিশিয়ে নিয়মিত স্নান করুন। এই তেলে আছে নানা অ্যান্টি-মাইক্রোব্য়াকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান, যা ত্বককে বিভিন্ন সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়। সেই সঙ্গে ত্বককে আর্দ্র রাখতেও সাহায্য করে।


৬. দুধ


b-6
মিশরের রানি ক্লিওপেট্রা নাকি ত্বকের জেল্লা বাড়াতে নিয়মিত গাধার দুধে স্নান করতেন! আসলে দুধের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের উপরে জমে থাকা মৃত কোষের আবরণ সরাতে সাহায্য় করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ত্বকের জেল্লা বাড়ে। তাই অনেক ত্বক বিশেষজ্ঞ সপ্তাহে তিন-চার দিন দুধ দিয়ে স্নান করার পরামর্শ দেন। সেটা সম্ভব না হলে এক বালতি জলে দু'-তিন কাপ দুধ মিশিয়ে সেই জলেও স্নান করা যেতে পারে।


৭. চা


b-7
একদম ঠিক শুনেছেন! ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে সত্যিই চায়ের কোনও বিকল্প নেই। স্নানের জলের বালতিতে কয়েকটা টি-ব্যাগ কিছুক্ষণ ফেলে রাখুন। যখন দেখবেন জলের রং বদলে গেছে, তখন সেই জলে স্নান করুন। সাধারণ চায়ের বদলে গ্রিন টি অথবা ক্যামোমিল টি ব্যবহার করলে কিন্তু আরও বেশি উপকার মিলবে।


৮. মধু


b-8
ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে যেমন মধুর কোনও বিকল্প নেই, তেমনই এই প্রাকৃতিক উপাদানটির অ্যান্টি-এজিং এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ স্কিনের সৌন্দর্য বাড়ায় এবং নানা ধরনের রোগকে দূরে রাখে। তাই স্নানের জলে নিয়মিত কয়েক চামচ মধু মিশিয়ে নিন।


৯. বেকিং সোডা


b-9
এক বালতি জলে দু'-তিন চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে যদি নিয়মিত স্নান করা যায়, তা হলে ত্বকের সৌন্দর্য তো বাড়েই, সেই সঙ্গে ব্রণর প্রকোপও কমে।


১০. গোলাপ জল


b-10
গরমকালে ত্বকে সংক্রমণের প্রকোপ বাড়াটা স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে চুলকানি বা ঘামাচি তো রয়েছেই। এই সব রোগকে দূরে রাখে গোলাপ জল। সেই সঙ্গে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করে এবং ত্বকের জেল্লাও বাড়ায়। এক কাপ দুধে গোলাপের পাপড়ি বা কয়েক চামচ গোলাপ জল মিশিয়ে যদি স্নান করতে পারেন, তা হলে তো কথাই নেই। আর যদি তেমনটা সম্ভব না হয়, তা হলে স্নানের জলে কয়েক চামচ গোলাপ জল মেশালেই চলবে।


ব্যস, আর দেরি কীসের? এই গরমে স্নানটিকে এবার করে তুলুন আরও স্পেশ্যাল!


ছবির কৃতজ্ঞতা স্বীকার: wikipedia


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!