বিয়ের সময় প্রথা ভেঙে নজির গড়লেন এই পাঁচজন স্বয়ংসিদ্ধা কনে!

বিয়ের সময় প্রথা ভেঙে নজির গড়লেন এই পাঁচজন স্বয়ংসিদ্ধা কনে!

মেয়ে জন্মালেই বাবা-মায়ের প্রথম চিন্তা হয় যে তাকে কী করে পাত্রস্থ করা যায়! না, তার পড়াশোনা নয়, তার কেরিয়ার নয়, বিয়ের চিন্তাই প্রধান হয়ে দাঁড়ায়! মেয়ে তো, পণ দিতে হবে। মেয়ের বাড়িতে বর আসবে, আর মেয়ে কনে সেজে লাল টুকটুকে বেনারসি আর এক গা গয়না পরে বসে থাকবে এটাই তো প্রথা। কিন্তু ভারতীয় মেয়েরা যেমন ফুলের মতো নরম, তেমনই সময়বিশেষে বজ্রের মতো কঠিন। তাই তাঁরা যেমন প্রথা (Stereotypes) মানতেও জানে, তেমনই প্রথা ভাঙতেও জানে। আমরা খুঁজে বের করেছি এরকম পাঁচজন ভারতীয় (Indian) কনেকে (Brides) যাঁরা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, “আমরাও পারি।”


১) বিয়ের পোশাকেই পরীক্ষায় বসলেন কনে!


badass 1


Image Source The Times Of India 


শিক্ষার চেয়ে বড় কিছু হয় না। এমনকী নিজের বিয়েও নয়। কর্ণাটকের এই কনে সেটাই প্রমাণ করেছেন। দেখা গেল, তাঁর বিয়ে আর পরীক্ষা একই দিনে পড়েছে। বিয়ের নিয়মকানুন সেরেই তিনি পরীক্ষার হলে গেলেন গয়না আর শাড়ি পরেই। পরীক্ষা শেষ করে তবেই বাড়ি ফিরে বাকি বিয়ে সম্পূর্ণ করেছেন এই কনে। আর তাঁর বর তখন কী করছিলেন? নাঃ, কিছুটা ক্রেডিট তারও প্রাপ্য। কারণ, হবু স্ত্রী যখন পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, বর বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন, কখন তাঁর পরীক্ষা শেষ হবে আর তাঁদের চার হাত এক হবে!


২) বিয়ের উপহার হিসেবে গাছের চারা চাইলেন কনে!


badass 2


Image Source Off Grid Quest 


বিয়ের নিমন্ত্রণ এলেই আমরা ভাবি যে, কীরকম উপহার পেলে কনে খুশি হবে! গয়না না শাড়ি, সাজগোজের জিনিস নাকি অন্য কিছু, এই নিয়ে চর্চা চলতেই থাকে। তবে মধ্যপ্রদেশের এই কনে সোনার গয়নার পরিবর্তে চাইলেন এক লক্ষ গাছের চারা! অবাক হলেন তাঁর বাবা মা, অবাক হলেন তাঁর শ্বশুর আর শাশুড়িও। অবশ্য একটু গর্বও হল এমন মেয়ের জন্য। স্নাতক এই কন্যে ছোটবেলা থেকে তাঁর কৃষক বাবাকে দেখেছেন কতই না কষ্ট করতে। তাই এই অভিনব উদ্যোগ। সত্যিই প্রশংসা করার মতো, তাই না?


৩) কন্যাদান বাদ দিয়ে বাবা নয়, মায়ের নামেই পরিচিত হলেন মেয়ে


badass 3


Image Source Twitter 


কলকাতার এই মেয়ে যেন অনন্যা! একের পর এক নিয়ম ভেঙে তিনি প্রমাণ করেছেন ইচ্ছে থাকলে সবই সম্ভব! তাঁর বিয়েতে কোনও কন্যাদান হয়নি। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, সত্যিই হয়নি কোনও কন্যাদান। উপরন্তু এই বিয়ে দিয়েছেন মহিলা পণ্ডিতেরা! এখানেই শেষ নয়, বাবার নামে নয়, কনের পরিচয় দেওয়া হয়েছিল তাঁর মায়ের নাম দিয়ে। নাঃ, এঁকে কুর্নিশ না জানিয়ে উপায় নেই।


৪) বাবার বদলে মা করলেন কন্যাদান!


badass 4


Image Source Stories by Varun Suresh On Instagram


আমাদের ভারতীয় সমাজ মেয়েদের হাতে অনেক অধিকারই দেয়নি। নিজের সন্তানের কন্যাদানের অধিকার মায়েদের নেই। অথচ চেন্নাইয়ের এই কনে সেই প্রথা ভেঙে নজির গড়েছেন। তার মা একজন সিঙ্গল মাদার। আর তাই বাবার উপস্থিতি ছাড়াই মা তাঁর কন্যাদানও করেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কনে তাঁর মায়ের কোলে বসে আছেন। এই ছবি মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকী, টুইটারে প্রশংসা করেছিলেন শশী তারুরও।


৫) কনকাঞ্জলি দেব না, জোর গলায় বলল কনে!


এই কনেকে সব দিক থেকে 'বাংলার বাঘিনী' বলা চলে। ইনি দাপটের সঙ্গে বলেছিলেন, "আমি কনকাঞ্জলি দেব না।" কনকাঞ্জলি আসলে এমন একটি প্রথা, যার দ্বারা বাবা-মায়ের এতদিনের ঋণ শোধ করা হয়। আচ্ছা, এমনটা কি সত্যিই সম্ভব? একদম নয়! আর কাঁদতে কাঁদতে নয়, মুখে চওড়া হাসি নিয়েই শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল এই কনে আর যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিল, যখন খুশি বাপের বাড়ি আসার অধিকার আছে আমার! কাঁদব ক


এই কনেকে সব দিক থেকে 'বাংলার বাঘিনী' বলা চলে। ইনি দাপটের সঙ্গে বলেছিলেন, "আমি কনকাঞ্জলি দেব না।" কনকাঞ্জলি আসলে এমন একটি প্রথা, যার দ্বারা বাবা-মায়ের এতদিনের ঋণ শোধ করা হয়। আচ্ছা, এমনটা কি সত্যিই সম্ভব? একদম নয়! আর কাঁদতে কাঁদতে নয়, মুখে চওড়া হাসি নিয়েই শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিল এই কনে আর যাওয়ার আগে বলে গিয়েছিল, যখন খুশি বাপের বাড়ি আসার অধিকার আছে আমার! কাঁদব কেন শুনি?


দেখেছেন তো, মেয়েরা কীভাবে এগিয়ে এসে এসব শ্যাওলা ধরা প্রথা ভেঙে নজির গড়ছেন? আর এখানেই তো শিক্ষা আর সঠিকভাবে বড় হওয়ার জয়। সত্যের পথে, আদর্শের পথে থেকেও নিয়ম ভাঙা যায় সেটাই প্রমাণ করেছেন এঁরা।   


 


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!