চটপট ওজন কমাতে চান? তা হলে মধু আর দারচিনি একসঙ্গে মিশিয়ে খান!

চটপট ওজন কমাতে চান? তা হলে মধু আর দারচিনি একসঙ্গে মিশিয়ে খান!

শরীরকে চাঙ্গা রাখতে মধুর কোনও বিকল্প নেই। আর তার সঙ্গে যদি দারচিনি মেশানো যায়, তা হলে তো কথাই নেই! কারণ, এই দুই প্রাকৃতিক উপাদান একে অপরের সঙ্গে মিশে গেলে তৈরি হয় এমন এক অস্ত্র, যার আঘাতে ছোট-বড় সব রোগই দূরে পালায়! ভাবছেন, কী এমন আছে মধু আর দারচিনিতে, যে এত উপকারে লাগে? মধুতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, আয়রন এবং ফাইবার। অন্যদিকে দারচিনিতে মজুত রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ। এবার বুঝতেই পারছেন, এত সব উপকারী ভিটামিন এবং মিনারেল যখন একসঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে, তখন একাধিক উপকার পওয়া যায়। কী-কী উপকার মেলে? জেনে নিন আমাদের কাছ থেকে।

মধু-দারচিনির যুগলবন্দিতে যে-যে উপকার পাওয়া যায়

১. রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আর শক্তিশালী হয়

নিয়মিত মধুর (Honey) সঙ্গে দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে শরীরে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা বাড়ে, যে কারণে দেহের ইমিউনিটি এতটাই বেড়ে যায় যে বাঘা-বাঘা রোগের পক্ষেও ধারেকাছে ঘেঁষা সম্ভব হয় না। সঙ্গে সংক্রমণের আশঙ্কা কমে। এমনকী, সিজন চেঞ্জের সময় বারে বারে সর্দি-কাশি আর জ্বরের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কাও আর থাকে না।

২. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে

বাবা-কাকার কি ডায়াবেটিস রয়েছে? তা হলে তো পঁচিশ পেরনো মাত্রই সাবধান হতে হবে। না হলে যে এই মারণ রোগ পিছু নিতে পারে আপনারও। কীভাবে সাবধান হবেন, তাই ভাবছেন? নিয়মিত মধু আর দারচিনি খাওয়া শুরু করুন, তাতে শরীরের ভিতরে flavonoids নামে একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, যা সুগার লেভেল এমন ভাবে বেঁধে রাখবে যে, শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার সুযোগই পাবে না।

৩. ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগকে দূরে রাখে

গত কয়েক বছরে আমাদের গেশে যে হারে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে, তাতে এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদানের উপর ভরসা না রাখলেই নয়! কারণ, মধু এবং দারচিনিতে (Cinnamon) রয়েছে প্রচুর মাত্রা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ক্ষতিকরক টক্সিক উপাদানগুলিকে খতম করে দেয়। ফলে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা কমে। দারচিনিতে উপস্থিত নানা অ্যান্টি-টিউমার উপাদানের কারণে শরীরের কোথাও টিউমার দেখা হওয়ার আশঙ্কাও আর থাকে না।

৪. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

নিয়মিত মধুর সঙ্গে দারচিনি মিশিয়ে খেলে হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ নিয়ম মেনে হয়। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না। সেই সঙ্গে পেটের ব্যথা এবং ব্লাডার ইনফেকশনের মতো সমস্যার প্রকোপও কমে। তাই তো বলি, এই গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে এই দুই প্রাকৃতিক উপাদানের উপর ভরসা রাখতেই পারেন।

৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে

অতিরিক্ত ওজনের কারণে যাঁরা চিন্তায় রয়েছেন, তাঁরা নিয়মিত ঘুম থেকে ওঠা মাত্র এক গ্লাস গরম জলে দু'চামচ মধু এবং দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। সঙ্গে চলুক এক্সারসাইজ এবং ডায়েটিং, তা হলেই দেখবেন ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগবে না। মধু এবং দারচিনিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা দেহের 'ফ্যাট বার্নিং' প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। ফলে অল্প দিনেই শরীরের ইতি-উতি জমে থাকা মেদ ঝরে যায়।

৬. হার্টের ক্ষমতা বাড়ে

মধু এবং দারচিনিতে উপস্থিত নানা উপকারী উপাদান রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে atherosclerosis-এর মতো রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজও দূরে থাকতে বাধ্য হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত এক দশকে এদেশের মহিলা নাগরিকদের মধ্যে যে ভাবে হার্টের রোগের প্রকোপ বেড়েছে, তাতে আট থেকে আশি, প্রত্যেকেরই যে মধু এবং দারচিনি খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

কীভাবে খেতে হবে মধু এবং দারচিনি?

পেক্সেলস

এক কাপ গরম জলে দুটো দারচিনি স্টিক ভিজিয়ে রাখতে হবে। যখন দেখবেন জলের রং বদলে গেছে, তখন তাতে দেড় চামচ মধু মিশিয়ে সেই মিশ্রণ, রাতে শুতে যাওয়ার আগে অর্ধেক কাপ খেতে হবে। আর সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে বাকি অর্ধেকটা পান করতে হবে। এই নিয়ম মানলে দেখবেন শরীর বাবাজিকে নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না!

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!