প্রযুক্তির কারণে দূরত্ব তো কমছে, কিন্তু ভেঙে যাচ্ছে সম্পর্কও

প্রযুক্তির কারণে দূরত্ব তো কমছে, কিন্তু ভেঙে যাচ্ছে  সম্পর্কও

একই ছাদের তলায় রয়েছেন দু'জন। খাচ্ছেন একসঙ্গে, ঘুমোতেও যাচ্ছেন একই সঙ্গে। কিন্তু মুখোমুখি বসে কথা হচ্ছে মাত্র মিনিটদশেক। ব্যস্ততার কারণে যে এমন হাল, তা নয়! তা হলে? এমন পরিস্থিতির পিছনে দায়ী আমাদের ফোন। খেয়াল করে দেখুন, এক মুহূর্তও আমরা ফোন ছাড়া বাঁচতে পারি না! এমনও অনেকে রয়েছেন যাঁরা বাথরুমেও যান ফোনকে সঙ্গী করে, পাছে কোনও নোটিফিকেশন মিস হয়ে যায়! এই ভাবেই তো ফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাচ্ছে ভালবাসার মানুষেরা! এক অপরের কাছে থেকেও গভীরতা খুঁজে পাচ্ছে না প্রেমের সম্পর্ক (Relationship)। তাই তো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে একের পর এক প্রেমের ইমারত। কীভাবেই বা গভীরতা খুঁজে পাবে প্রেম? স্বামী এক ঘরে বসে ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট লাইক করার রেসে ছুটছে, তো অন্য ঘরে স্ত্রী ব্যস্ত হোয়াটসঅ্যাপের স্টেটাস বদলাতে। দিনের শেষে একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার চেয়েও যে বেশি জরুরি হয়ে দাঁড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্টেটাস বদলানো! ফলে দূরত্ব বাড়ছে জীবনসঙ্গীদের মাঝে।

প্রযুক্তির (Technology) কারণে যে সত্যিই বৈবাহিক সম্পর্কে চিড় ধরছে, তার প্রমাণ মিলেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এক গবেষণাতেও। তাতে দেখা গেছে, যেসব দম্পতি বেশিরভাগ সময়ই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে যায়! এখানেই শেষ নয়, আরও নানা ভাবে প্রযুক্তি বা মোবাইল ফোন, প্রেমের সম্পর্কের মাঝে দেওয়াল তুলছে। কীভাবে তা জানেন?

১. হুটহাট মেসেজ করার কারণে বাড়ছে ঝগড়ার ঝাঁজ

pixabay

পার্টনারের কোনও কথায় মাথা গরম করে আলপটকা মেসেজ করে ফেলার অভ্যাস আমাদের সকলেরই রয়েছে। এমন মেসেজের কারণে পরিস্থিতি যে হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়, সে খেয়াল তখন কারও মাথাতেই থাকে না। মেসেজের পাল্টা মেসেজে ঝগড়ার ঝাঁজ আরও বাড়তে থাকে। কথায়-কথায় এত সব খারাপ কথা লিখে ফেলা হয় যে কোনও-কোনও সময় সম্পর্কে ছেদ পড়তেও সময় লাগে না! তাই তো সাবধান হওয়াটা জরুরি। কোনও কারণে মাথা গরম হলে সঙ্গে-সঙ্গে মেসেজ করাটা উচিত নয়। বরং একটু শান্ত হন। মাথাটা ঠান্ডা হলে মেসেজ নয়, বরং ফোন করে কথা বলুন। ফোন করতে কেন বলছি জানেন? মেসেজে কী লিখেছেন, তা অন্য কারও পক্ষে ঠিকমতো বুঝে ওঠা অনেক সময়ই সম্ভব হয় না। তাতে ভুল বোঝাবুঝি বাড়তে পারে। তাই ঝগড়ার সময় মেসেজে নয়, বরং সামনি-সামনি কথা বলুন। সে সুযোগ না থাকলে ফোন করে মনের ভাব উজাড় করে দিন। দেখবেন, তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে ঘোরার আশঙ্কা কমবে।

২. অচেনাই থেকে যান ভালবাসার মানুষটি!

সারাক্ষণ ফোন নিয়ে খুটকুট করলে স্বামী-স্ত্রী কথা বলবেন কখন? কথা কম হলে একে-অপরকে চিনতেও সময় লাগবে। ফলে দুর্বল হবে সম্পর্কের ভিত। এই কারণেই তো আজকাল এত অল্পতেই চিড় ধরছে সম্পর্কে। তাই এমন বদ অভ্যাস ছাড়ুন। কাজের বাইরে একটা নির্দিষ্ট সময়ে ফোন ব্যবহার করুন। বাকি সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটান। রাতে ঘুমতে যাওয়ার আগেও ফোনের ব্যবহার বন্ধ রেখে পার্টনারের সঙ্গে চুটিয়ে গল্প করুন। তাঁর সারা দিনটা কেমন গেল, সে সম্পর্কে খোঁজ নিন। স্বামীকেও একই নিয়ম মেনে চলতে অনুরোধ করুন। ফেসবুকে একে অপরের ছবিতে 'লাইক' না করে বাস্তব জীবনে চুটিয়ে ভালবাসুন। দেখবেন, আপনাদের সম্পর্ক এতটাই সুন্দর এবং মজবুত হয়ে উঠবে যে হাজার ঝড়-ঝপটার পরেও একে-অপরের হাত ছাড়তে মন চাইবে না!

৩. ভুল বোঝাবুঝির কারণে জটিলতা বাড়তে পারে

pixabay

সম্পর্কের কথা সক্কলকে জানাতে কার না ইচ্ছে করে। কিন্তু তাই বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাইক নিয়ে বেরিয়ে পরলে ভীষণ বিপদ! কারণ, যত লোক জানবে, তত মতামত দেবে। আর নানা মুনির নানা মত শুনতে-শুনতে একদিন না-একদিন আপনার মাথাটা গরম হবেই। আর নিজের অজান্তেই সেই রাগ গিয়ে পড়বে পার্টনারের উপরে। ফলে ঝাগড়াঝাঁটি আর ভুল বোঝাবুঝির চক্করে সম্পর্কটাই লাটে উঠবে। তাই শুরুর দিনগুলিতে ভালবাসাকে আগলে রাখুন। যখন বুঝবেন সম্পর্কের ভিত শক্ত হয়েছে, তখন না হয় ঢাক-ঢোল পেটাবেন!

৪. অভিমান জমে পাহাড় হতে সময় লাগে না

দিনটা একেবারে ভাল যায়নি। মন-মেজাজও তাই খুব খারাপ। ভাবছেন, বাড়ি ফিরে পার্টনারের সঙ্গে একটু গল্প করলে মনটা হয়তো একটু চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এদিকে বাড়ি ফিরে যতবারই কথা বলতে চাইছেন, প্রতিবারই সে ফোন নিয়ে ব্যস্ত। এমনটা দিনের পর দিন হতে থাকলে অভিমান তো হবেই। আর সেই অভিমান জমতে-জমতে যদি পাহাড় হয়ে যায়, তখন শত চেষ্টা করেও কিন্তু কোনও লাভ হবে না।

তাই তো টুইটার-ইনস্টাগ্রামে শুধু 'ফলো' না করে প্রকৃত জীবনেও একে-অপরের পাশে থাকার চেষ্টা করুন। মনের চাহিদা বুঝে ভালবাসুন। আর দয়া করে প্রযুক্তিকে সুযোগ করে দেবেন না আপনাদের মাঝে আসার। তাই বলে যে ফোন ব্যবহার করবেন না, তা নয়। দু'জনে অফিস থেকে ফিরে একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটান। চুটিয়ে গল্প করুন। তারপরে না হয় সময়-সুযোগ পেলে একসঙ্গে ফোন ঘাঁটবেন। তাতে একে-অপরকে সময় না দেওয়ার মতো অভিমান যেমন জমবে না, তেমনই ফোনও ব্যবহারের সুযোগও মিলবে। মোট কথা ফোন ব্যবহার করুন। কিন্তু সেটা নেশার পর্যায়ে গেলে কিন্তু বিপদ!

মূল ছবি সৌজন্য: পিক্সাবে

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!