জামাই ষষ্ঠীর প্রস্তুতির জন্য শেষ মূহূর্তের চেকলিস্ট: শাশুড়ি মা ও মেয়ে, মিলিয়ে নিন!

জামাই ষষ্ঠীর প্রস্তুতির জন্য শেষ মূহূর্তের চেকলিস্ট: শাশুড়ি মা ও মেয়ে, মিলিয়ে নিন!

এই দেখুন, শিরোনাম পড়েই নিশ্চয়ই ভাবছেন যে, একদিনের তো অনুষ্ঠান, পাত পেড়ে খাওয়া, নতুন জামাকাপড়ের আদারপ্রদান, একটু গল্পগাছা আর দিনের শেষে মেয়ে-জামাই ফিরে গেলে সেই পুনর্মূষিক ভব... এতে আবার চেকলিস্টের কী আছে! আজকাল সবেতেই বড্ড বাড়াবাড়ি!


তা বটে, যে-কোনও বিষয়কে ছোট ভাবলে ছোট, আবার বড় করে ভাবলেই বড়! এই জামাই ষষ্ঠী (Jamai Sashthi) ব্যাপারটাও তো তাই হয়েছে! প্রথমে মেয়ে, তারপর মেয়ে-জামাই, তারপর মেয়ে-জামাই-শ্বশুর-শাশুড়ি, তারপর নতুন জামা, জামাই ষষ্ঠীর সাজ, জামাই ষষ্ঠী স্পেশ্যাল মেনু, কোথায় লাঞ্চ, কোথায় ডিনার, ব্রেকফাস্ট থেকেই শুরু কিনা, কী উপহার...তারপর তো এবার আবার শনিবার পড়েছে জামাই ষষ্ঠী! ফলে পাঁঠার দোকানে আজ সকাল থেকেই লাইন! বাজারের থলি হাতে নাজেহাল অবস্থা শ্বশুরমশাইয়ের! শাশুড়ি মা তো তাঁর ফর্দ দিয়েই খালাস, বাজার থেকে এক-একটি জিনিস নিয়ে আসতে এই রোদ-বৃষ্টিতে গলদঘর্ম হচ্ছেন তিনি! তাই আমরা নিয়ে এসেছি এমন একটি চেকলিস্ট (Checklist), যা এবারের জামাই ষষ্ঠীকে অনেকটাই আলাদা করে দেবে!


শাশুড়ি মায়ের চেকলিস্ট 


১. ঘর পরিষ্কার করুন। আমরা সাধারণতই রান্নায় বেশি মন দিই, ঘরের দিকে নয়। মেয়ে-জামাইয়ের ঘরে ভাল বেডকভার পেতে দিন। পর্দা, কুশন কভার পাল্টান। বাথরুমে হ্যান্ডওয়াশ আছে কিনা, পরিষ্কার হাত মোছার তোয়ালে আছে কিনা, রুম ফ্রেশনার আছে কিনা, চেক করে নিন। এগুলো ছোট্ট জিনিস, কিন্তু পরিপাটি করে জামাই আদর করতে গেলে এগুলো করা চাই-ই!


jamai sashthi 1


২. মেনু ঠিক করুন মেয়ের সঙ্গে কথা বলে! আপনি সদ্য-সদ্য ডাব চিংড়ি বানাতে শিখেছেন বলে জামাইকে ধরেবেঁধে সেটা খাওয়াতেই হবে, এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি। যে রান্না আপনি বরাবর রাঁধতে স্বচ্ছন্দ আর যেটা জামাইও খেতে ভালবাসেন, সেগুলোই মেনুতে রাখুন। নতুন কোনও পদ খাওয়াতে চাইলে সারা বছর মেলা দিন পড়ে আছে!


৩. মেয়ে-জামাই এলে দয়া করে তাঁদের বাজার থেকে কেনা ঠান্ডা পানীয় পরিবেশন করবেন না! নিজের হাতের ছোঁওয়া দিন। আমপোড়ার সরবত, নানা রকমের মকটেল পরিবেশন করতে পারেন। তাতে তেষ্টাও মিটবে, আবার আপনার চেষ্টাটাও নজরে পড়বে!


৪. আমরা খুব বাজে ভাবে লোকজনকে উপহার দিই! দোকান থেকে যে প্লাস্টিকের প্যাকেটে জামাইয়ের গিফটটা দিয়েছিল, সেটাই জামাইয়ের হাতে ধরিয়ে দেবেন না যেন! উপহার যা-ই হোক না কেন, প্যাক করে দিন সুন্দর করে।


৫. তালপাতার পাখা, জামাই ষষ্ঠীতে এর গুরুত্ব কিন্তু অপরিসীম। পাখা তো বাজারেই কিনতে পাওয়া যায়। আপনিও কিনবেনই, তার সঙ্গে আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র যেমন, কাঁচা সুপুরি, বাঁশের কোড়ল, ছ রকমের ফল ইত্যাদিও দোকানি যত্ন করে বেঁধেছেঁদেই দেয়। আপনি পাখার সাইডে একটু লাল রংয়ের কাপড়ের ফ্রিল যোগ করে নিন না! বেশ একটা পুরনো দিনের আভিজাত্যের গন্ধ আসবে!


৬. নিজেদের সাজগোজের দিকেও খেয়াল রাখুন। মেয়ে-জামাই তাদের বাড়ি থেকে রওনা দিলেই আপনি স্নান সেরে পরিপাটি সেজে তৈরি থাকুন। রান্নাবান্নার পাট যেন আগেই চুকে যায়! জামাই এল আর আপনি ঠক করে এক গ্লাস সরবত দিয়ে একটু কেমন আছ বলেই রান্নাঘরে ছুটলেন মাংস নাড়তে...মাফ করবেন, এটিকে আতিথেয়তা বলে না!


মেয়ের চেকলিস্ট


jamai sashthi 3


ছবি সৌজন্য: দ্য টেলিগ্রাফ


১. জামাই ষষ্ঠীর দিন আপনার গুরুত্ব কিন্তু অপরিসীম! কারণ, আপনিই হচ্ছেন দু' বাড়ির মধ্যে একমাত্র সেতুটি! তাই জামাই এবং শাশুড়ি, দু'জনের প্রাথমিক ট্রেনিংয়ের দায়িত্ব কিন্তু আপনারই! আপনার যদি এবারই প্রথম জামাই ষষ্ঠী হয়, তা হলে আপনার স্বামীর পছন্দ-অপছন্দ আগে থেকেই জানিয়ে রাখুন মাকে! উল্টোটাও করবেন কিন্তু! মানে, স্বামীকেও বলে রাখুন, শ্বশুরবাড়ির কার সঙ্গে কেমনভাবে মিশতে হবে।


২. মেনুটা হচ্ছে সবচেয়ে গড়বড়ের জায়গা! এই নিয়ে মায়ের সঙ্গে যোগ দিন আপনিও। কারণ, একদিকে মা চাইবেন জামাইকে খাওয়াতে, অন্যদিকে জামাই লজ্জায় কিছু বলতে না পারে খাওয়ার শেষে জেলুসিল খুঁজবেন! তাই আপনি আসরে নামুন। মেনু ঠিক করে দিন, পরিমাণও। 


৩. আপনার মা যেমন জামাইয়ের জন্য উপহার কিনবেন, মা-বাবার জন্য উপহার কিনুন আপনিও আর যেটা স্বামীকে বলুন দিতে! দেখবেন, এক নিমেষে হাজার ওয়াটের আলো জ্বলে উঠবে আপনার মা-বাবার মুখে!


৪. মাকে সাহায্য করুন রান্নায়, পরিবেশনেও। বাবা আর স্বামীকে আগে খেতে দিন, আপনি আর মা পরে খেতে বসুন। তাতে মা-ও অনেকটা ফ্রি থাকবেন! সম্ভব হলে, একসঙ্গেও খেতে বসতে পারেন সকলে।


৫. নিজের আর বরের পোশাকের দিকে নজর রাখুন। নতুন বিয়ে হলে একটু চকমকে সাজলেও চলবে, কিন্তু প্লিজ, দশ বছরের পুরনো বিয়েতে একগাদা সেজে পৌঁছবেন না। স্নিগ্ধ সাজুন, বরকেও এমনভাবে সাজান যাতে তিনি কমফর্টেবল থাকেন। আর সব শেষে সপরিবার একটি সেলফি তুলে পোস্ট করুন সোশ্যাল মিডিয়ায়! এই টেকনোলজি সর্বস্ব যুগে ওটা যে চাই-ই!


মূল ছবি সৌজন্য: ইনস্টাগ্রাম


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!


আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!