দুর্গাপুজোর আর ১০০ দিন! পুরাণের কথন থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা বার্তা - জেনে নিন সবকিছু!

দুর্গাপুজোর আর ১০০ দিন! পুরাণের কথন থেকে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা বার্তা - জেনে নিন সবকিছু!

আপনারা বলবেন, এখনও তো বর্ষাই ঠিক করে এল না! আমরা বলব, ক্যালেন্ডারের দিকে তাকান, ঢাকে কাঠি পড়তে মাত্র ১০০ দিন বাকি! আপনারা বলবেন, এটা তো সবে জুন মাস। আমরা বলব, অগস্ট পর্যন্ত কিন্তু দরজি নতুন পোশাক তৈরির বরাত নেবে! আপনি বলবেন, কাজকর্ম নেই নাকি, এখনও রথের পাঁপড়ই খাওয়া হল না...আমরা বলব, রথের দিনই কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় খুঁটিপুজো! আপনি বলবেন, সব কিছু নিয়ে মিডিয়ার আজকাল বড্ড বাড়াবাড়ি! আমরা বলব, এই রইল এবছরের দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট, পাঁজির প্রয়োজন নেই, এখন থেকেই ক্যালেন্ডারে দাগিয়ে রাখুন কখন অষ্টমীর অঞ্জলি আর সন্ধিপুজোই বা কখন! 

আসলে আমরা যতই বলি না কেন যে, আমাদের বারো মাসে তেরো পার্বণ, কিন্তু সবের সেরা এই দুর্গাপুজো (Kolkata Durga Puja Festival In Bengali)! প্রকৃত অর্থে, আমাদের বছর শুরু হয় দশমীর সেই ক্ষণটি থেকে, যখন পাড়ার ঠাকুর ভাসান যাওয়ার পর আমরা বাড়ি ফিরে আগে ইন্টারনেটে সার্চ দিই যে আগামী বছরের পুজো ঠিক কবে! তাই আমরা পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিলাম! আপনিও আমাদের সঙ্গী হোন না!

আরো পড়ুনঃ কলকাতার সেরার সেরা দুর্গা মণ্ডপ

Table of Contents

    শাটারস্টক

    দুর্গাপুজোর ইতিহাস (History of Durga Puja)

    ছোটবেলায় শুনেছিলাম, মা দুর্গা নাকি তাঁর সন্তানসন্ততি নিয়ে কৈলাস থেকে মর্ত্যে আসেন তাঁর বাপের বাড়িতে। প্রথমে ছিল বাসন্তী পুজো, সেখান থেকে শ্রীরামচন্দ্র প্রচলন করেন শারদীয়া পুজোর; আর এখন এই পুজো বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব! কিন্তু দুর্গাপুজোর ইতিহাসটা আসলে ঠিক কী?

    বাসন্তী দুর্গাপুজো থেকে শারদীয়া (Basanti Durga Puja To Sharadiya Durga Puja)

    মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে, সুরথ নামে এক ধর্ম পরায়ণ, নিষ্ঠাবান, বীর যোদ্ধা, রাজা ছিলেন এবং তিনিই নাকি প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেছিলেন বাসন্তী পূজার মাধ্যমে। পুরাণে কথিত রয়েছে, রাজা সুরথ তাঁর পাশের এক যবন রাজার কাছে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে বনবাসে যেতে বাধ্য হন এবং তখনই মেধা নামে এক সন্ন্যাসীর সান্নিধ্যে তিনি আসেন। সুরথরাজের মনোকষ্ট দেখে মেধা তাঁকে মহামায়ার আরাধনা করার পরামর্শ দেন এবং সুরথরাজ তাই করেন। রাজা সুরথের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে দেবী আবির্ভূত হন এবং তখন থেকেই প্রচলন হয় বাসন্তী পূজার। বসন্তকালে এই পুজো প্রথম শুরু হয়েছিল বলে তখন তার নাম ছিল বাসন্তী পুজো। পরবর্তী কালে, মানে সত্যযুগে লঙ্কারাজ রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে শ্রী রামচন্দ্র শরৎকালে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন, যাতে যুদ্ধে তাঁর জয় নিশ্চিত হয়! একশো আটটি পদ্মফুলে মার্তৃপক্ষের ষষ্ঠীর দিন রাম দেবীকে অকালে জাগ্রত করেছিলেন। তাই এই সময়ের পুজোকে বলে অকালবোধন! আর যেহেতু শরৎকালে এই পুজো হয়, তাই শারদীয়া দুর্গাপুজো বলা হয়।

    ইনস্টাগ্রাম

    জমিদার বাড়িতে দুর্গাপুজো (Bonedi Bari Durga Puja)

    যতদূর শোনা যায় বাঙালিদের মধ্যে প্রথম দুর্গাপুজোর প্রচলন হয় ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে। কথিত আছে তৎকালীন দিনাজপুর এবং মালদা-র জমিদার প্রথম প্রচলন করেন শারদীয়া পুজোর। আবার অনেকের মতে তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ণ অথবা নদীয়ার ভবানন্দ মজুমদার ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শারদীয়া দুর্গোৎসবের প্রচলন করেন বাংলায়। প্রথমদিকে শুধুমাত্র হাতেগোনা কিছু জমিদার বাড়িতেই দুর্গাপুজো করা হত এবং তা সাধারণ মানুষের জন্য ছিলনা। অবশ্য সাধারণ মানুষ সেসময়ে জমিদার বাড়িগুলিতে উৎসবে যোগ দিতেন, পাত পেড়ে খাওয়াদাওয়াও হতো বলে শোনা যায়।

    আরো পড়ুনঃ জন্মাষ্টমী ও ঝুলন যাত্রার ইতিবৃত্তান্ত (Janmashtami & Jhulan Jatra)

    বারোয়ারি দুর্গাপুজো (Barowari Durga Puja)

    আমরা এখন যাকে বলি বারোয়ারি দুর্গাপুজো, জানেন কি কীভাবে তার প্রচলন হয়েছিল? হুগলীর গুপ্তিপাড়া অঞ্চলে প্রথমবার বারোয়ারি দুর্গাপুজো প্রচলন হয়। লোকমুখে শোনা যায়, ১২ জন বন্ধু মিলে এই পুজো শুরু করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে এবং নিজেরাও যথাসম্ভব চেষ্টা করে ১৯৭০ সালে প্রথম এই পুজো শুরু করা হয়। ১২ জন বন্ধু মিলে এই পুজোর আয়োজন করেছিলেন বলেই নাম হয় বারো ইয়ারি দুর্গাপুজো এবং এখন সেকথারই অপভ্রংশ হল বারোয়ারি দুর্গাপুজো।

    ২০১৯-এ দুর্গাপুজোর দিন-ক্ষণ (2019 Durga Puja Date)

    তিথি  তারিখ  বার 
    মহালয়া ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রবিবার
    মহা পঞ্চমী ৩রা অক্টোবর, ২০১৯,  বৃহস্পতিবার
    মহা ষষ্ঠী ৪ঠা অক্টোবর, ২০১৯,  শুক্রবার
    মহা সপ্তমী ৫ই অক্টোবর, ২০১৯,  শনিবার
    মহা অষ্টমী ৬ই অক্টোবর, ২০১৯,  রবিবার
    মহা নবমী ৭ই অক্টোবর, ২০১৯, সোমবার
    বিজয়া দশমী ৮ই অক্টোবর, ২০১৯,  মঙ্গলবার

    দেবীপক্ষের গুরত্বপূর্ণ দিন-ক্ষণ (The Start of Devi Paksha)

    মহালয়া থেকে শুরু হয় দেবীপক্ষ। এদিন পিতৃপুরুষকে জল অর্পণ করে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এছাড়াও প্রতিটি তিথির আলাদা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে । শাস্ত্রীয় মতে –

    দুর্গাষষ্ঠী - বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
    মহাসপ্তমী - নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, সপ্তম্যাদিকল্পারম্ভ, সপ্তমীবিহিত পূজা।
    মহাষ্টমী - মহাষ্টম্যাদিকল্পারম্ভ, কেবল মহাষ্টমীকল্পারম্ভ, মহাষ্টমীবিহিত পূজা, বীরাষ্টমী ব্রত, মহাষ্টমী ব্রতোপবাস, কুমারী পূজা, অর্ধরাত্রবিহিত পূজা, মহাপূজা ও মহোৎসবযাত্রা, সন্ধিপূজা।
    মহানবমী -  কেবল মহানবমীকল্পারম্ভ, মহানবমী বিহিত পূজা।
    বিজয়াদশমী - বিজয়াদশমী বিহিত বিসর্জনাঙ্গ পূজা, বিসর্জন, বিজয়াদশমী কৃত্য ও কুলাচারানুসারে বিসর্জনান্তে অপরাজিতা পূজা।

    ভারতের বাকি প্রদেশগুলিতে এসময়ে হয় নবরাত্রি (Celebration of Navratri)

    ইনস্টাগ্রাম

    যে সময়ে বাঙালিদের দুর্গাপুজো হয়, দেশের অন্যান্য প্রদেশে বিশেষ করে উত্তর এবং পশ্চিম ভারতে পালিত হয় নবরাত্রি। মহালয়া থেকে শুরু হয়ে নবরাত্রি চলে বিজয়া দশমী বা দশেরা পর্যন্ত। আমাদের দশটি রিপু মা হরন করেন এবং আমাদের সুস্থ এবং শুভবুদ্ধি প্রদান করেন বলেই এই অনুষ্ঠানের নাম দশহরা এবং সেখান থেকেই দশেরা।

    আসলে শরতের এই সময়ে ফসল বোনার সময়। দেবীকে উৎসর্গ করা বীজ জমিতে পোঁতা হয় যাতে ঘরে কখনও অন্নাভাব না দেখা যায়। নয় দিন ধরে মা অম্বা’র পূজা করা হয় এবং এই নয় দিনে দেবী ভিন্ন ভিন্ন নয়টি রূপে পূজিতা হন।

    সিঁদুরখেলা (Sindoor Khela)

    ইনস্টাগ্রাম

    দশমীতে দেবীকে বরণ করে এয়োরা একে অন্যকে সিঁদুর মাখান – এটাই ছিল সিঁদুর খেলার নিয়ম। সারাবছর একঘেয়ে জীবনযাত্রা থেকে কয়েকদিনের ছুটিতে মেতে ওঠেন সবাই। তবে এখন সিঁদুরখেলা শুধুমাত্র বিবাহিত মহিলাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এখন ছোটবড়, বিবাহিত – অবিবাহিত সবাই-ই এই উৎসবে অংশ নেন।

    দুর্গাপুজোর জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন? (Preparation of Durga Puja)

    দুর্গাপুজোয় যাতে আপনার দিক থেকে কারও চোখ না সরে, আপনিই যাতে সবার মধ্যমনি হয়ে উঠতে পারেন, সেজন্য তো কিছু করতে হবে তাই না? পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে জিমে গিয়ে বা বাড়িতেই এক্সারসাইজ আর ডায়েট করে অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলা, উজ্জ্বল ত্বক এবং ঝলমলে চুলের অধিকারিণী হয়ে ওঠা, ঠিক কীভাবে সাজগোজ করা যায় – সঅঅঅব টিপস আপনি পেয়ে যাবেন এখানেই

    হেলাদি খাবার এবং এক্সারসাইজ (Healthy Food & Exercise)

    দুর্গাপুজোর দিনগুলোতে যাতে আপনাকে আরও বেশি সুন্দর দেখায় এবং আপনি সুস্থ থাকতে পারেন (যাতে আনন্দ মাটি না হয়) সেজন্য এখন থেকেই অল্প অল্প করে এক্সারসাইজ শুরু করে দিন। চাইলে আপনি জিমে যেতে পারেন, আবার যদি মনে হয় জিমে যাওয়ার সময় নেই, তাহলে বাড়িতেই অন্তত ১৫-২০ মিনিট সময় বার করে ব্যায়াম করতে পারেন। যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন, এটুকু সময় বার করতে পারবেন না এটা বললে শুনছি না!

    পুজোর সময়ে তো এমনিতেই প্রচুর খাওয়াদাওয়া হবে, তাতে রসনাতৃপ্তি হলেও শরীরের একটু সমস্যা হতে পারে। সে না হয় মেনে নেওয়া যাবে। কিন্তু পুজোর আগে শুধুমাত্র বাড়তি ওজন কমিয়ে ফেলার জন্য না, ত্বক ও চুলের যত্নেও কিন্তু ডায়েট প্রভাব ফেলে। যেহেতু দুর্গাপুজো শরৎকালে হয় এবং এসময়ে পশ্চিমবঙ্গে যথেষ্ট আর্দ্রতা থাকে কাজেই ব্রন-ফুস্কুড়ি হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। বেশি তেল-মশলাযুক্ত খাবার না খাওয়াই ভাল। পারলে বেশি করে সব্জি, স্যালাড এসব খান, আর হ্যাঁ পর্যাপ্ত পরিমানে জল খেতে ভুলবেন না যেন!

    সাজগোজ (Makeup)

    ইনস্টাগ্রাম

    বাঙালির একমাত্র বড় উৎসবে সাজগোজ করবেন না তা কি হয়? এই পুজোর দিনকটাতেই তো বেশ বাঙালি সাজ করা যায়। সারা বছর বেশিরভাগ সময়েই হয় পশ্চিমি পোশাক বা এমন পোশাক আমরা পরি যা পরতেও সুবিধে এবং ক্যারি করতেও সুবিধে। অষ্টমীতে সক্কাল সক্কাল অঞ্জলি দিতে যাওয়ার জন্য একটা লাল পাড় সাদা শাড়ি কিন্তু আপনি পরতে পারেন, সঙ্গে একটা হাতখোঁপা (যদি চুল লম্বা হয়), কপালে একটা ছোট্ট টিপ। আবার দুর্গাপুজোতে দিনের বেলার সঙ্গে রাতের সাজের কিন্তু আকাশ পাতাল তফাৎ। রাতের সাজ হবে জমকালো, তবে বিয়েবাড়িতে যেমন সাজেন তেমন কিন্তু নয়। এমনভাবে সাজুন যাতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই একটা বাঙ্গালিয়ানার ছোঁয়া থাকে।

    পার্লারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট (Parlour Appointment)

    সারা বছর পার্লারে গেলেও উৎসবের আগ দিয়ে পার্লারে যাওয়াটা কিন্তু মাস্ট! ওয়াক্সিং, থ্রেডিং, পেডিকিওর, ম্যানিকিওর, স্পা, মাসাজ – মোটামুটি সবই করাটা প্রয়োজন। গোটা কলকাতা শহর জুড়ে বেশ কিছু নামী পার্লার রয়েছে যারা আবার দুর্গাপুজো স্পেস্যাল প্যাকেজ তৈরি করেন এবং বেশ ভাল ছাড়ও থাকে প্রতিটি প্যাকেজের ওপরে। সারাদিন বাড়ি আর অফিস সামলে যদি পার্লারে যাওয়ার সময় করে উঠতে না পারেন, তাহলে অনলাইনেই ‘স্যালো অ্যাট হোম’ সার্ভিস বুক করে নিতে পারেন। এঁরা আপনার বাড়িতে এসে আপনার বিউটি রেজিমে সাহায্য করেন এবং সেটাও কিন্তু সাধ্যের মধ্যেই!

    কেনাকাটা (Shopping)

    শাটারস্টক

    দুর্গাপুজোই তো বলতে গেলে বাঙালির একমাত্র বড় উৎসব। যদিও এখন মোটামুটি সারা বছর ধরেই আমরা কিছু না কিছু কেনাকাটা করেই থাকি, তবুও দুর্গাপুজোর কেনাকাটা করার মজাই আলাদা। শুধু তো আর পোশাক কিনলেই হবে না, সঙ্গে চাই নতুন জুতো, ম্যাচিং ব্যাগ, সাজগোজের সরঞ্জাম, আরও কত কী! যারা কলকাতাতে থাকেন তাঁদের মধ্যে সিংহভাগের কাছেই পুজোর কেনাকাটা বলতে কিন্তু গড়িয়াহাট, এসপ্ল্যানেড, নিউ মার্কেট, হাতিবাগান – এই চত্বরগুলোই বোঝায়। যদিও মোটামুটি এখন থেকেই বেশ ঠেলাঠেলি করেই আপনাকে আপনার পছন্দের শাড়ি বা চুড়িদার অথবা অন্য পোশাক কিনতে হবে এই বাজারগুলো থেকে, তার কারণ আর কিছুই না, সবাই-ই তো ইতিমধ্যে দুর্গাপুজোর কেনাকাটা শুরু করে দিয়েছেন।

    আপনি যদি ভিড় এড়াতে চান এবং সঙ্গে গরম এবং ঘামও তাহলে চলে যেতে পারেন কলকাতার নানা মলে। দারুণ দারুণ সব পোশাক আপনি পেয়ে যাবেন সাউথ সিটি, কোয়েস্ট, অ্যাক্রোপলিস এবং আরও অন্যান্য মলগুলোতে। শুধু কলকাতা কেন, শহরতলীতেও রয়েছে নানা মল যেখানে পছন্দসই পোশাকের সঙ্গে আপনি আনুসঙ্গিক জিনিসপত্রও পেয়ে যাবেন। হ্যাঁ, দামটা কিছু হলেও বেশি পড়বে!

    আচ্ছা, দুর্গাপূজোর জন্য কেনাকাটা করার সময় নেই? অফিসে এতটাই কাজের চাপ আর সারা সপ্তাহ অফিসে খাটাখাটনির পর সপ্তাহের শেষে মনে হয় বাড়িতেই থাকি? কোনও সমস্যা নেই তাতে! আপনি বাড়িতে বসেই তো করে নিতে পারেন পুজোর কেনাকাটা। মুঠোফোনে একটা ক্লিক করুন আর অনলাইন স্টোর থেকে কেনাকাটা সেরে ফেলুন!

    বাড়িতেই করে ফেলুন রূপচর্চা (Skin Care at Home)

    দুর্গাপুজোর আর মাত্র তিনমাস বাকি, অফিস-বাড়ি সব সামলে হলেও খানিকটা সময় নিজের জন্যও বার করুন। যদি বাইরে যাওয়ার সময় একান্তই না পান তাহলে বাড়িতেই করে ফেলুন রূপচর্চা। ত্বক এবং চুলের যত্ন কীভাবে বাড়িতে নেবেন, তা জেনে নিন

    ঘরোয়া ফেসপ্যাক (Homemade Face Pack)

    ১। ওটমিল এবং মুলতানি মাটি দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক (Oatmeal and Multani Mitti Face Pack)

    ত্বকের মরাকোষ দুর করতে ওটমিলের কোনও তুলনা হয়না, আর অন্যদিকে মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে ত্বকের ভেতর থেকে ময়লা টেনে বার করে। এক টেবিল চামচ ওটমিল গুঁড়ো, ২ চা চামচ মুলতানি মাটি, এক টেবিল চামচ করে কাঁচা দুধ এবং শশার রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবারে মুখে, গলায় ও ঘাড়ে আধঘন্টার জন্য লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু’বার করলেই যথেষ্ট।

    ২। কলা এবং টকদই দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক (Banana and Yogurt Face Pack)

    তুলতুলে ত্বকের জন্য এই ফেসপ্যাকটির কোনও তুলনা হয় না। একটা পাকা কলা (চটকে নেওয়া), দুই টেবিল চামচ জল ঝরানো দই এবং এক টেবিল চামচ মধু ভাল করে ব্লেন্ড করে একটা পেস্ট তৈরি করে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন পেস্টটি খুব বেশি ঘনও না হয় আবার খুব পাতলাও না হয়। মুখে, গলায় ও ঘাড়ে লাগিয়ে শুকোতে দিন। শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। 

    যদি খুব বেশি তাড়াহুড়ো থাকে এবং চটজলদি মুখে একটা জেল্লা আনতে চান তাহলে ট্রাই করতে পারেন এই ফেসপ্যাকটি

    ৩। পেঁপে, অ্যাভোকাডো এবং শশার ফেসপ্যাক (Papaya, Avocado and Cucumber Face Pack)

    একটা অ্যাভকাডো, ২-৪ টুকরো পাকা পেঁপে আর অর্ধেক শশা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। এবারে ওই মিশ্রণ মুখে, গলায় আর ঘাড়ে মেখে নিন। আধ ঘণ্টা পর উষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন।

    চুলের যত্নে কিছু ঘরোয়া হেয়ার মাস্কের হদিশ (Homemade Hair Mask)

    ১। কলার হেয়ার মাস্ক (Banana Hair Mask)

    দুটো পাকা কলা ছোট ছোট টুকরো করে ভাল করে চটকে নিন। এবারে তার মধ্যে এক টেবিল চামচ নারকোল তেল এবং খুব সামান্য মধু মিশিয়ে ভাল করে চুলে লাগিয়ে নিন। আধ ঘন্টা রেখে (যদি না শুকোয় তাহলে আরও কিছুক্ষন রাখতে হবে) ভাল করে উষ্ণ জল দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। মাসে একবার এই হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন, নিজেই ফল দেখতে পাবেন!

    ২। লেবু ও সর্ষের তেলের হেয়ার মাস্ক (Lemon and Mustard Oil Hair Mask)

    একটা মাঝারি আকারের লেবুর রস বার করে তাতে ২ চা চামচ সর্ষের তেল ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। এবারে চুলের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ভাল করে মাসাজ করে অন্তত আধঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ঠাণ্ডা জলে চুল ধুয়ে নিন। সপ্তাহে একবার করুন, চুলের জেল্লা তো বারবেই সঙ্গে স্ক্যাল্পের কোনও সমস্যা থাকলে তাও দূর হবে।

    বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা পাঠিয়ে দিন (Bijoya Doshomi Wishes)

    ১। ঢাকের কাঠির মিষ্টি রেশ, পুজো এবার হল শেষ
    নতুন আশায় বাঁধি বুক, সবার ইচ্ছে পূরণ হোক
    আসছে বছর আবার হবে... কে জানে কে কোথায় রবে।।

    ২। জীবন হোক মধুর, আশা হোক পূর্ণ।
    স্বপ্ন হোক সত্যি, দিনগুলো সুন্দর।।
    জানাই শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা... 

    ৩। শুভ বিজয়া দশমী
    সকলকে জানাই শুভেচ্ছা... আগামী ভাল হোক

    ৪। আমি চললাম... তোরা ভাল থাকিস। আবার ব্যস্ত হয়ে পড়বি নিজের নিজের জীবনে, তাও মাঝেমাঝে মনে করিস... তোদের জন্য খুব মন খারাপ করে আমার... সামনের বছরটা ভাল কাটাস... একটা বছর তো, দেখতে দেখতে চলে যাবে... আবার আসব আমি... মন খারাপ করিস না... – ইতি তোদের মা

    ৫। শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা

    ৬। কুর কুর কুর বাজছে ঢাক, কৈলাস যে দিল ডাক
    শুরু হবে সিঁদুরখেলা, মায়ের যে আজ যাওয়ার পালা
    বোধন থেকে বিসর্জন ভাল রেখো মা সবার মন।
    শুভ বিজয়া!

    ৭। সুখের স্মৃতি রেখো মনে, মিশে থেকো আপনজনে
    মান-অভিমান সকল ভুলে আশার প্রদীপ রেখো জ্বেলে।
    মা আসবেন – এই আশা নিয়ে সবাই মিলে থেকো সুখে।।
    শুভ বিজয়া!

    মূল ছবি সৌজন্যে - ক্যালকাটা ক্যাকোফোনি, কলকাতা সূত্র, শ্রিয়া দাস, ফুটপ্রিন্টস কলকাতা এবং সোলফুল ক্রিয়েচার 

    POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

    আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!

    এগুলোও আপনি পড়তে পারেন

    দুর্গাপুজোর কমপ্লিট ফ্যাশন গাইড