পরিবেশ বাঁচানোর চাবিকাঠি রয়েছে আপনার হাতেই!

পরিবেশ বাঁচানোর চাবিকাঠি রয়েছে আপনার হাতেই!

"এবছর কী গরম পড়েছে দেখুন। আজ থেকে দশ বছর আগেও এত গরম পড়তো না!" এই গরমে বাসে-ট্রামে এমন বক্তব্য প্রায়শই শোনা যায়। কিন্তু এই যে গরম বাড়ছে, ঠান্ডা কমছে, বৃষ্টির দেখা নেই, এই সব নিয়ে তর্ক চললেও পরিবেশ বাঁচানোর ব্যাপারে (Save Our Environment) সরকারের চেয়েও বেশি উদাসীন আমরা। বলবেন, গ্লোবাল ওয়ার্মিং কমাতে উদ্যোগ নেবে তো সরকার। আমাদের কী কাজ? এই যে দিনে-দিনে তাপমাত্রা বাড়ছে, সেটা তো আর মঙ্গল গ্রহের বাসিন্দাদের জন্য হচ্ছে না, হচ্ছে আমাদের কিছু ভুলের কারণে। তাই পরিবেশ (Environment) বাঁচাতে কিছু কাজ না করলেই নয়। কী করতে হবে জানেন না? জেনে নিন আমাদের কাছ থেকে।


১. জল খরচ করুন ভেবে চিন্তে


ভাবছেন, জলের সঙ্গে পরিবেশের কি সম্পর্ক? জল যত খরচ করবেন, তত মাটির নীচে জলের লেভেল কমতে থাকবে। আলগা হবে মাটি। ফলে ধস নামবে কথায়-কথায়। তাতে জান-মালের ক্ষতি তো হবেই, সঙ্গে পরিবেশের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়বে। তা ছাড়া জলের চাহিদা বাড়লে নদীর গভীরতাও কমবে। যার সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়বে পরিবেশের উপরে। কমবে বৃষ্টির পরিমাণ, বাড়বে খরার প্রবণতা। এমন পরিস্থিতে আমাদের পক্ষেও কি বেঁচে থাকা সম্ভব? মনে তো হয় না। তাই প্রয়োজন ছাড়া জলের ব্যবহার বন্ধ করুন। জল নষ্ট হতে দেখলেই ব্যবস্থা নিন। এভাবেই তো বিন্দু-বিন্দু মিলে একদিন জলের চাহিদা মিটবে।


২. সুযোগ পেলেই গাছ লাগান


দ্রুত হারে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার পিছনে গাছের সংখ্যা কমে যাওয়াটা একটা বড় কারণ। তাই প্রতি সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকা খরচা করে দু-একটা গাছের চারা কিনে এনে লাগানোর অভ্যাস করুন। বাড়িতে সম্ভব না হলে মাঠে লাগান। মাঠ না থাকলে রাস্তার ধারে লাগান। কিন্তু নিয়ম করে প্রতি সপ্তাহে গাছ লাগান। আর অফিস থেকে ফেরার সময় সঙ্গে থাকা বোতল থেকে তাতে প্রতিদিন জল দিন। দেখবেন, আপনাকে দেখে আরও দু'জন এগিয়ে আসবে। তাঁদের দেখে আরও পাঁচজন। এভাবে গাছের সংখ্যা বাড়বে। আর যত সবুজায়ন ঘটবে, ততই তো পবিবেশের ক্ষত বুজবে।


৩. প্লাস্টিক নয়, ব্যবহার করুন কাপড়ের ব্যাগ


এই নিয়ে সরকার হাজারও উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আমাদের সচেতনতা একটুও বাড়েনি। এমন প্লাস্টিক ব্যাগ মাটির সঙ্গে মিশে যেতে প্রায় ৪০০-১,০০০ বছর সময় নেয়। তত দিনে নদী-নালায় মিশে সেই জলকে দূষিত করে। বদলে দেয় জলের স্রোতও। শুধু কী তাই, প্লাস্টিক ব্যাগের কারণে প্রতি বছর কম-বেশি এক লক্ষ সামুদ্রিক প্রাণী এবং কচ্ছপ মারা যায়। এই কারণেও কিন্তু পরিবেশে পরিবর্তন আসছে। তাই দয়া করে আর প্লাস্টিক ব্যাগ নয়, বরং কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহার করুন। 


আরও পড়ুন: ট্রাম: কলকাতার ঐতিহ্য দীর্ঘজীবী হোক আধুনিকতার মোড়কে!


৪. যতটা সম্ভব গাড়ির ব্যবহার কমান


খেয়াল করে দেখবেন, আজকাল বেশিরভাগ পরিবারেই দুটো করে গাড়ি আর একটা করে বাইক রয়েছে। এই পরিমাণে বাইক আর গাড়ি ব্যবহার করলে পরিবেশে গ্রিন হাউস গ্যাসের মাত্রা বাড়বে। তাই রোজ নয়, সপ্তাহে অন্তত দু'দিন গাড়ির ব্যবহার বন্ধ করুন। তাতে কম-বেশি প্রায় ৭২১ কিলোগ্রাম গ্রিন গাউজ গ্যাস সৃষ্টি হবে না। ফলে পরিবেশ দূষিত হবে কম। কমবে গ্লোবাল ওয়ার্মিংও। একবার ভাবুন, দশ জনও যদি এই নিয়ম মানেন, তা হলে পরিবেশের কতটা উপকার হয়!


৫. এটিএম-এর স্লিপ নেওয়া বন্ধ করুন


এখন তো টাকা তুললেই মোবাইলে এসএমএস এসে যায়, তা হলে আকারণে এটিএম স্লিপ নেন কেন? বোঝেন না যে, যত স্লিপ নিবেন, তত গাছ কেটে কাগজ বানাতে হবে। আর গাছের সংখ্যা যত কমবে, তত বাড়বে তাপমাত্রা। তখন এসি চালিয়েও কিন্তু কূল পাবেন না। তাই নিজের স্বার্থেই একটু সচেতন হন। এবার থেকে ভুলেও এটিএম স্লিপ নেবেন না। আর বাড়িতে যে কাগজ আসে, তা ফেলে না দিয়ে রিসাইকেল হবে এমন জয়গায় বিক্রি করে দিন। এইভাবে পরিবেশকে ভালবাসুন। দেখবেন, আপনার জীবনও সুন্দর হয়ে উঠবে।


পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আরও যে কাজগুলি করতে হবে


১. পেপার টিকিটের পরিবর্তে যতটা সম্ভব ই-টিকিট ব্যবহার করুন।


২. প্লাস্টিক নয়, ব্যবহার করতে হবে পিতল নয়তো স্টিলের বোতল।


৩.কাজ শেষ হলে ল্যাপটপ এবং কম্পিউটর বন্ধ করে দিতে হবে। ভুলেও স্লিপ মোডে রাখা চলবে না।


৪. জলের মতই অকারণে বিদ্যুৎ খরচ করাও চলবে না।


আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবস (world environment day)। চলুন এই দিনটিকে সামনে রেখে একে-অপরকে কথা দিই যে, উপরে বলা এই ছোট্ট কথাগুলো মাথায় রেখে পরিবেশ সুরক্ষিত করব আমরা।


এটিও পড়ুন :
Save Earth Slogans in Hindi
पृथ्वी दिवस का इतिहास


POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!


আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!