প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত কয়েকটি ভ্রান্ত ধারণা – সংস্কার নাকি কুসংস্কার!

প্রেগন্যান্সি সংক্রান্ত কয়েকটি ভ্রান্ত ধারণা – সংস্কার নাকি কুসংস্কার!

প্রত্যেক মহিলার জীবনেই ‘মা হওয়া’ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। যেদিন থেকে একজন মহিলা সন্তানসম্ভবা হন, সেদিন এক ‘মা’-এরও জন্ম হয়। আর গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে বাড়িতে যে সেই মহিলার যত্ন-আত্তি বেশ বেড়ে যায়, সেকথা তো আমরা সবাই জানি। তবে যত্নের নামে কিন্তু বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞাও বলবৎ হয়। কী জানেন তো, প্রতিটি pregnancy যে একে অন্যের চেয়ে আলাদা, সেকথা বেশিরভাগ মানুষই ভুলে যান বা মানতে চান না। কাজেই বেশ কিছু কুসংস্কার এবং ভ্রান্ত ধারণাও (pregnancy myths) তৈরি করে দেওয়া হয়। চলুন আজ না হয় সেই myth বা ভ্রান্ত ধারণাগুলো ভাঙি!

সহবাসের পজিশনের উপরে নাকি সন্তানের লিঙ্গ নির্ভর করে

শাটারস্টক

ভারতে যতই ‘বেটি পড়াও, বেটি বাঁচাও’ আন্দোলন হোক না কেন, একথা অস্বীকার করে লাভ নেই যে এখনও পর্যন্ত এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা চান তাঁদের ‘ছেলে’ হোক। আর এখানেই শুরু হয় নানা সমস্যা অর্থাৎ ভ্রান্ত ধারণা! আপনিও হয়তো কখনও শুনে থাকবেন যে, কোনও নির্দিষ্ট পজিশনে যদি সহবাস করা হয়, তা হলে ছেলে হবে’ অথবা ‘এই নির্দিষ্ট পজিশনে সহবাস করা হয়নি তাই মেয়ে হয়েছে’!

ফ্যাক্ট: সন্তানের লিঙ্গ কী হবে, সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে মা-বাবার ক্রোমোজোমের উপরে, এর সঙ্গে sex position-এর কোনও সম্পর্ক নেই! সুতরাং, সেকথা না ভেবে সহবাস উপভোগ করুন।

গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম করলে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে

বাড়ির অনেক বয়স্করা মনে করেন অথবা কখনও-কখনও বলেনও গর্ভবতী থাকাকালীন ব্যায়াম করা বা সিঁড়ি ভাঙা উচিত নয়। একথা কিন্তু সম্পূর্ণরূপে সত্য নয়। আবার অনেকে বলেন যে, নিয়মিত সব ধরনের ব্যায়াম করলে নাকি স্বাভাবিক ভাবে সন্তান প্রসব সম্ভব হবে!

ফ্যাক্ট: অনেকের প্রেগন্যান্সিতে নানা রকম কমপ্লিকেশন দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে অনেকসময়েই ডাক্তার পরামর্শ দেন কোনও ভারী কাজ না করার অথবা বেড রেস্টে থাকার জন্য। কিন্তু তা কোনও-কোনও ক্ষেত্রে, সকলের জন্য নয়। এরকম পরিস্থিতি ছাড়া নর্মাল প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে টুকটাক ব্যায়াম করা যায়, এতে সন্তানের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে এবং প্রসবে সুবিধে হয়। লাফানো, দৌড়নো অথবা জিমে গিয়ে ওজন তোলার মতো ভারী ব্যায়াম করাটা অবশ্য বাঞ্ছনীয় নয়। তবে এই সময় মা-কাকিমার পরামর্শের উপর নির্ভর না করে নিজের চিকিৎসককেই জিজ্ঞেস করে নিন যে কীরকম ব্যায়াম আপনি করতে পারেন।

জাফরান দিয়ে দুধ খেলে শিশুর গায়ের রঙ ফর্সা হবে

উফ! এ তো মহা জ্বালা! আমাদের এই ‘গায়ের রঙ ফর্সা’-প্রীতি কবে যাবে বলুন তো? আপনি নিজেও হয়তো দেখে থাকবেন, যখনই কোনও মহিলা সন্তানসম্ভবা হন, তাঁর বাড়ির লোকজন তাঁকে পারলে গ্যালন-গ্যালন দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যান আর তা-ও জাফরান মিশিয়ে, কারণ কী? গর্ভবতী মা যদি জাফরান মেশানো দুধ পান করেন, তা হলে নাকি শিশুর গায়ের রঙ ফর্সা হবে! দুধ ছাড়া আরও অনেক রকম খাবারের কথাও বলা হয়, যা খেলে নাকি হবু সন্তান ফুটফুটে দেখতে হবে!

ফ্যাক্ট: সন্তানের গায়ের রঙ কেমন হবে তা সম্পূর্ণভাবে তার মা-বাবা অথবা তার নিজের জিনের গঠনের উপর নির্ভর করে। তবে হ্যাঁ, আপনি জাফরান মেশানো দুধ খেয়ে যান, তা খেতেও ভাল আর পুষ্টিকরও! আর কেউ বলতেও পারবে না যে, আপনি ওই দুধ খাননি বলেই আপনার সাহেব-মেমসম সন্তান হয়নি!

গর্ভবতী মহিলার পেটের আকার দেখে নাকি শিশুর লিঙ্গ বোঝা যায়

শাটারস্টক

অনেকেই বলেন, যদি সন্তানসম্ভবা মায়ের পেট নীচের দিকে ঝুলে যায় তা হলে নাকি আগত সন্তান পুত্র হবে আর যদি দু’পাশে বেড়ে যায় তা হলে আগত সন্তান কন্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মানে, ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করার একটা সীমা থাকে!

ফ্যাক্ট: সন্তানের শারীরিক গঠন কেমন হচ্ছে অর্থাৎ তার বৃদ্ধির উপরে মায়ের পেটের আকার অনেকসময় নির্ভর করে। অনেক মায়ের আবার প্ল্যাসেন্টাল ফ্লুয়িড বেশি-কম থাকে, তার উপরেও পেটের গঠন নির্ভর করতে পারে। এর সঙ্গে পুত্র সন্তান বা কন্যা সন্তান হবে কিনা তার কোনও সম্পর্ক নেই!

 POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজিহিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!