বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে এড়িয়ে চলুন এই খাবারগুলি

বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে এড়িয়ে চলুন এই খাবারগুলি

বর্ষার বিকালে এক পেয়ালা চা বা কফির সঙ্গে গরম-গরম পিঁয়াজি বা আলুর চপ খেতে তো মন্দ লাগে না। কিন্তু না খাওয়াই শ্রেয়। কারণ, চিকিৎসকেদের মতে রাস্তার দোকানে বিক্রি হওয়া এসব ভাজাভুজি তৈরির সময় যে জল ব্যবহার করা হয়, তাতে একাধিক ক্ষতিকর জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যে কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তবে শুধু ভাজাভুজি নয়, বছরের এই সময় (Monsoon) আরও কিছু খাবার এড়িয়ে চালার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কারণ, বর্ষাকালে আমাদের চারিপাশে তো বটেই, বিশেষ করে কিছু খাবারে (Foods) প্রচুর সংখ্যক জীবাণু এসে ভিড় করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই সব খাবারগুলি খাওয়া মাত্র পেট খারাপ, নয়তো নানা ধরনের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই বর্ষাকালে শরীর বাবাজিকে সুস্থ রাখতে কিছু খাবার খাওয়া উচিত নয়।

১. সবুজ শাকপাতা

শরীরকে সুস্থ রাখতে শাকপাতার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ, এতে উপস্থিত একাধিক ভিটামিন এবং মিনারেল বেশ কিছু রোগ-ব্যাধিকে দূরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। কিন্তু বর্ষাকালে ভুলেও শাক-সবজি খাওয়া চলবে না। কারণ, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের জন্য শাকপাতায় প্রচুর পরিমাণে জীবাণু এসে ভিড় জমায়, যা নানা রোগকে ডেকে আনে। তাই সুস্থ থাকতে বছরের এই সময় শাকপাতা এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

২. রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া কাটা ফল এবং জুস

ফল কেটে অনেকক্ষণ রেখে দিলে তাতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। আর বর্ষাকালে যেহেতু ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ এমনিতেই বাড়ে, তাই এই সময় অনেকক্ষণ কেটে রাখা হয়েছে এমন ফল না খাওয়াই উচিত। একই কারণে এড়িয়ে চলা উচিত রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া ফলের জুস আর সরবতও।

৩. ঠান্ডা পানীয়

ঠান্ডা পানীয় বা Carbonated drinks খাওয়া মাত্রা আমাদের শরীরে একাধিক মিনারেলের মাত্রা কমতে শুরু করে। সঙ্গে বেশ কিছু এনজাইমের ক্ষমতাও কমে যায়, যে কারণে হজম ক্ষমতা কমতে শুরু করে। লেজুড় হয় বদহজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যাও। বর্ষাকালে এমনিতেই হজম ক্ষমতা কমে যায়, তাই তো এই সময় কোল্ড ড্রিঙ্ক খেতে বারণ করেন চিকিৎসকেরা। পরিবর্তে বেশি করে জল খাওয়া উচিত, তাতে ডিহাইড্রেশনের মত সমস্যার খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি শরীরও চাঙ্গা থাকে। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে বর্ষার সময় জলের মাধ্যমেই কিন্তু বেশি মাত্রায় জীবাণু আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। তাই পানীয় জল ফুটিয়ে নিতে ভুলবেন না যেন! আর যদি ফিল্টার ব্যবহার করেন, তা হলে এই সময় সপ্তাহে বারদুয়েক তা পরিষ্কার করতে হবে, যাতে সেখানে ক্ষতিকর জীবাণুরা এসে ভিড় জমানোর সুযোগ না পায়।

৪. ফুচকা এবং ভেলপুরি খাওয়াও চলবে না

বর্ষার সময় এমন খাবারও এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ, ফুচকার জলে বা ভেলপুরির চাটনিতে যে জীবাণু নেই, সেই গ্যারান্টি কোথায়! বরং এই ধরনের খাবারে যে প্রচুর মাত্রায় ব্যাকটেরিয়া থাকে, তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে, যা থেকে ডায়রিয়া এবং জন্ডিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে। তার উপর তেঁতুল জল কিংবা টক চাটনিতেও অপরিশুদ্ধ জল থাকতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে বর্ষাকালে ফুচকা-ভেলপুরির মতো খাবারের কথা ভুলে যাওয়াই নিরাপদ।

৫. রেড মিট

নানা কারণে বছরের এই সময় আমাদের হজম ক্ষমতা খুব কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে রেড মিট খেলে তা হজম হতে অনেক সময় নিয়ে নেয়। ফলে গ্যাস-অম্বল ও বদহজমের মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। বারে বারে পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই বর্ষাকালে রেড মিট নৈব নৈব চ! তবে একান্তই যদি মাংস খেতে মন চায়, তাহলে মুরগির মাংস খাওয়া চলতে পারে। তবে বেশি করে খেতে হবে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার, তাতে হজম ক্ষমতা বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমবে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!