এই ঘরোয়া টোটকাগুলির সাহায্যে নিমেষে কমবে প্রেগন্যান্সির সময়ে পা ফোলার সমস্যা

এই ঘরোয়া টোটকাগুলির সাহায্যে নিমেষে কমবে প্রেগন্যান্সির সময়ে পা ফোলার সমস্যা

গর্ভাবস্থায় মায়েদের পা ফুলে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ, এই সময় শরীরে এত রকমের পরিবর্তন হতে থাকে যে তার প্রভাবে body tissue-এর মধ্যে অতিরিক্ত ফ্লুইড জমতে শুরু করে, যে কারণে গোড়ালি ফুলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে পায়ের পাশাপাশি ঘাড় এবং হাতও ফুলতে পারে। এমন সমস্যাকে চিকিৎসার পরিভাষায় 'এডিমা' নামে ডাকা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া চিকিৎসার উপর ভরসা রাখলে কিন্তু দারুণ উপকার পাওয়া যায়। তাতে পা ফোলা তো কমেই, সঙ্গে প্রেগন্যান্সি ( Pregnancy) সংক্রান্ত আরও নানা ধরনের সমস্যা কমতেও সময় লাগে না। এখন প্রশ্ন হল, এত সব উপকার পেতে কেমন ধরনের ঘরোয়া চিকিৎসার উপর ভরসা রাখতে হবে, সে সম্পর্কে জানা আছে কি? জানা না থাকলে জেনে নিন আমাদের কাছ থেকে।

১. বেশি করে খেতে হবে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার

ভাবী মায়েদের নিয়মিত কলা, অ্যাভোকাডো, লেটুস, পেঁপে, পালং শাক, বাঁধাকপি অথবা টোম্যাটোর মতো পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তাতে শরীরে জল এবং নুনের ভারসাম্য ঠিক থাকবে, যে কারণে এডিমার মতো সমস্যার খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা আর থাকবে না। সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে, হাড় ও পেশির ক্ষমতা বাড়বে এবং হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।

২. কফি খাওয়া চলবে না

এই ধরনের পানীয়তে ক্যাফিনের পরিমাণ খুব বেশি থাকে, যে কারণে ভাবী মায়েদের নানা ধরনের শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই তো প্রেগন্যান্ট মহিলাদের কফি পান করতে মানা করেন চিকিৎসকেরা। তাছাড়া শরীরে ক্যাফিনের মাত্র বাড়লে ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে, যে কারণেও অনেক সময় পা ফোলে। তাই এডিমার (edema) মতো সমস্যাকে যদি দূরে রাখতে হয়, তাহলে কফি পান চলবে না। বরং এই সময় chamomile চা খেলে কিন্তু অনেক উপকার পাওয়া যায়। ইচ্ছে হলে পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি চাও খেতে পারেন।

৩. লবণ জলে পা চুবিয়ে রাখতে হবে

রাতে শুতে যাওয়ার আগে আধ বালতি জলে এক কাপ ইপসাম সল্ট এবং কয়েক ফোঁটা lavender অথবা rose এসেনশিয়াল তেল মিশিয়ে তাতে যদি মিনিটপনেরো পা চুবিয়ে রাখার অভ্যাস করতে পারেন, তা হলে কিন্তু দারুণ উপকার মিলবে। বিশেষত, পায়ের ফোলা ভাব তো কমবেই, সঙ্গে পায়ের পাতায় জমে থাকা মৃত কোষের স্তরও ধুয়ে যাবে। ফলে পায়ের জেল্লা বাড়বে চোখে পড়ার মতো।

৪. অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার

দু' গ্লাস জলে এক চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে নিয়মিত খেলে পায়ের ফোলা ভাব কমতে সময় লাগবে না। কারণ, এই পানীয়টি খাওয়ামাত্র শরীরে পটাসিয়ামের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, সঙ্গে electrolyte-এর হারিয়ে যাওয়া ভারসাম্যও ফিরে আসে। ফলে 'ওয়াটার রিটেনশন'-এর কোনও আশঙ্কাই থাকে না, যে কারণে এডিমার মতো রোগ দূরে থাকতে বাধ্য হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দু'কাপ গরম জলে এক চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে নিন। এবার সেই জলে সুতির কাপড় ভিজিয়ে সেটা ফোলা জায়গার উপর কিছুক্ষণ রেখে দিন। নিয়মিত এই ঘরোয়া চিকিৎসা করলে ফল মিলবে হাতে-নাতে!

৫. শরীরচর্চা করতে ভুলবেন না যেন

নিয়মিত যোগাসন অথবা অল্পবিস্তর হাঁটাহাঁটি করলে সারা শরীরে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে এডিমার মতো সমস্যার খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে। তবে দিনে কতটা সময় এক্সারসাইজ করা উচিত, সে সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে একবার আলোচনা করে নিতে ভুলবেন না যেন!

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!