মুখ থেকে শুরু করে পা, সারা শরীরের ট্যান দূর করতে এই ১৫টি ঘরোয়া টোটকা অব্যর্থ (Tan Removal)

মুখ থেকে শুরু করে পা, সারা শরীরের ট্যান দূর করতে এই ১৫টি ঘরোয়া টোটকা অব্যর্থ (Tan Removal)

আমাদের সকলকেই মোটামুটি বাইরে বেরতে হয়। যাঁরা চাকরি বা ব্যবসা করেন তাঁদের তো প্রতিদিনই বেরতে হয় আবার যাঁরা গৃহবধূ তাঁদেরও কিন্তু মাঝেমধ্যেই বাইরের কাজ থাকলে বেরতে হয়। দিনের বেলা বাইরে বেরলে রোদ লাগবেই আর আপনি যতই সানস্ক্রিন লাগিয়ে বেরন না কেন, কিছুটা হলেও ট্যান পড়বে আপনার ত্বকে। কিন্ত তা বলে কি বাইরে বেরবেন না দরকারে-অদরকারে? নিশ্চয়ই বেরবেন, তবে ট্যান দূর করার জন্য নানা পদ্ধতিও আপনাকে প্রয়োগ করেই যেতে হবে। বাজারচলতি নানা ক্রিম, লোশন বা প্যাক আপনি ব্যবহার করতেই পারেন কিন্তু দেখে নেবেন সেগুলো আপনার ত্বকের কোনও ক্ষতি যেন না করে! সবচেয়ে ভাল হয়, যদি আপনি বাড়িতে তৈরি প্যাক ব্যবহার করেন ট্যান দূর করার জন্য। এখানে ১৫টি ঘরোয়া টোটকার সন্ধান দেওয়া হল, দেখুন কাজে আসে কিনা।

Table of Contents

    ট্যান দূর করার ১৫টি ঘরোয়া টোটকা (Ways To Remove Sun Tan Naturally)

    রোদে ঘুরে-ঘুরে চামড়া কালচে হয়ে গেছে? অনেক দামি-দামি প্রোডাক্ট ট্রাই করেও লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না, তাহলে ঠাকুমা-দিদিমার ঘরোয়া কয়েকটি টোটকা কাজে লাগান। কথা দিচ্ছি, এই ১৫টি home remedies কিন্তু ট্যান দূর করতে অব্যর্থ! আপনি রান্নাঘরেই অর্ধেক উপকরণ পেয়ে যাবেন আর খুব কম খরচে আপনার জেদি ট্যান দূর হবেই। তবে হ্যাঁ, নিয়মিত এই টোটকাগুলো (Home Remedies to Remove Tan) কিন্তু ট্রাই করতে হবে।

    ১। লেবুর রস ও গোলাপ জল (Rosewater & Lemon Juice)

    শাটারস্টক

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: এক টেবিল চামচ লেবুর রস, এক টেবিল চামচ গোলাপ জল, তুলো

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: উপকরণ দুটো একসঙ্গে মিশিয়ে তুলোয় করে ট্যান পড়া জায়গায় লাগিয়ে নিন। মিনিটদশেক বাদে মুখ ধুয়ে নিন বা নরম তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন।

    কেন ব্যবহার করবেন: লেবু ট্যান দূর করতে সাহায্য করে এবং গোলাপ জল ত্বকের নমনীয়তা বজায় রাখে

    কত দিন ব্যবহার করবেন: প্রতিদিন ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে একটু বেশি করে তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন একটি ছোট স্প্রে বটলে ভরে। বাইরে থেকে এসেই মুখে স্প্রে করে নিন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকের জন্যই ভাল

    ২। টোম্যাটো (Tomato)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: একটি মাঝারি আকারের পাকা টোম্যাটো

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: টোম্যাটো ভাল করে চটকে নিন এবং একটি ছাঁকনি বা কাপড়ের সাহায্যে ছেঁকে রস এবং খোসা, পাল্প ও বীজ আলাদা করে নিন। মুখে, গলায়, ঘাড়ে, হাতে, পায়ে – মানে শরীরের যে যে অংশে ট্যান পড়েছে সেখানে টোম্যাটোর রস লাগিয়ে নিন। ২০-২৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: টোম্যাটোর মধ্যে লাইকোপেন নামে একটি এনজাইম রয়েছে যা ন্যাচারাল সানস্ক্রিনের কাজ করে, এছাড়া টোম্যাটোতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ট্যান দূর করতে সাহায্য তো করেই, উপরন্তু ত্বকে পুষ্টিও যোগায়।

    কতদিন ব্যবহার করবেন: সপ্তাহে অন্তত দু’বার

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী তবে ত্বকে যদি কাটা-ছড়া থাকে বা কোনও ক্ষত থাকে, তা হলে এই ঘরোয়া টোটকাটি তখন প্রয়োগ করবেন না।

    ৩। ক্রিস্টাল স্ক্রাব (Crystal Sugar Scrub)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: একটি ছোট্ট বাটি, এক টেবিল চামচ চিনি (বড় দানা হলে ভাল), এক টেবিল চামচ পাতি লেবুর রস

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: চিনি এবং লেবুর রস বাটিতে নিন মিশিয়ে নিন। দেখবেন চিনি যেন একদম গুলে না যায়। এবারে ওই মিশ্রণ দিয়ে মুখের যে যে অংশে ট্যান পড়েছে সেখানে লাগিয়ে প্রথমে ক্লকওয়াইজ এবং পরে অ্যান্টি-ক্লকওয়াইজ মাসাজ করুন। মিনিটদশেক পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: লেবুর রস খুব ভাল কাজ করে ট্যান দূর করতে এবং ন্যাচারাল ব্লিচেরও কাজ করে ফলে ত্বক উজ্জ্বল দেখায়। এর সঙ্গে চিনি মিশিয়ে যে স্ক্রাব তৈরি করা হয়, তাতে ত্বকের উপরিভাগ থেকে মরা কোষ দূর হয়।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: সপ্তাহে একবার করলেই যথেষ্ট।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। তবে ত্বকে যদি কাটা-ছড়া থাকে বা কোনও ক্ষত থাকে, তা হলে এই ঘরোয়া টোটকাটি তখন প্রয়োগ করবেন না।

    ৪। শশা এবং দুধ (Cucumber & Milk)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: একটি মাঝারি আকারের শশা, কটন প্যাড এবং এক টেবিল চামচ দুধ

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: শশা কুরিয়ে নিন এবং ছেঁকে রস বার করে নিন। এবারে দুধের সঙ্গে শশার রস মিশিয়ে কটন প্যাডের সাহায্যে মুখে এবং শরীরের বাকি অংশে লাগিয়ে রেখে নিন। আধঘন্টা পর নরম একটি তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন।

    কেন ব্যবহার করবেন: শশা এবং দুধ – দুটো উপকরণই ত্বকের জন্য খুব ভাল ভাল। শশা ত্বকের জ্বালা-পোড়া কমায় এবং ত্বকের ভেতর থেকে ময়লা টেনে বার করে, অন্যদিকে দুধ ত্বকে আর্দ্রতা যোগায়। দুয়ে মিলে খুব ভাল অ্যান্টি-ট্যান ফরমুলার কাজ করে।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: প্রতিদিন করতে হবে, দিনে দু’বার করে।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী।

    ৫। টকদই (Yogurt)

    শাটারস্টক

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: পরিমাণমতো টক দই

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: ভাল করে টক দই ফেটিয়ে নিন এবং মুখে, গলায়, ঘাড়ে এবং বাকি ট্যান দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত অংশে লাগিয়ে নিন। মিনিট ২০ পর স্নান করে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: টক দই-এর মধ্যে এমন কিছু এনজাইম রয়েছে যা ট্যান দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের দাগ-ছোপ ও রুক্ষতাও দূর করে।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: প্রতিদিন স্নানের আগে ব্যবহার করুন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকের জন্য উপকারী এই ঘরোয়া টোটকা

    ৬। পাতি লেবু এবং আলু (Potato & Lemon)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: একটি মাঝারি আকারের আলু এবং এক টেবিল চামচ পাতি লেবুর রস

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: খোসাসুদ্ধ আলু কুরিয়ে নিন এবং তার সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবারে শরীরের যেখানে যেখানে ট্যানের সমস্যা রয়েছে সেখানে লাগিয়ে ফেলুন, ঠিক যেমন করে প্যাক লাগান তেমন করে। এক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: আলুতে ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে যা ত্বকের নানা দাগ-ছোপ দূর করতে সাহায্য করে।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন, তা সম্ভব না হলে একদিন অন্তর একদিন ব্যবহার করুন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব রকমের ত্বকের জন্য উপকারী।

    ৭। হলুদ এবং বেসন (Turmeric & Besan)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: দুই টেবিল চামচ বেসন, এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো, এক টেবিল চামচ গোলাপ জল এবং এক টেবিল চামচ কাঁচা দুধ

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: প্রতিটি উপকরণ মিশিয়ে একটি স্মুদ পেস্ট তৈরি করুন এবং যেখানে ট্যান রয়েছে সেখানে লাগিয়ে নিন। এবারে মিনিট ২০ অপেক্ষা করুন অথবা যতক্ষণ না পর্যন্ত এই প্যাকটি শুকোচ্ছে ততক্ষণ অপেক্ষা করুন। প্যাক শুকিয়ে গেলে সামান্য জল দিয়ে স্ক্রাব করুন পাঁচ মিনিট এবং তারপর ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: এক্সফোলিয়েট করার ক্ষেত্রে অর্থাৎ ত্বকের মরাকোষ দূর করতে বেসন খুব ভাল কাজ করে এবং হলুদ হল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক। ফলে ট্যান দূর করার সঙ্গেই ত্বক নরম এবং উজ্জ্বল করে তোলে এই ঘরোয়া টোটকা।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: একদিন অন্তর একদিন ব্যবহার করুন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী।

    ৮। চন্দন বাটা (Sandalwood Paste)

    শাটারস্টক

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: দুই টেবিল চামচ চন্দন বাটা অথবা দুই টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়ো এবং জল

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: যদি আপনি চন্দন বাটা ব্যবহার করেন তা হলে চন্দন কাঠ পাটায় ঘষে বেটে নিন এবং মুখে লাগিয়ে নিন। সারা রাত রেখে দিন এবং সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলুন। কোনও ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন না।যদি চন্দনের গুঁড়ো ব্যবহার করেন তা হলে পরিমাণ মতো জল এবং চন্দনের গুঁড়ো মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করে সারারাত মুখে লাগিয়ে রেখে দিন এবং সকালে উঠে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: চন্দন ত্বকের নানা সমস্যার সঙ্গে জ্বালা-পোড়াভাবও দূর করে। সানবার্নের ফলে ত্বকের যে ক্ষতি হয় এবং ট্যান পড়ে তা দূর করার জন্য চন্দন খুব উপকারী।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: প্রতিদিন রাতে শোওয়ার আগে ব্যবহার করতে হবে।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: শুষ্ক ত্বকের অধিকারিণীরা এই প্যাকটি ব্যবহার করবেন না, বাকি সবাই করতে পারেন।

    ৯। মধু এবং আনারস (Honey & Pineapple)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: এক টেবিল চামচ আনারস (থেঁতো করা) এবং এক চা চামচ মধু

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: মধু এবং আনারস ভাল করে থেঁতো করে মুখে মিনিট ২০ রেখে দিন। হতে পারে একটু টান ধরবে, তখন প্যাক শুকিয়ে গেছে বুঝবেন। এবারে জল দিয়ে ভাল করে মুখ ধুয়ে নিন।

    কেন ব্যবহার করবেন: আনারসের মধ্যে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি রয়েছে যা ত্বক ভেতর থেকে মেরামত করে এবং ত্বকের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও আনারসে ব্রোমেলাইন নামে একটি এনজাইম রয়েছে যা মরাকোষ দূর করতে এবং ট্যান দূর করতে সাহায্য করে। মধু ত্বক মসৃণ করে এবং ত্বকের জ্বালা-পোড়া কমাতে সাহায্য করে।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: প্রতিদিন এই প্যাক ব্যবহার করতে হবে

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকেই এই টোটকা ব্যবহার করা যায়।

    ১০। মুসুর ডাল বাটা (Masoor Dal Pack)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: এক টেবিল চামচ মুসুর ডাল বাটা, এক টেবিল চামচ টোম্যাটোর রস এবং এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেল

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: প্রতিটি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি স্ক্রাব তৈরি করে ফেলুন এবং মুখে, ঘাড়ে, গলায়, হাতে, পায়ে এবং শরীরের বাকি অংশে (ট্যান দ্বারা খতিগ্রস্থ অংশে) লাগিয়ে মিনিট সাতেক হালকা হাতে স্ক্রাব করুন। এবারে আধঘণ্টা ওই স্ক্রাব রেখে দিয়ে পরে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: মুসুর ডাল খুব ভাল প্রাকৃতিক স্ক্রাব এবং তার সঙ্গে যখন আপনি টোম্যাটো এবং অ্যালভেরা মেশাচ্ছেন তখন একটি শক্তিশালী tan removal pack তৈরি হয়ে যাচ্ছে। টোম্যাটো ন্যাচারাল ব্লিচের কাজ করে এবং অ্যালোভেরা ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে ত্বক নমনীয় করে তোলে।

    কতদিন ব্যবহার করবেন: প্রথম দু’সপ্তাহের জন্য একদিন অন্তর একদিন ব্যবহার করুন এবং তারপর থেকে দু’সপ্তাহে একবার করে ব্যবহার করুন এই ঘরোয়া টোটকা।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকের জন্যই উপযোগী। তবে আপনার ত্বকে কোথাও যদি কেটে-ছড়ে যায় বা কোনও ক্ষত থাকে তাহলে এই প্যাকটি ব্যবহার করবেন না যতদিন না পর্যন্ত ক্ষত সারছে।

    ১১। মুলতানি মাটি (Multani Mitti)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: দুই টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল (অ্যালোভেরার পাতা থেকে সরাসরি জেল বার করে কখনও ব্যবহার করবেন না) এবং এক চা চামচ গোলাপ জল

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: একটি বাটিতে (যদি আপনার কাছে পাথরের বা ফাইবারের বাটি থাকে তাহলে সেটি ব্যবহার করুন) মুলতানি মাটি, অ্যালোভেরা জেল এবং গোলাপজল মিশিয়ে একটি স্মুদ পেস্ট তৈরি করে যেখানে ট্যানের সমস্যা হয়েছে সেখানে ওই পেস্ট লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে অল্প অল্প জল দিয়ে স্ক্রাব করতে করতে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: মুলতানি মাটি যদিও ত্বকের অতিরিক্ত তেল দুরতে সাহায্য করে তবে ত্বকের নানা দাগ-ছোপ, মরাকোষ এবং পিগমেন্টেশন দূর করতেও সাহায্য করে। এছাড়া ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ফিরিয়ে আনতে এবং তা ধরে রাখতেও সাহায্য করে মুলতানি মাটি।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: সপ্তাহে দু’বার এই প্যাক ব্যবহার করুন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: শুষ্ক ত্বকের জন্য এই প্যাক উপযোগী নয়। কারণ, মুলতানি মাটি ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করতে সাহায্য করে। তবে যদি আপনার অয়েলি স্কিন হয় তাহলে কিন্তু এই প্যাকটি ট্যান দূর করার জন্য খুবই কার্যকরী হবে।

    ১২। কাঁচা পেঁপে (Papaya)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: কয়েক টুকরো কাঁচা পেঁপে

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: আপনার যদি হাতে বা পায়ে ট্যান পড়ে তাহলে এই ঘরোয়া টোটকাটি ব্যবহার করুন। মুখে ব্যবহার না করাই ভাল কারণ হাত বা পায়ের তুলনায় মুখের ত্বক অনেক বেশি নরম হয়। কয়েক টুকরো কাঁচা পেঁপে কুরিয়ে নিন অথবা ব্লেন্ডারে দিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবারে যেখানে যেখানে ট্যান পড়েছে সেখানে ওই পেস্টটি লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর উষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: কাঁচা পেঁপের রসে এক ধরনের এনজাইম রয়েছে যা ত্বকের মরাকোষ দূর করে, পিগমেন্টেশন অর্থাৎ কালচে ছোপ দূর করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: একদিন অন্তর একদিন এই উপায়টি ট্রাই করুন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: আপনার ত্বক যদি সংবেদনশীল হয় তা হলে এই টোটকাটি ব্যবহার করবেন না, বাকিরা করতে পারেন।

    ১৩। বরফ (Ice Cube)

    শাটারস্টক

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: দু-একটি বরফের কিউব

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: বরফের কিউব নিয়ে আলতো হাতে ট্যানগ্রস্থ অংশে ঘষে নিন, ব্যস!

    কেন ব্যবহার করবেন: ট্যানের সবচেয়ে বড় কারণ হল রোদ এবং সানবার্ন। সানবার্ন হতে থাকলে ট্যান তো কমেই না উল্টে ত্বকে জ্বালা-পোড়ার সমস্যা তৈরি হয়। বরফ কিন্তু এই সমস্যা সমাধানে অব্যর্থ! বরফ ত্বককে শীতল করে এবং সানবার্নের সমস্যার সঙ্গে ট্যানের সমস্যাও দূর করে।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: যখন প্রয়োজন তখন ব্যবহার করুন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সংবেদনশীল ত্বক এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য খুব ভাল এই ঘরোয়া টোটকা

    ১৪। গ্রিনটি (Green Tea)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: একটি গ্রিন টি ব্যাগ, এক কাপ গরম জল, তুলোর বল

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: এক কাপ জল গরম করে তাতে গ্রিন টি ব্যাগ চুবিয়ে নিয়ে গ্রিন টি তৈরি করে নিন। এবারে ঠান্ডা হলে তুলোর বলের সাহায্যে যেখানে-যেখানে ট্যানের সমস্যা হয়েছে, সেখানে গ্রিন টি লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: গ্রিন টি ন্যাচারাল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসে ভরপুর যা ত্বকের উপরিভাগ থেকে ট্যান দূর করতে সাহায্য করে।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: দিনে দু’বার ব্যবহার করুন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকেই এই ঘরোয়া টোটকাটি ব্যবহার করা যায়।

    ১৫। চালের গুঁড়ো (Rice Flour)

    কী কী উপকরণ প্রয়োজন: দুই টেবিল চামচ চালের গুঁড়ো, এক টেবিল চামচ টোম্যাটোর রস, সামান্য গোলাপ জল (না থাকলে প্লেন জল ব্যবহার করুন) এবং এক চিমটি হলুদ গুঁড়ো

    কীভাবে ব্যবহার করবেন: প্রতিটি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে একটি স্মুদ পেস্ট তৈরি করে নিন। এবারে মুখে, ঘাড়ে, গলায় এবং শরীরের বাকি অংশে যেখানে ট্যান পড়েছে সেখানে লাগিয়ে ১০-১২ মিনিট রেখে দিন এওং শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।

    কেন ব্যবহার করবেন: আমাদের ত্বকে মেলানিন বেড়ে গেলে ত্বক কালচে হয়ে যায় এবং একেই ট্যান বলা হয়। চালের গুঁড়ো মেলানিন দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের উপরিভাগের মরাকোষ দূর করে ত্বক নরমও করে।

    কত দিন ব্যবহার করবেন: সপ্তাহে দু’বার করে এই ঘরোয়া টোটকা ট্রাই করুন।

    কেমন ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত: সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত।

    ট্যান পড়া রোধ করার জন্য কী কী করা উচিত (Ways To Prevent Tanning)

    শাটারস্টক

    শুধুমাত্র ত্বকের যত্ন নিলেই তো আর হবে না, যাতে ট্যান না পড়ে সে ব্যবস্থাও তো করতে হবে তাই না? না না বাইরে বেরতে বারন করছি না একদম! তবে  কয়েকটি বিষয় একটু মাথায় রাখলে কিন্তু ট্যানের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন –

    ১। সবসময়ে ছাতা নিয়ে বেরোন।

    ২। দিনের বেলা যখনই বেরবেন, সানস্ক্রিন না লাগিয়ে বেরবেন না। প্রয়োজনে সানব্লক ব্যবহার করুন।

    ৩। যদি আপনি বাড়িতেই থাকেন, তা হলেও কিন্তু সানস্ক্রিন লাগাবেন কারণ ক্ষতিকর ইউ ভি রশ্মি কিন্তু দরজা-জানলা দিয়েও প্রবেশ করে।

    ৪। ক্রিম-বেসড মেকআপের বদলে মিনারেল-বেসড মেকআপ ব্যবহার করুন।

    ৫। সারাদিনে ১৫-২০ গ্লাস জল পান করুন যাতে শরীরের টক্সিন বের হয় এবং ত্বক আর্দ্র থাকে। এতে ট্যান পড়ার আশঙ্কা কম হয়। প্রচুর পরিমাণে ফল, বিশেষ করে ভিটামিন সি এবং ফাইবারযুক্ত ফল খান, এতে ত্বক ভিতর থেকে সুস্থ থাকে।

    ৬। সারাদিনে কম করে তিন থেকে চারবার প্লেন জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হলে দু’বারের বেশি ব্যবহার করবেন না। যদি আপনার ত্বক খুব তেলতেলে হয়, তা হলে ব্যাগে ওয়েট টিসু অথবা ব্লটিং স্ট্রিপ রাখুন এবং প্রয়োজনে অয়েল কন্ট্রোল করার জন্য ব্যবহার করুন।

    ট্যান সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)

    ১। প্রশ্ন: আমার ত্বকে ট্যান আছে, ফেসিয়াল করা কি উচিত?

    উত্তর: নিশ্চয়ই! আপনার মুখে যদি ট্যান পড়ে, তা হলে আপনি তা দূর করার জন্য ফেসিয়াল করতে পারেন। এমন কোনও প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন যাতে হলুদ এবং আনারসের নির্যাস রয়েছে। এতে ট্যান তাড়াতাড়ি দূর হয়।

    ২। প্রশ্ন: সানস্ক্রিন কি ট্যান দূর করে?

    উত্তর: সূর্যের ক্ষতিকর ইউ ভি রশ্মির প্রভাব থেকে আমাদের ত্বক রক্ষা করার কাজটা সানস্ক্রিন করে, কিন্তু ত্বকের মেলানিন রোধ করা সানস্ক্রিনের কাজ নয়। তবে আপনি যদি কোনও সানব্লকযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন যার এস পি এফ-এর মাত্রা যথেষ্ট বেশি, তা হলে ট্যানের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে পারেন।

    ৩। প্রশ্ন: ট্যান পড়লে কি ত্বক চিরকালের মতো কালচে হয়ে যায়?

    উত্তর: একদম নয়। আমাদের শরীরের কোষ একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর বদলাতে থাকে। নতুন কোষ তৈরি হওয়ার পরেও যদি ত্বকের উপর থেকে মরা কোষ দূর না করা হয় তা হলে ভিতরের উজ্জ্বল ত্বক ফুটে উঠতে পারে না এবং তখন মনে হয় ত্বক চিরদিনের মতো কালচে হয়ে গেছে। কাজেই নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়াটা প্রয়োজন।

    ৪। প্রশ্ন: সানবার্ন আর সানট্যান কি এক নাকি কোনও তফাত আছে?

    উত্তর: সূর্যের ইউ ভি রশ্মিদ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের লক্ষণ হল ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া। যাকে আমরা বলি ট্যান। তবে অনেকেরই বেশিক্ষণ রোদে ঘুরলে ত্বকে র‍্যাশ বেরোয় অথবা অনেক সময় ত্বকের উপরিভাগের চামড়া ফেটে গিয়ে রক্তও বের হতে পারে এবং ত্বকে জ্বালা করে; একে বলা হয় সানবার্ন।

    ৫। প্রশ্ন: মোটামুটি কতদিন সময় লাগতে পারে ট্যান দূর করতে?

    উত্তর: এক-একজনের ত্বকের ধরন এক এক রকম। কাজে এক-একজনের এক-একরকম সময় লাগতে পারে ট্যান দূর হতে। ত্বকের যত্ন নিলে এবং ট্যান হওয়া প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে মোটামুটি সপ্তাহদুয়েকের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়।

    POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজিহিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

    এগুলোও আপনি পড়তে পারেন

    সুস্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে ছোলার ডালের নানা উপকারিতা

    আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!