মাছে-ভাতে বাঙালি! জেনে নিন, নানা রকমের মাছ খাওয়ার উপকারিতা (Eating Fish Health Benefits)

মাছে-ভাতে বাঙালি! জেনে নিন, নানা রকমের মাছ খাওয়ার উপকারিতা (Eating Fish Health Benefits)

কথায় বলে, মাছে-ভাতে বাঙালি! কথাটি অক্ষরে-অক্ষরে সত্যি। ভারতের অন্যান্য প্রদেশেও মাছ (Fish) খাওয়ার প্রচলন আছে। তবে নানা প্রকারের মাছ বিভিন্ন স্টাইলে রান্না করায় বাঙালিকে কেউ হারাতে পারবে না। বাঙালি ছাড়াও ভারতের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে মাচের বিভিন্ন পদ বিশেষ জনপ্রিয়। আমাদের যেমন ইলিশ ভাপে খুবই সুস্বাদু ঠিক তেমনই দুর্দান্ত খেতে গোয়ার ফিশ কারি বা ম্যাঙ্গালোরের মছলি ফ্রাই। পশ্চিমবঙ্গে মাছ শুধু একটি পদ হিসেবে নয়, পূজা অর্চনাতেও মাছ লাগে। পূর্ববঙ্গের বাঙালি বা যারা বাঙাল তাঁরা লক্ষ্মী ও স্বরস্বতী পুজোর সময় জোড়া ইলিশ দেবিকে দান করে। কারণ বাঙালরা মনে করে এই দুই দেবীই বিবাহিতা ফলে তাঁদের মাছ খাওয়া উচিত। বহু বাঙালি বাড়িতে আজও বিবাহিতা মহিলারা বৃহস্পতিবার মাছ ছাড়া খান না। কারণ তাঁরা মনে করেন এতে তাঁদের স্বামীদের আয়ু বৃদ্ধি হয়। বিয়ের সময়ও ছেলের বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়িতে গায়ে হলুদের ত্বত্তে মাছ দেওয়া হয়। বোঝাই যাচ্ছে মাছের গুরুত্ব। এটি শুধু একটি পদ নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। মাছ খেলে কী-কী লাভ (Benefits) হয় সেই নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। আসুন দেখে নেওয়া যাক স্বাস্থ্য (Health) রক্ষায় মাছ খাওয়ার উপকারিতা।

আরও পড়ুনঃ বড়দিনের খাওয়ার সুস্বাদু মাছের রেসিপি

Table of Contents

    প্রতিদিনের ডায়েটে মাছ কেন রাখব (Benefits Of Eating Fish Daily)

    pexels.com

    একথা সত্যি যে, অন্যান্য প্রদেশে যেখানে সপ্তাহে এক বা দুইদিন মাছ খাওয়া হয়, সেখানে বাঙালি বাড়িতে ও ভারতের উপকূল অঞ্চলের অধিবাসীরা রোজ মাছ খান। রোজ মাছ কেন খাবেন? এই প্রশ্ন মনে জাগতেই পারে। আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। দেখে নিন, কেন রোজ মাছ খেতে পারেন।

    ১| এতে আছে ভাল ফ্যাট (Food Rich In Fat Content)

    ফ্যাট মানেই সেটা খারাপ নয়। মাছে আছে ভাল ফ্যাট। এতে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যা চোখ ও বুদ্ধির বিকাশে কাজ দেয়। হবু মায়েদের তাই মাছ খেতে বলা হয় যাতে গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্কের বিকাশ হয় এবং চোখ ভাল থাকে।

    ২| হার্ট ভাল রাখে (Good For Heart Health)

    মুরগি বা পাঁঠার মাংসে যে পরিমাণ প্রোটিন থাকে, তার চেয়ে অনেক বেশি প্রোটিন মাছে থাকে। যে কোলেস্টরলের ভয়ে আপনি ভীত থাকেন প্রতিদিন মাছ খেলে সেটা কিন্তু অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। এতে যে ফ্যাট থাকে সেটা সহজে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 

    ৩| ভিটামিনের ভাণ্ডার (Vitamin Repository)

    এটা আছে অত্যন্ত দরকারি ভিটামিন ডি। এই ভিটামিন শরীরের সামগ্রিকভাবে ভাল থাকার জন্য দরকার। সুতরাং মাছ খেলে আপনার শরীরে ভিটামিন ডি’র অভাব হবে না।

    ৪| মানসিক অবসাদ কমায় (Helps To Overcome Mental Fatigue)

    মাছে যে ভিটামিন ডি, ডিএইচএ ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে সেগুলো সবটাই অ্যান্টি-ডিপ্রেশানের জন্য দারুণ কার্যকরী। প্রতিদিন মাছ খেলে শুধু আপনার শরীর নয় মন ও ভাল থাকবে।

    ৫| রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে (Boosts Immunity)

    মাছে এমন অনেক জরুরি উপাদান আছে যা আপনার শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। প্রতিদিন মাছ খেলে আরথারাইটিস ও ডায়বেটিসের মতো রোগ শরীরে থাবা বসাতে পারে না।

    বাঙালিদের মধ্যে কোন-কোন মাছ জনপ্রিয় (Popular Fishes Bengalis Love To Eat)

    pexels.com

    বাঙালির খাওয়ার পাতে এক টুকরো মাছ ছাড়া চলে না। ভাজা হোক, ঝোল হোক বা ঝাল, মাছ না হলে মনে হয় কিছুই খেলাম না। মৎস্যপ্রিয় বাঙালি সমুদ্র এবং নদী দুই জায়গার মাছই খেতে ভালবাসে। তবে পশ্চিমবঙ্গ নদীমাতৃক হওয়ার দরুন এখানে নদীর মাছের চাহিদা সামান্য হলেও বেশি। নদীর মাছ অর্থাৎ যেগুলো মিষ্টি জলের মাছ আর সমুদ্রের মাছ হল নোনা জলের মাছ। সেগুলো কোনগুলো দেখে নেওয়া যাক।  

     

    কোন কোন সামুদ্রিক বা নোনা জলের মাছ আমরা খাই (Sea Fish That Bengalis Prefer Eating)

    ইউরোপ বা আমেরিকার মতো এই দেশে সামুদ্রিক মাছ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বা বাঙালিদের মধ্যে সমুদ্রের মাছ অতটা জনপ্রিয় নয়। তবে উপকূল অঞ্চলের মানুষ সমুদ্রের মাছ খায়। বাঙালিরাও যে অল্প বিস্তর সামুদ্রিক মাছ খান না, তা নয়। রোজকার পাতে না থাকলেও মাঝে মাঝে এই মাছ খাওয়া হয়। সমুদ্রের কোন কোন মাছ আমরা খাই দেখে নেওয়া যাক।

    ১| ইলিশ (Hilsa)

    সমুদ্রের মাছ বলতেই প্রথমেই মাছের রাজা ইলিশের কথাই মনে পড়ে। যদিও এই মাছ সমুদ্রের তবে এই মাছ ডিম পাড়ে নদীতে গিয়ে। বর্ষাকালে বাঙালির পাতে ইলিশ না থাকলে সবার মন খারাপ হয়ে যায়। ইলিশ এখান থেকে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।

    ২| পমফ্রেট (Pomfret or Butterfish)

    ইলিশের পরেই যে সামুদ্রিক মাছের জনপ্রিয়তা সেটা হল পমফ্রেট।প্রশান্ত মহাসাগর আর ভারত মহাসাগরে এই মাছ পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় অতলান্ত মহাসাগরে। একে অ্যাটলানটিক পমফ্রেট বলা হয়।

    ৩| ভেটকি (Barramundi)

    স্বাদে এবং দামের দিক দিয়ে বিচার করলে ইলিশের পরেই আসে ভেটকির নাম। একে বলা হয় মাছের রাজা। ভেটকি মাছ বাঙালি বিয়ের মেনুর অপরিহার্য অংশ। 

    ৪| সারডিন (Indian Oil Sardine or Tarali)

    সারডিন মাছ ভারতে খুব জনপ্রিয়। স্বাদে এই আমছ অনেকটাই ইলিশের মতো খেতে। ভারত মহাসাগরের উত্তর দিকে এই মাছের প্রজনন খুব বেশি। ভারতে এই মাছকে তরালি বলে।  

    ৫| ম্যাকরেল (Indian Mackerel or Bangda)

    ম্যাকরেল ও নোনা জলের মাছ। অর্থাৎ এটি সমুদ্রে পাওয়া যায়। তবে সমুদ্রের খুব গভীরে এদের ঝাঁক থাকেনা। এরা অগভীর জলেই থাকে। কেরালা আর মহারাষ্ট্রে এই মাছ অনেক বেশি পাওয়া যায়।  

    ৬| টুনা (Tuna Fish)

    টুনা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় ভারত মহাসাগরে। এই মাছ ভাজা খুবই জনপ্রিয়। ইয়েলো ফিন টুনা পাওয়া যায় গোয়া আর কেরালায়।

    ৭| স্যামন (Indian Samon or Rawas)  

    স্যামন একটু কাদার দিকে থাকতে ভালবাসে। অর্থাৎ সমুদ্রের মাছ হলেও এরা বেশি গভীরে যায় না। গ্রিলড স্যামন এখানে খুব জনপ্রিয়। গুজরাত আর মহারাষ্ট্রের উপকুলে এই মাছ অনেক বেশি পাওয়া যায়।

    নদীর বা মিষ্টি জলের কোন কোন মাছ আমরা খাই (Popular Freshwater Fishes)

    মোটামুটি নদীর মিষ্টি জলের মাছ আমরা সবগুলোই খাই। তার মধ্যে কয়েকটি মাছ বিশেষ জনপ্রিয়। সেই মাছগুলি হল :

    ১| রোহু বা রুইমাছ (Labeo Rohita)

    রুই মাছ বাঙালিদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। রুই মাছের কালিয়া বাঙালি বিয়ের একটি অত্যন্ত অপরিহার্য পদ। এটি কার্প ফ্যামিলির মাছ। মোটামুটি ভারতের সব নদীতেই এই মাছ পাওয়া যায়।

    ২| কাতলা (Indian Carp)

    রুই ছাড়াও আরও একটি জনপ্রিয় নদীর মাছ হল কাতলা। কাতলা শুধু ঝোল বা কালিয়া হিসেবে রাঁধা হয় না। কাতলা মাছের মাথা দিয়ে নানা রকম রান্না করা হয়। অসুস্থ রোগীদের অনেক সময় কাতলা মাছের পাতলা ঝোল খেতে বলা হয়।

    ৩| মৃগেল (Mrigal Carp)

    মৃগেলও নদীর মাছ। এটি খেতে স্বাদে মিষ্টি। রুই আর কাতলার মতো এটিও কার্প ফিশ বা কার্প পরিবারের মাছ। ভারতের দক্ষিণে কাবেরী নদীতে এই মাছ প্রচুর পাওয়া যায়।

    ৪| তেলাপিয়া (Cichlid Fish)

    তেলাপিয়া মাছের ঝোল গরমকালে বিশেষভাবে বাঙালি বাড়িতে হয়ে থাকে। অনেকে মনে করেন এই মাছ খুবই বলবর্ধক এবং পেট ঠান্ডা রাখে। তাই জ্বর হলে বা শরীরে বল কম থাকলে এই মাছ খাওয়া হয়। ছোট তেলাপিয়া খুবই সুস্বাদু।

    ৫| ট্যাংরা (Mystus Tengara)

    ট্যাংরা মাছ দু প্রকারের হয়। একটি হল দিশি ট্যাংরা যা স্বাদে অতি উত্তম। আরেকটি হল হাইব্রিড ট্যাংরা যা খুব একটা ভাল নয় খেতে। এটি ক্যাটফিশ পরিবারের মাছ। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও উড়িষ্যা ও ছত্তিশগড়ে এই মাছ পাওয়া যায়।

    ৬| মাগুর (Walking Catfish)

    মাগুরের জনপ্রিয়তা অন্য কারণে। সিঙ্গি আর মাগুর এমন দুটো মাছ যা রোগীর পথ্য হিসেবে জনপ্রিয়। সেই কারণেই এই মাছের দাম বেশি। সিঙ্গি ও মাগুর দুটোই জিওল মাছ। অর্থাৎ মাটির হাঁড়িতে অল্প জল দিয়ে রাখলে অনেকদিন বাঁচে। মাগুর মাছে রক্ত পরিশ্রুত হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।  

    ৭| পাবদা (Ompok Fish)

    পাবদা মাছ বলতে বাঙালিরা অজ্ঞান। পশ্চিমবঙ্গে এই মাছ প্রচুর পাওয়া যায়। এই মাছের ডিমও খাওয়া হয়। বাঙালিরা সর্ষে দিয়ে এই মাছ রাঁধেন।

    এছাড়াও নদীর মাছের মধ্যে আছে পার্সে, গুলে, ফলুই, পুঁটি ইত্যাদি মাছও নদীতে পাওয়া যায়।

    মাছ খাওয়ার উপকারিতা কী কী (Fish Benefits)

    pexels.com

    প্রতিদিনের ডায়েটে কেন মাছ রাখবেন সেকথা আগেই আপনাদের বলেছি। এর থেকেই মাছ খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আপনাদের ধারণা স্পষ্ট হয়েছে। স্বাস্থ্য রক্ষায় তো বটেই, আমাদের ত্বক ও চুল সুন্দর রাখতে গেলে এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্যও মাছ খুব উপকারি।

    ১| হার্ট ভাল রাখার জন্য (Keep Your Heart Healthy)

    মাছ খেলে হার্ট ভাল থাকে একথা আগেও বলেছি। কারণ এতে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এটি কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখে। শুধু তাই নয়, ডিম, দানা শস্য এবং মুরগির মাংস থেকে আমাদের শরীরে ওমেগা সিক্স ফ্যাটি অ্যাসিড ঢোকে। এটি রক্ত ঘন করে দেয়। মাছের ওমেগা থ্রি এই ওমেগা সিক্সকে বেশি শক্তিশালী হতে দেয়না।

    ২| মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায় (Improve Your Brain Power)

    এর মধ্যে যে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে অর্থাৎ ইপিএ আর ডিএইচএ মস্তিষ্কের বিকাশে অত্যন্ত কার্যকরী। এই উপাদান ব্রেনের কোষ তাজা রাখে এবং বুদ্ধির বিকাশ ঘটায়।

    ৩| মুড সুইং রোধ করে (Control Mood Swings)

    মাছ খেলে যে মানসিক অবসাদ অনেকটাই কমে সেটা আগেই বলেছি। কেন কমে সে ব্যাপারেও আপনারা জেনে গেছেন। তবে আপনাদের বলে রাখি যে এটি শুধু মানসিক অবসাদ নয়, মানসিক অস্থিরতাও কমায় এবং যখন তখন মুড সুইং হওয়াও রোধ করে।

    ৪| গর্ভবতী মহিলাদের জন্য (Good For Pregnant Woman)

    pexels.com

    ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ডিএইচএ, গর্ভস্থ ভ্রুনের বুদ্ধির বিকাশে খুব কার্যকরী। শিশুর চোখ, হাড় ইত্যাদির বিকাশ ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্নায়ু মণ্ডলের বিকাশেও মাছ সাহায্য করে। তাই গর্ভবতী মহিলাদের মাছ খাওয়া দরকার।

    ৫| ত্বক ও চুলের যত্নে (Skin & Hair Care)

    প্রতিদিন মাছ খেলে শরীরে কোলাজেন বৃদ্ধি পায়। যেহেতু কোলাজেন ত্বক এবং চুল, দুটোর জন্যই ভাল, সেহেতু মাছ খেলে এই দুটোই উজ্জ্বল ও সুস্থ থাকে। মাছের এই গুণ আছে যে সে সেল মেম্ব্রেনের মধ্যে তরল ভাব বজায় রাখে। জার জন্য শুষ্ক ত্বকে আর্দ্রতা আবার ফিরে আসে এবং চুলও নরম আর শাইনি হয়।

    ৬| প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে (Nutrient-Rich Food)

    ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ছাড়াও এতে আছে ভিটামিন ডি, আয়োডিন, অসংখ্য ভিটামিন ও খনিজ। এর প্রত্যেকটাই আমাদের সুস্থ থাকার জন্য এবং রোগ প্রতিরধের জন্য দরকার। তাই মাছ খেলে আমাদের অনেকগুলো সমস্যার সমাধান একসঙ্গে হয়ে যাবে।

    ৭| হাঁপানি কমায় (Treats Asthma Naturally)

    মাছে যেহেতু ফাইবার আছে সেহেতু দেখা গেছে যে মাছ খেলে আস্থেমা বা হাঁপানির প্রকোপ অনেকটাই কমে যায়। বিশেষ করে শিশুদের খাবারে মাছ দিলে তাঁদের হাঁপানি হওয়ার আশঙ্কা কম হয়।

    ৮| চোখের যত্নে (Helps In Eye Care)

    pexels.com

    যাঁদের চোখের সমস্যা হয় তাঁদের ডাক্তার মাছ খেতে বলেন। বিশেষ করে মাছের ছাল বা তেল তাঁদের পক্ষে খুবই ভাল। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড যা মাছে থাকে সেটি চোখ ভাল রাখে। রেটিনা সুস্থ রাখে এবং ড্রাই আইজ বা চোখের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে।

    ৯| হাড়ের সমস্যা কমায় (Reduces Bone Problems)

    pexels.com

    এতে আছে ভিটামিন ডি। ভিটামিন ডি হাড় মজবুত রাখে। তাই মাছ খেলে হাড়ের সমস্যা অনেকটাই দূর হয়। বিশেষ করে যাঁদের আরথারাইটিস আছে তাঁদের পক্ষে এটা খুব ভাল।

    ১০| ওজন কমায় (Reduces Weight)

    অন্যান্য খাবারের চেয়ে মাছ অনেক বেশি সহজপাচ্য। তাই আমছ খেলে আপনার মেটাবোলিজম অনেক দ্রুত হয় ফলে ওজনও অনেক নিয়ন্ত্রণে থাকে। মাছ খেলে মোটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারেই থাকে না।  

    মাছ খাওয়ার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (Side Effects Of Eating Fish)

    pexels.com

    মাছ খাওয়ার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। তবে এর বেশিরভাগতাই পরিবেশ ও দূষণ জনিত। যেমন মাছের পেতে অনেক সময় পারদ মা মারকিউরি পাওয়া যায়। এটি শরীরের পক্ষে একদমই ভাল নয়। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে মাছের পেটে পাওয়া যাচ্ছে প্লাস্টিক। প্লাস্টিক যে পচনশীল নয় সেটা আপনারা জানেন। এই অবস্থায় মাছ খেলে সেটি শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর হবে। তাছাড়া অনেক সময় যারা পুকুরে মাছ চাষ করেন, তাঁরা পুকুরে পোকা মাকড় বা আগাছা মারতে কীটনাশক ব্যবহার করেন। এটি মাছেরাও খায়। আর সেই আমছ আমরা খেলে সেটা আমদেরও পেটে যায়। এইসব কারণে গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মাছ ভাল হলেও অনেকেই তাঁদের মাছ খেতে বারণ করেন। তাঁরা মাছ খেতে চাইলে অনেক বেশি সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। নাহলে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হবে।

    এছাড়াও অনেকেরই সিফিশ বা সমুদ্রের মাছে অ্যালার্জি থাকে। নোনা জলের হওয়ার দরুন এই জাতীয় মাছ তাঁদের শরীরে সহ্য হয়না। অবশ্য তাঁরা নদীর মাছ খেতে পারেন।  

    মাছ নিয়ে কয়েকটি জরুরি প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)

    ১। প্রশ্ন: প্রতিদিন কি মাছ খাওয়া যায়?

    উত্তর: মাছে আপনার কোনও অ্যালার্জি না থাকলে আপনি নিশ্চয়ই মাছ খেতে পারেন। তবে বর্তমানে অতিরিক্ত দূষণের কথা মাথায় রেখে বলা হচ্ছে সপ্তাহে তিবার মাছ খেতে।

    ২। প্রশ্ন: মাছ কি শিশুদের জন্য ভাল?

    উত্তর: হ্যাঁ। শিশুদের বুদ্ধির বিকাশে এবং চোখ ভাল রাখতে মাছের সক্রিয় ভূমিকা আছে। এছাড়া মাছ শিশুদের হাড়ও মজবুত করে। তবে আপনাকে মাছের কাঁটা বেছে দেওয়ায় আপনাকে সাহায্য করতে হবে।

    ৩। প্রশ্ন: অলিভ অয়েলে মাছ রান্না করলে কি বেশি ভাল হয়?

    উত্তর: আপনি সর্ষের তেল বা সাদা তেলেও মাছ রান্না করতে পারেন। অলিভ অয়েলের নিজস্ব কিছু গুণাবলী অবশ্যই আছে। তবে আপনি এই তেলে অভ্যস্ত না হলে যেটা দিয়ে রাঁধেন সেটাই ব্যবহার করুন।

    ৪। প্রশ্ন: যাঁদের কোলেস্টরল আছে তাঁরা কি মাছ খেতে পারেন?

    উত্তর: একশবার। উল্টে যাঁদের কোলেস্টরল আছে তাঁদের বেশি করে মাছ খাওয়া উচিত। কারণ মাছ ভাল কোলেস্টরল তৈরি করে খারাপ কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ করে।

    ৫। প্রশ্ন: কোল্ড স্টোরেজের মাছ কি খাওয়া উচিত?

    উত্তর:  না। কারণ এতে মাছের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া অনেক সময় যে বরফ দিয়ে এই মাছ রাখা হয় তার গুণগত মান একেবারেই ভাল নয়। তাই তাজা মাছই খাওয়া উচিত।

    POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!
    আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!