প্রেগন্যান্সির পরে ত্বকের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনুন ঘরোয়া উপায়ে

প্রেগন্যান্সির পরে ত্বকের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনুন ঘরোয়া উপায়ে

প্রেগন্যান্সি (pregnancy) এমন একটা সময়, যখন মেয়েরা এতটাই আশা-আকাঙ্খার দোলাচলে থাকেন যে, নিজের চেয়েও আগামী সন্তানের কথাটাই তাঁদের বেশি করে সব সময় মনে পড়ে। তাই তখন তাঁরা খাবার খান তার কথা ভেবে, এক্সারসাইজ করেন তার কথা ভেবে! তা ছাড়া এই সময়ে শরীরে নানা ধরনের হরমোনের খেলাও শুরু হয়। সব মিলিয়ে সন্তান এসে যাওয়ার পরে মায়েদের চেহারার যা হাল হয়, তা আর কহতব্য নয়। আবার তখন সন্তানের দিকে নজর দেবেন, নাকি নিজেদের ত্বকের (skin) পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, সুতরাং সেই কাজে আরও গাফিলতি হয়। সব মিলিয়ে ত্বক ও চুল, দুয়েরই বারোটা বাজতে সময় লাগে না! কিন্তু সন্তানের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি যদি ঘরোয়া কিছু উপায়ে তাঁরা নিজেদের ত্বকেরও একটু যত্ন (care) নেন, তা হলে হারানো জৌলুস ফিরে পেতে কিন্তু সময় লাগবে না। এমনই কিছু উপায়ের কথা আলোচনা করা হল এখানে।

আরও পড়ুনঃ বাচ্চার নামকরণের আগে কিছু জরুরী টিপস

প্রেগন্যান্সির পরে ত্বকের বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয় কেন?

গর্ভাবস্থায় হঠাৎ করে ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে চামড়া প্রসারিত হতে শুরু করে, যে কারণে কোমর, থাই এবং হাতের চারিপাশে যেমন স্ট্রেচ মার্ক প্রকাশ পায়, তেমনই বেশ কিছু হরমোনের ক্ষরণ ঠিক মতো না হওয়ার কারণে চোখের তলায় কালি পড়াসহ hyper-pigmentation-এর মতো সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। ব্রণ এবং ডার্ক স্পটের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই তো গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের পরে ত্বকের যত্ন নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

ত্বকের বাড়তি যত্নের জন্য সেরা ঘরোয়া টোটকা

১. অ্যালো ভেরা জেল

এতে রয়েছে glucomannan এবং gibberellin নামক দুটি উপাদান, যা নিমেষেই স্কিন সেলের ক্ষত দূর করে, সেই সঙ্গে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যে কারণে স্ট্রেচ মার্ক মিলিয়ে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে ডার্ক স্পট সহ নানা ধরনের দাগ-ছোপও দূর হয়। pigmentation-এর প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না। কিন্তু প্রশ্ন হল, এত সব উপকার পেতে অ্যালো ভেরা জেলকে কীভাবে কাজে লাগাতে হবে? একটা অ্যালো ভেরা পাতা থেকে সংগ্রহ করা জেলের সঙ্গে দশটা ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই ট্যাবলেট থেকে সংগ্রহ করা তেল মিশিয়ে সেই পেস্ট স্ট্রেচ মার্কের উপর লাগিয়ে ততক্ষণ মালিশ করতে হবে, যতক্ষণ না তা একেবারে শুকিয়ে যায়। এইভাবে দিনে বার দুয়েক ত্বকের যত্ন নিলেই উপকার পাবেন।

মুখের দাগ-ছোপ দূর করতে চামচ দুয়েক অ্যালো ভেরা জেল নিয়ে সারা মুখে লাগিয়ে মিনিটপনেরো অপেক্ষা করে হলকা গরম জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলেই উপকার মিলবে। এক চামচ অ্যালো ভেরা জেলের সঙ্গে সম পরিমাণে মধু এবং পেঁপের পেস্ট মিশিয়ে তৈরি মিশ্রণও মুখে লাগাতে পারেন। তাতেও উপকার পাওয়া যায়।

৩. চিনি

pexels

এক চামচ চিনির সঙ্গে কয়েক ফোঁটা বাদাম তেল এবং সম পরিমাণ পাতি লেবুর রস মিশিয়ে সেই মিশ্রণ স্ট্রেচ মার্কের উপর লাগিয়ে মিনিটদশেক ভাল করে ঘষুন। তারপর হালকা গরম জল দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে ফেলুন। দিনে বারদুয়েক এই ঘরোয়া চিকিৎসা করলে স্ট্রেচ মার্কের উপর জমে থাকা মৃত কোষের স্তর সরে যাবে, সেই সঙ্গে ত্বকের ভিতরে রক্তের প্রবাহ এতটাই বেড়ে যাবে যে ত্বক সুন্দর হয়ে উঠবে। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে মিনিটপাঁচেক মালিশ করলেও নানা উপকার মেলে। বিশেষত, মুখে জমে থাকা মৃত কোষের আবরণ সরে যায়, যে কারণে নিমেষেই ত্বকের লাবণ্য বাড়ে। দাগ-ছোপ মিলিয়ে যেতেও সময় লাগে না।

৪. আলুর রস

প্রেগন্যান্সির সময় এবং প্রসবের পরে ত্বকের যত্নে আলুকে কাজে লাগালে pigmentation-এর প্রকোপ কমে। ডার্ক সার্কলও দূর হয়। ত্বকের সৌন্দর্যও বাড়ে। স্ট্রেচ মার্কও দূর হয় নিমেষেই।আসলে এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে রয়েছে নানা উপকারী এনজাইম, যা দাগ-ছোপ দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। চোখের নীচে এবং স্ট্রেচ মার্কসের উপরে আলু থেঁতো করে তার রসটা লাগান নিয়মিত। দেখবেন, উপকার পাবেন।

৫. আমন্ড এবং মধু

খানদশেক আমন্ড গুঁড়ো করে নিয়ে তার সঙ্গে চামচ তিনেক মধু মিশিয়ে তৈরি পেস্ট মুখে এবং স্ট্রেচ মার্কের উপর লাগিয়ে মিনিটকুড়ি অপেক্ষা করুন। সময় হলে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে বারতিনেক এই ভাবে ত্বকের যত্ন নিলে অল্প দিনেই স্ট্রেচ মার্ক মিলিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে নানাবিধ ত্বকের সমস্যার প্রকোপও কমবে।

৬. লিকার চা

pixabay

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ১২ এবং নানা সব উপকারী মিনারেল, যা skin pigmentation-কে নিয়ন্ত্রণে রাখার মধ্যে দিয়ে স্ট্রেচ মার্ক সহ নানা ধরনের দাগ-ছোপ দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক কাপ লিকার চায়ে এক চামচ নুন বা চিনি মিশিয়ে সেই পানীয় দিয়ে মুখ এবং স্ট্রেচ মার্কের আশেপাশের জায়গাটা ধুতে হবে, তা হলেই উপকার পাবেন।

৭. হলুদ এবং দই

স্ট্রেচ মার্ক এবং দাগ-ছোপের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন? তা হলে এক চামচ হলুদ গুঁড়োর সঙ্গে সম পরিমাণ দই মিশিয়ে তৈরি পেস্ট সারা মুখে এবং স্ট্রেচ মার্কের উপর লাগিয়ে মিনিটপাঁটেক মালিশ করুন। দিনে বার দুয়েক এইভাবে ত্বকের যত্ন নিলে অল্প দিনেই ছোট-বড় নানা ত্বকের সমস্যার প্রকোপ কমবে। বাড়বে ত্বকের সৌন্দর্যও। কারণ, হলুদ এবং দই হল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ঠাসা। সেই সঙ্গে এই দুই প্রাকৃতিক উপাদানে মজুত রয়েছে নানা skin lightening properties, যে কারণে অল্প সময়েই ত্বকের লাবণ্য বাড়ে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!