ফ্রিজি হেয়ারের (Frizzy Hair) সমস্যা? জেনে নিন সমাধান!

ফ্রিজি হেয়ারের (Frizzy Hair) সমস্যা? জেনে নিন সমাধান!

শ্যাম্পু করার পরে যতক্ষণ পর্যন্ত চুল ভেজা থাকে, ততক্ষণ তো কোনও সমস্যা হয় না কিন্তু ঠিক যে মুহূর্তে চুল শুকিয়ে যায় ঠিক সিংহের কেশরের মতো চুলটা ফুলে যায়! না তখন চুল খুলে রাখা যায় আর না ঠিকভাবে বাধা যায়! কী জ্বালাতন বলুন দেখি! অবশ্য এরকম সমস্যা শুধুমাত্র আমার একার নয়, অনেকেই চুলের এই সমস্যার মুখোমুখি। এরকম ধরণের চুলকেই আমরা ফ্রিজি হেয়ার (frizzy hair) বলে থাকি। কিন্তু ফ্রিজি হেয়ার কেন হয়, কীভাবেই বা ফ্রিজি হেয়ার ম্যানেজ করবেন এবং এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন, জানতে চান নিশ্চয়ই!

ফ্রিজি হেয়ার হওয়ার কারণ – Reasons To Have Frizzy Hair

শাটারস্টক

বংশগত কারণে বা জন্ম থেকেই কিন্তু কারও চুল ফ্রিজি হয় না। আমাদের নিজেদের অনেক দোষেই চুলের এই সমস্যাটি হয়ে থাকে। সাধারণত চুলে যখন আর্দ্রতা কমে যেতে থাকে, তখন চুল ভেতর থেকে শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং তখনই আমরা তাকে ফ্রিজি হেয়ার বলি। ফ্রিজি হেয়ার আরও নানা কারণে হয় –

  • নিয়মিত হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকোনো
  • চুলে রঙ করা
  • নানা রকমের কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট যেমন স্মুদনিং, কারলিং, স্ট্রেটনিং, পারমিং ইত্যাদি করানো
  • নিয়মিত হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করা
  • চুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল না লাগানো
  • চুলে অতিরিক্ত গরম তেল লাগানো
  • গরম জলে চুল ধোওয়া
  • আবহাওয়া এবং পরিবেশ দূষণ

কীভাবে ফ্রিজি হেয়ার থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে – How to Get Rid Of Frizzy Hair

শাটারস্টক

সালফেট ফ্রি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন

আমরা সাধারণত কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পুই ব্যবহার করি। এর ফলে চুলের স্বাভাবিক ময়শ্চার হারিয়ে যেতে শুরু করে এবং চুল ক্রমশ ফ্রিজি হয়ে যায়। কাজেই সবসময়ে চেষ্টা করুন কোনও আয়ুর্বেদিক শ্যাম্পু ব্যবহার করতে। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে শ্যাম্পু কেনার সময়ে অন্তত এটুকু দেখে নেবেন যেন তাতে সালফেট না থাকে।

শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন

শ্যাম্পু করার পর কিন্তু কন্ডিশনার ব্যবহার করতে একদম ভুলে যাবেন না। চুলের গোড়ায় এবং স্ক্যাল্পে কন্ডিশনার লাগাবেন না। ভিজে চুল থেকে জল চিপে ফেলে দিয়ে তবেই চুলে, বিশেষ করে চুলের ডগায় কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন এবং মিনিটখানেক রেখে দিন। এরপর ঠাণ্ডা জলে চুল ধুয়ে নিন।

নিয়মিত নারকোল তেল লাগান

শাটারস্টক

ফ্রিজি হেয়ারের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নারকোল তেল খুব উপকারী। অরগানিক নারকোল তেল ব্যবহার করুন কারণ এতে কোনও ভেজাল থাকে না। শুধুমাত্র চুলের গোড়ায় না, সমস্ত চুলেই খুব ভাল করে নারকোল তেল লাগিয়ে অন্তত ঘন্টাখানেক রেখে মাইল্ড কোনও শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। এটি কিন্তু নিয়মিত করতে হবে।

হাইড্রেটিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন

ফ্রিজি হেয়ার-কে আবার সুস্থ এবং জেল্লাদার করে তুলতে সপ্তাহে অন্তত একবার হাইড্রেটিং মাস্ক ব্যবহার করুন। অরগানিক নারকোল তেল এবং অরগানিক মধু সমপরিমাণে নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবারে একটু উষ্ণ করে নিন ওই মিশ্রণ এবং সমস্ত চুলে লাগিয়ে নিন। মিনিট ২০ রেখে কোনও সালফেটহীন শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

বোনাস টিপস

শাটারস্টক

  • স্নানের পর কখনোই ঘষে ঘষে চুল মুছবেন না। নরম তোয়ালে দিয়ে চুল জড়িয়ে রাখুন এবং চেপে চেপে চুল থেকে জল বার করে নিন। ভেজা চুলেই সিরাম লাগাবেন।
  • চেষ্টা করুন হেয়ার ড্রায়ার যতটা কম ব্যবহার করা যায়। যদি একান্তই ব্যবহার করতে হয় তাহলে একদম ভিজে চুলে ব্যবহার করবেন না। অন্তত চুল আধ-শুকনো হওয়ার অপেক্ষা করুন।
  • চওড়া দাঁতের কাঠের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ান, এতে চুলে জট পড়বে না এবং প্লাস্টিকের চিরুনিতে যে কেমিক্যাল থাকে তা চুলে লেগে চুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকেবনা।
  • সম্ভব হলে বালিশের কভার সিল্কের ব্যবহার করুন। সুতির বালিশের কভারে ঘষা লেগে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার এবং চুলের কিউটিক্যালস ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং চুল ফ্রিজি হয়ে যেতে পারে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এগুলোও আপনি পড়তে পারেন

জানুন ত্বকের জন্য কোন ধরনের ওয়াক্সিং ভালো

তৈলাক্ত ত্বকের শীতকালীন যত্ন

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!