জানেন কি, এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলি একইসঙ্গে ত্বক ও চুল, দুয়েরই দেখভাল করে?

জানেন কি, এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলি একইসঙ্গে ত্বক ও চুল, দুয়েরই দেখভাল করে?

অনেকেই আমরা চুলের যত্নে আলাদা প্রসাধনী এবং ত্বকের সৌন্দর্য বাড়াতে আলাদা করে নানা ক্রিম, লোশন কিনে থাকি। তাতে খরচ যে কম হয় না, তা তো বলাই বাহুল্য! অথচ আমাদের হাতের কাছেই আছে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান, যা একইসঙ্গে চুলের সৌন্দর্য তো বাড়াবেই, সেই সঙ্গে ত্বকের (Skin) যত্নেও সমান ভাবে কাজে আসবে। বলেন কী, একই ঢিলে দুই পাখি মরবে? একদমই! তাই তো বলি, অকারণে পকেট ফুটো করে নামী-দামি কোম্পানির হেয়ার সিরাম আর বিউটি ক্রিম না কিনে ঝটপট জেনে ফেলুন সেই সব প্রাকৃতিক উপাদানগুলির কথা, যেগুলিকে একইসঙ্গে ত্বকে এবং চুলের যত্নে কাজে লাগানো সম্ভব।

১. অলিভ অয়েল

নিয়মিত চুলে অলিভ অয়েল লাগিয়ে মিনিটদুয়েক মালিশ করলে চুলের গোড়া শক্তপোক্ত হয়। সেই সঙ্গে চুলের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতাও ফিরে আসে। ফলে চুল পড়ার হারও কমে। এমনকী, স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও এই তেলটি বিশেষ ভূমিকা নেয়। তবে শুধু চুলের যত্নেই যে অলিভ অয়েলকে কাজে লাগানো যায়, এমন নয়। ত্বকের লাবণ্য বাড়াতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটির জুড়ি মেলা ভার। কারণ, অলিভ অয়েলে রয়েছে উপকারী monounsaturated fatty acid, যা সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রাখে। সেই সঙ্গে অসময়ে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া আশঙ্কাও কমে। তাই আপনার বিউটি রেজিমের নিয়মিত অঙ্গ হয়ে উঠতে পারে এই তেলটি।

২. নারকেল তেল

ত্বক এবং চুলের পরিচর্যায় নারকেল তেলের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ, নিয়মিত ত্বকে নারকেল তেল লাগিয়ে মিনিটপাঁচেক মালিশ করলে ত্বক আর্দ্র থাকে, যে কারণে ত্বকের সৌন্দর্য কমে যাওয়া বা নানা ধরনের ত্বকের রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা আর থাকে না। সেই সঙ্গে নারকেল তেলে উপস্থিত নানা উপকারী উপাদানের কারণে ত্বক ভিতর থেকেও সুন্দর হয়ে ওঠে। 

আর চুলের যত্নে কীভাবে কাজে আসে নারকেল তেল? নিয়মিত চুলে নারকেল তেল লাগিয়ে মালিশ করলে স্ক্যাল্পের ভিতরে triglycerides-এর মাত্রা বাড়তে শুরু করে। যার প্রভাবে চুল পড়ার হার তো কমেই। সেই সঙ্গে নতুন চুল গজাতে শুরু করে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত চুল পড়ার কারণে অসময়ে টাক পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না। তাই অল্প সময়েই চুলের সৌন্দর্য যদি বাড়িয়ে তুলতে হয়, তা হলে নারকেল তেলের উপর ভরসা রাখতে ভুলবেন না যেন!

৩. গ্রিন টি

নিয়মিত বারদুয়েক গ্রিন টি দিয়ে তৈরি নানা ফেসপ্যাক মুখে লাগালে এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ত্বকের ভিতরে জমে থাকা টক্সিক উপাদানগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। ফলে ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে, সেই সঙ্গে বলিরেখাও উধাও হয়ে যায়। গ্রিন টিতে catechin নামক একটি উপাদান রয়েছে, যা চুল (Hair) পড়ার হার কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। তাই মাত্রাতিরিক্ত হেয়ার ফলের কারণে যাঁরা চিন্তায় রয়েছেন, তাঁরা সপ্তাহে বারদুয়েক গ্রিন টি দিয়ে চুল ধোওয়া শুরু করুন। 

৪. মধু

শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটি যেমন বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে, তেমনই ত্বক এবং চুলের সৌন্দর্য বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার। কারণ, মধুতে রয়েছে নানা ভিটামিন এবং মিনারেল, রয়েছে বেশ কিছু উপকারী অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা ত্বকের বয়স কমায়। ফলে সৌন্দর্য বাড়ে চোখে পড়ার মতো। ত্বকের সংক্রমণের মতো রোগকে দূরে রাখতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি নানাভাবে সাহায্য করে থাকে।

তবে শুধু ত্বকের যত্নেই নয়, চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও কাজে লাগানো যেতে পারে মধুকে। ২০০১ সালে European Journal of Medical Research-এ প্রকাশিত একটি স্টাডি অনুসারে, মধুতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা seborrheic dermatitis-এর মতো রোগের প্রকোপ কমানোর মধ্যে দিয়ে চুল পড়ার হার কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। শুধু তাই নয়, মধু দিয়ে তৈরি নানা হেয়ার মাস্ক যদি সপ্তাহে বারদুয়েক চুলে লাগানো যায়, তা হলে চুলের সৌন্দর্য তো বাড়েই, সেই সঙ্গে স্ক্যাল্প আর্দ্র থাকে, যে কারণে খুশকির প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

৫. অ্যাপেল সিডার ভিনিগার

এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ব্রণসহ নানাবিধ ত্বকের রোগের প্রকোপ কমাতে যেমন বিশেষ ভূমিকা নেয়, তেমনই ত্বকের ভিতরে pH balance ঠিক রাখার মধ্যে দিয়ে সৌন্দর্য বাড়াতেও নানাভাবে সাহায্য করে থাকে। আবার চুলের যত্নেও কাজে লাগানো যেতে পারে এই প্রাকৃতিক উপাদানটিকে। সেক্ষেত্রে চুল পড়ার হার তো কমবেই। সেই সঙ্গে স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটার কারণে চুলের সৌন্দর্যও বাড়বে চোখে পড়ার মতো।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!