বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে ঘরোয়া উপায়েই বাড়িয়ে তুলুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে ঘরোয়া উপায়েই বাড়িয়ে তুলুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশের কারণে বর্ষাকালে (monsoons) একাদিকে যেমন নানা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তেমনই নানা কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে তলানিতে এসে ঠেকে। ফলে ছোট-বড় নানা রোগ-ব্যাধির প্রকোপ বাড়ে চোখে পড়ার মতো। বিশেষত, সর্দি-কাশি এবং ভাইরাল ফিভারের মতো রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। সঙ্গে লেজুড় হয় পেটের রোগ সহ নানা সংক্রামক রোগ। তাই তো বছরের এই সময় সুস্থ থাকতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (immunity) যতটা সম্ভব বাড়িয়ে তোলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই কাজটা করবেন কীভাবে? উত্তর পেতে চোখ রাখুন বাকি প্রতিবেদনে।

ইমিউনিটি বাড়িয়ে তুলবে এই খাবারগুলি

১. দই

এতে রয়েছে নানা উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ক্ষতিকর জীবাণুরা সব মারা পড়ে। সেই সঙ্গে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে চোখে পড়ার মতো। শুধু তাই নয়, উপকারী ব্য়কটেরিয়াগুলির কারণে হজম ক্ষমতা যেমন বাড়ে, তেমনই নানা ধরনের পেটের রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কাও আর থাকে না। তাই বর্ষাকালে সুস্থ থাকতে দিনে এক বাটি করে টক দই খেতে ভুলবেন না যেন!

২. মাশরুম

বাঙালিরা মাশরুম খুব একটা পছন্দ করেন না ঠিকই। কিন্তু বর্ষাকালে ইমিউনিটি বাড়িয়ে তুলতে এই সবজিটির জুড়ি মেলা ভার। কারণ, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন বি, রয়েছে selenium নামে একটি উপাদান, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই সঙ্গে নানাবিধ সংক্রমণকেও দূরে রাখে। তাই এই বর্ষায় ছোট-বড় নানা রোগ-ব্যাধিকে যদি দূরে রাখতে হয়, তাহলে সপ্তাতে বারদুয়েক মাশরুম সহযোগে তৈরি নানা পদ খেতেই হবে। 

৩. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার

বর্ষাকালে শরীরে যাতে প্রোটিনের ঘাটতি না হয়, সে দিকে নজর রাখা একান্ত প্রয়োজন। কারণ, এই উপাদানটি, শ্বেত রক্ত কণিকার উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়, যে কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা আর থাকে না। তাই তো প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে সারা বর্ষাকাল জুড়ে ডাল, ছোলা এবং বিনসের মতো খাবার যেমন নিয়মিত খেতে হবে, তেমনই রোজের ডায়েটে জায়গা করে দিতে হবে মটন অথবা চিকেনের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারকেও।

৪. মশলা চা

এক পেয়ালা লিকার চায়ে এক চিমটে দারচিনি গুঁড়ো, নয়তো লবঙ্গ বা গোলমরিচ মিশিয়ে যদি খাওয়া যায়, তা হলে শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না। কারণ, এই সব মশলায় উপস্থিত নানা ভিটামিন এবং মিনারেল যেমন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায়, তেমনই নানা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এবং জীবাণুদের ধারে কাছেও ঘেঁষতে দেয় না। ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে।

৫. দুধ-হলুদ

এক গ্লাস দুধে চামচ দুয়েক হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তা হলে বার্ষাকালীন কোনও রোগই ঘাড়ে চেপে বসতে পারবে না। কারণ, দুধ এবং হলুদে রয়েছে একাধিক উপকারী ভিটামিন এবং মিনারেল, সেই সঙ্গে মজুত রয়েছে নানা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদানও, যা শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হলুদে curcumin নামে একটি উপাদান রয়েছে, যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির যেমন খেয়াল রাখে, তেমনই ক্যান্সারের মতো মারণ ব্যাধিকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৬. রসুন

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এই প্রাকৃতিক উপাদানটির যেমন জুড়ি মেলা ভার, তেমনই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতেও রসুনের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ, এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম সহ নানা উপকারী উপাদান, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলিকে নিমেষে মেরে ফেলে। তাই সুস্থ থাকতে যদি চান, তাহলে শুধু বর্ষাকালে নয়, সারা বছর ধরেই এক কোয়া করে রসুন খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন, জটিল কোনও রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!