কনের বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে কী করবেন আর কী করবেন না, জেনে নিন আলিয়া-মিমির কাছ থেকে!

কনের বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে কী করবেন আর কী করবেন না, জেনে নিন আলিয়া-মিমির কাছ থেকে!

বেস্ট ফ্রেন্ডের বিয়ে কি আর চাট্টিখানি কথা! তার বিয়ে মানে, প্রায় আপনারও বিয়ে। কনের জন্য শপিং থেকে শুরু হিয়ের জন্য প্ল্যানিং, মেনু থেকে শুরু করে ভেনু, ড্রেস থেকে শুরু করে স্ট্রেস, সবকিছুতেই বন্ধু হিসেবে আপনাকে পাশে থাকতেই হবে। আপনার সম্মতি বিনা কিছুই ওকে হবে না! কিন্তু সবকিছু সত্ত্বেও সেন্টার স্টেজটি কিন্তু আপনার জন্য বরাদ্দ নয়! লাইমলাইটেও আপনি থাকবেন না। পুরোটাই বরাদ্দ হবে আপনার বন্ধুর (friend) জন্য। সেদিনের আসল নায়িকা কিন্তু তিনিই। অথচ আপনাকে থাকতে হবে তাঁর সেনাপতি-প্রধানমন্ত্রী, সবকিছু হিসেবে! সত্যি করে ভেবে দেখতে গেলে, এটি কিন্তু বেশ কঠিন দায়িত্ব! এই যে সবকিছুর মধ্যে আপনি আসলে থেকেও নেই, এটাই অনেকে বুঝতে পারে না, অনেকে আবার বুঝলেও না বোঝার ভান করে বসে থাকে। এই এঁরা সবকিছুতে নিজেকেও মেলে ধরতে চায়, সব ফোটো ফ্রেমে নিজের উপস্থিতি দাবি করে।

তাই সব হবু কনেদের সব বেস্ট ফ্রেন্ডদের (bridesmaid) জন্য আমরা একটি কী করবেন-কী করবেন না-র তালিকা তৈরি করে দিচ্ছি, তা-ও আবার দুই বলি-টলির সেলেব্রিটির সিলমোহর লাগিয়ে! এঁরা হলেন যথাক্রমে বলিউডের আলিয়া ভট্ট এবং টলিউডের মিমি চক্রবর্তী! আলিয়া কনের বন্ধু-র পদটিতে অনেকদিন ধরেই সুনামের সঙ্গে জাঁকিয়ে বসে আছেন। তাঁর ছোটবেলার বন্ধুদের গ্রুপে বেশ কয়েকজন বান্ধবীর সম্প্রতি বিয়ে (wedding) হয়েছে। তিনি প্রতিটি আসরেই উপস্থিত ছিলেন, চুটিয়ে আনন্দও করেছেন। কিন্তু একেবারেই নিজের রূপ-নামের ছটায় বন্ধুর জীবনের সবচেয়ে খুশির দিনটির আলো ম্লান করতে চাননি! অন্যদিকে মিমি সম্প্রতি তাঁর বেস্ট ফ্রেন্ড নুসরতের বিয়েতে কনের প্রিয় বন্ধুর দায়িত্ব এত সুন্দরভাবে পালন করেছেন যে, সকলেই তাঁর বন্ধু বাৎসল্যের তারিফ না করে পারেননি! তাই এই দুজনের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েই আমরা এই কর্তব্য তালিকাটি তৈরি করেছি!

হবু কনের বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে কী-কী করবেন

ইনস্টাগ্রাম

১. বন্ধুর বিয়ে ঠিক হওয়া থেকে শুরু হবে আপনার কাজ! তাঁকে আপনার চেয়ে ভাল আর কেউ চিনবেই না। সুতরাং একটা গোটা দিন আগে তাঁর সঙ্গে বসুন। বসে ঠান্ডা মাথায় সবকিছু একটা ডায়েরিতে লিখে ফেলুন। মানে, তাঁর কী-কী করার ইচ্ছে আছে বিয়েতে, কোনও বিশেষ সাজ, কোনও বিশেষ মেকআপ আর্টিস্ট, বিয়ের দিনে স্পেশ্যাল কোনও মেনু ইত্যাদি ইত্যাদি।

২. ভেনু ঠিক করার দায়িত্ব মোটামুটি এখনও বাড়ির বড়রাই নিয়ে থাকেন। তাই ওই ব্যাপারটি নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে। কিন্তু সেই ভেনুর ডেকরেশন, তাতে কোনও থিম থাকবে কিনা ইত্যাদি বিষয়ে আপনার মত দেওয়াটাই উচিত। আপনার বন্ধুর জেনারেশনের প্রতিভূ কিন্তু আপনিই। তাই আপনাকে এগিয়ে আসতেই হবে। নুসরতের বিয়েতে তাঁর সব প্ল্যানিংয়েই ছায়াসঙ্গীর মতো ছিলেন মিমি। আপনার-আমার চেয়ে তাঁর কাজের চাপ বেশি বই কম নয়। তবুও তিনি সবকিছুতে বন্ধুর পাশেই ছিলেন!

৩. শপিং এবং সাজগোজ, এই দুটির মুখ্য দায়িত্বে আপনি! বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে মেকআপ আর্টিস্ট, স্টাইলিস্ট ঠিক করা, তাঁর গায়ে হলুদের সাজ থেকে শুরু করে বিয়ের দিনের লুক কেমন হবে, সবকিছুতেই আপনার সরাসরি যোগদান জরুরি।

৪. বিয়ের সব ফাংশনে বন্ধুর ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকুন আলিয়ার মতো। ইনি শুটিং ফেলে ছোটবেলার বন্ধুর বিয়ের সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। নেচেছেন, গেয়েছেন, আনন্দ করেছেন আর সকলের মতো। আলিয়া যদি পারেন, আপনিও পারবেন। তাই যতই অফিস কিংবা জরুরি কোনও কাজ থাকুক, বিয়ের কটা দিন নিজেকে খালি রাখুন।

৫. বন্ধু বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে গেলেই কিন্তু আপনার দায়িত্ব শেষ হয় না। তখনও বউভাত নামক অনুষ্ঠানচি বাকি থাকে, যেখানে মেয়ের বাড়ি থেকে তত্ত্ব নিয়ে যাওয়ার একটা ব্যাপার আছে। ফলে বন্ধু চলে গিয়েছে বলে আপনিও পাততাড়ি গুটিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিলেন, এমনটা করবেন না। বরং দেখুন, কোন-কোন কাজ এখনও বাকি এবং আপনি সেখানে কীভাবে সাহায্য করতে পারেন।

কনের প্রিয় বন্ধু হিসেবে যা-যা করবেন না

ইনস্টাগ্রাম

সত্যি কথা বলতে গেলে, কনের বন্ধু হিসেবে আপনি কী করবেন, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, আপনি কী-কী একেবারেই করবেন না! আর এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল হয় আমাদের...অথচ আলিয়া ভট্ট এবং মিমি চক্রবর্তী কিন্তু নিজেদের না-করার বিষয়গুলি নিয়ে এতটাই পরিষ্কার ছিলেন যে তারিফ না করে উপায় নেই। তাই তাঁদের কাছ থেকে ইন্সপিরেশন নিয়েই আমরা এই কী-কী করবেন না তালিকাটি তৈরি করলাম।

১. কনেকে ম্লান করার চেষ্টা করবেন না প্লিজ, তা সে কাজেই হোক, বা সাজে। এমন পোশাক পরবেন না বা এমন সাজে সাজবেন না যেন লোকে কে কনে এটাই না গুলিয়ে ফেলে। ছবিতে আলিয়া কিংবা মিমিকে দেখুন, একটুও মনে হচ্ছে কি, তাঁরা সেলেব্রিটি, অতএব যেন-তেন-প্রকারেণ সকলের নজর এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশবাল্ব যেন তাঁদের দিকেই সব সময় তাক করে থাকে?

২. বন্ধুর বিয়ের সব ফোটো মোমেন্টে আপনাকে উপস্থিত থাকতেই হবে, তার কোনও মানে নেই। বন্ধু কনে, অনুষ্ঠানটা তাঁর! আপনি বেস্ট ফ্রেন্ড হিসেবে উপস্থিত আছেন। সব ফোটোতে মুখ দেখাতে নয়। নুসরতের বিয়ের সব ছবিতে মিমিকে দেখা যাচ্ছে না। তা বলে কি তিনি সেখানে ছিলেন না? নিশ্চয়ই ছিলেন। কিন্তু বন্ধুকে ফোটোবম্ব করার কোনও চেষ্টা করেননি!

৩. আগে বন্ধু তাঁর বিয়ের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেবেন, তারপর আপনি। আগে থেকে বিয়েবাড়িতে সকালবেলা, গায়ে-হলুদে আমি, এই আমি দুপুরে মাছের মাথা চিবুচ্ছি, তত্ত্ব নিয়ে এগোচ্ছি গোছের ছবি নিজের ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে দিয়ে আপনি আসলে বন্ধুর উপর থেকেই লাইমলাইট সরিয়ে দিচ্ছেন! আলিয়া বন্ধুদের বিয়ের ছবি নিদের ইনস্টাগ্রামে দিয়েছেন অন্তত দিনপনেরো পর। মিমিও তাই। সুতরাং, আপনিও সেটাই করবেন।

৪. বিয়ের দিন জোর করে কনের পাশে এঁটুলি পোকার মতো বসে থাকবেন না। ওতে গুরুত্ব বাড়ে না। বরং আপনি অতিথি আপ্যায়নের দায়িত্ব নিন, মিমির মতো। আপনাদের বন্ধুর গ্রুপের সক্কলকে তো আর কনের বাড়ির সকলে চেনে না, তাই আপনিই তাঁদের বসা-খাওয়ার দায়িত্বভারটা নিন না। মিমি কিন্তু নুসরতের রিসেপশনে টলিউডের দায়িত্বে ছিলেন। সকলকে হাসিমুখে স্বাগত জানিয়েছেন। 

৫. রিসেপশনে গিয়ে হুড়োহুড়ি করে কনের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলাতে শুরু করবেন না। তিনি আপনার বন্ধু হতে পারেন, কিন্তু এখন অন্য কোনও বাড়ির নতুন বউও বটে! তাই অপেক্ষা করুন। ছবি তোলানোর সময় নিশ্চয়ই পাবেন। আর সেলফি নয়, ফোটোগ্রাফারের ক্যামেরার উপরেই ভরসা রাখুন। 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!
লাইক