জানেন কি, প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস জিরে ভেজানো জল খেলে মেদ ঝরাতে সুবিধে হবে?

জানেন কি, প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস জিরে ভেজানো জল খেলে মেদ ঝরাতে সুবিধে হবে?

জিরে তো রান্নায় দেয়, সেটা আবার ওজন কমাবে কীভাবে শুনি? জানি, শুনতে একটু আজব লাগছে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে এমনটা সম্ভব। জিরেতে এমন কিছু উপকারী উপাদান রয়েছে, যা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। ফলে শরীরের ইতি-উতি জমে থাকা ফ্যাট ঝরে যেতে সময় লাগে না। তাছাড়া শরীরের প্রদাহ কমাতেও জিরার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু প্রদাহের সঙ্গে ওজনের কী সম্পর্ক? হাওয়ার সঙ্গে আগুনের যে সম্পর্ক, প্রদাহের সঙ্গে ওজন বাড়ারও সেই সম্পর্ক। অর্থাৎ হওয়া দিলে যেমন আগুনের তেজ বাড়ে, তেমনই প্রদাহের মাত্রা বাড়লেও ওজন (Weight) বাড়তে শুরু করে। তাই ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে প্রদাহ কমাতে হবে, আর তার জন্য জিরে ভেজানো জল খাওয়া মাস্ট! তবে মজার বিষয় কি জানেন, জিরে শুধু ওজন কমিয়েই খান্ত থাকে না। নিয়মিত জিরে ভেজানো জল (cumin water) খাওয়া শুরু করলে আরও নানা উপকার পাওয়া যায়। চলুন, জেনে নেওয়া যাক জিরের অন্যান্য গুণগুলি সম্পর্কে।

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে

জিরে ভেজানো জল খাওয়া শুরু করলে শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, সেই সঙ্গে ভিটামিন এ, সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টেরও ঘাটতিও মেটে, যে কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া আর জীবাণুরা শরীরের রক্ষাকবচ ভেদ করে দেহের কোনও ক্ষতি করার সুযোগই পায় না। ফলে ছোট-বড় নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

২. অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে

সমীক্ষা বলছে, ভারতের মোট মহিলা জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশই নাকি অ্যানিমিক। এই ভিড়ে যদি আপনিও থাকেন, তা হলে সক্কাল-সক্কাল চা না খেয়ে বরং জিরে ভেজানো জল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। তাতে কী উপকার মিলবে তাই ভাবছেন তো? আসলে বন্ধু, জিরেতে ঠেসে-ঠেসে মজুত রয়েছে আয়রন, যা hemoglobin-এর ঘাটতি মিটিয়ে অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে।

৩. অনিদ্রার সমস্যা দূর হয়

স্ট্রেস-অ্যাংজাইটির কারণে তো বটেই, সেই সঙ্গে অফিসের কাজের চাপেও ঘুম উড়ছে কমবয়সিদের। ফলে অনিদ্রার লেজুড় হয়ে এসে হাজির হচ্ছে ওবেসিটি, হাই কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্টের রোগের মতো মারণ সমস্যা। তাই ইনসোমনিয়ার মতো সমস্যাকে বাগে আনাটা খুব জরুরি। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই কাজটা করবেন কীভাবে? একটা কাজ করুন, কাল সকাল থেকেই জিরে ভেজানো জল খাওয়া শুরু করুন, দেখবেন আর কোনও চিন্তাই থাকবে না। কারণ, জিরেতে উপস্থিত নানা উপকারী উপাদানের গুণে এমন কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়বে, যার প্রভাবে ঘুম আসতে সময় লাগবে না। ফলে নানা সব জটিল রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কাও দূর হবে।

৪. ব্রেন পাওয়ার বাড়বে

মগজাস্ত্রের ধার বাড়াতে যদি চান, তা হলে জিরে ভেজানো জল খাওয়া মাস্ট! কারণ, এই পানীয়টি খাওয়া শুরু করলে যত দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে, তত তাড়াতাড়ি ব্রেনের ক্ষমতাও বাড়ে। ফলে স্মৃতিশক্তির পাশাপাশি মনোযোগ ক্ষমতা এবং বুদ্ধির জোর বাড়তেও সময় লাগে না।

৫. ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে

জিরেতে রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার এবং অন্টিঅক্সিডেন্ট, যা রক্তে মিশে থাকা ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের নিমেষে ধ্বংস করে দেয়। ফলে অসময়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির ক্ষমতা কমে গিয়ে নানা রোগ-ব্যাধির খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনই ত্বকের সৌন্দর্যও বাড়ে। সেই সঙ্গে ব্রণর প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। তাই বুঝতেই পারছেন, পুজোর আগে ওজন কমানোর পাশাপাশি ত্বকের যত্ন নিতে হলে এখন থেকেই জিরে ভেজানো জল খাওয়া শুরু করে দিন। দেখবেন, উপকার পাবেই পাবেন!

এই পানীয়টি তৈরির পদ্ধতি

এক গ্লাস জলে চামচদুয়েক জিরে ভিজিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকালে ঘুম থেকে ওঠামাত্র জলটা ছেঁকে নিয়ে পান করুন। ইচ্ছে হলে জলটা একটু ফুটিয়েও নিতে পারেন।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!