বাঙালির প্রিয় ভাত-ডাল-মাছেই লুকিয়ে আরোগ্যের চাবিকাঠি

বাঙালির প্রিয় ভাত-ডাল-মাছেই লুকিয়ে আরোগ্যের চাবিকাঠি

বেশিরভাগ বাঙালি ছেলে-মেয়েদেরই আজাকাল ভাত-ডাল মুখে রোচে না। তাঁদের পছন্দ চাউমিন-চিলি চিকেন। কেউ কেউ তো আবার পাস্তা-স্প্যাগেটিতে মজেছে। এই সব খাবার যে অস্বাস্থ্যকর, তা নয়। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে ভাত, ডাল, মাছের মতো তথাকথিত বাঙালি পদগুলি শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বেশ কয়েকজন ডায়টেশিয়ান তো এমনটাও দাবি করে থাকেন যে নিয়মিত সাধারণ কিছু বাঙালি খাবার (Foods) খেলে নকি ছোট-বড় কোন রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। এমন দাবির পিছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে। কী কারণ শুনি? একাধিক স্টাডিতে দেখা গিয়েছে ভাত, ডালে তো বটেই, মাছেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং মিনারেল মজুত থাকে, মজুত থাকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো উপকারী উপাদানও। শুধু তাই নয়, সরষের তেল থেকে বেগুন ভাজা, এমনকী বাঙালির প্রিয় পোস্ত এবং শুক্তও পুষ্টিগুণে ঠাসা। বাঙালি খাবারে উপস্থিত আদা-রসেনের পেস্ট, হলুদ এবং রাধুনী-পাঁচফোড়নেও রয়েছে হরেক রকমের উপকারী উপাদান। তাই বুঝতেই পারছেন, সুস্থ থাকতে যদি চান, তাহলে বন্ধু সব ছেড়ে ভাত-ডাল খাওয়া শুরু করুন। সঙ্গে যেন থাকে শুক্তো আর মাছ। মাঝে মধ্যে মটন কষা আর চিকেন দোপেঁয়াজা খাওয়াও চলতে পারে। তাতে কোনও ক্ষতি নেই! এত দূর পড়ার পরেও যাঁদের মনে বাঙালি খাবারের নানা উপকারিতা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে, তাঁরা বাকি প্রতিবেদনটা ঝটপট পড়ে ফেলতে দেরি করবেন না যেন!

১. ভাত

নিয়মিত এক বাটি করে সাদা ভাত খেলে কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি মেটে, সঙ্গে কিছুটা হলেও ফাইবার এবং প্রোটিনের চাহিদাও পূরণ হয়, যা নানা ভাবে শরীরের উপকারে লেগে থাকে। যাঁরা ভাবছেন ভাত খেলে ওজন বাড়বে, তাঁদের জানিয়ে রাখি এক বাটি ভাতে মাত্র ২১৩ ক্যালোরি থাকে, যা এক ঘন্টা ঘর পরিষ্কার করলে অথবা আধ ঘন্টা সাইকেল চালালেই বার্ন হয়ে যায়। ঘড়ি ধরে মিনিটকুড়ি হাঁটলেও এই পরিমাণ ক্যালোরি ঝরে যায়। তাই দিনে এক বেলা ভাত খাওয়া মাস্ট! তাতে কোনও ক্ষতি তো হবেই না, উল্টে বেশ কিছু উপকার মিলবে।

২. শুক্তো এবং শাক

প্রথম পাতে এক বাটি শুক্তো বা অল্প করে শাক হলে মন্দ হয় না। তাতে রসনা তৃপ্তি তো হয়ই, সঙ্গে ছোট বড় একাধিক রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। বলেন কী, শুক্তো আর শাক খেলে শরীর সুস্থ থাকবে! কী ভাবে? কাঁচা কলা, পেঁপে, ঝিঙে, পটল, আলু এবং বেগুন সহযোগে তৈরি শুক্তোতে মজুত রয়েছে পটাশিয়াম, ফাইবার সহ একাধিক ভিটামিন এবং মিনারেল, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে তোলে, সেই সঙ্গে রক্তাল্পতা এবং পেটের রোগের প্রকোপ কমাতেও নানা ভাবে সাহায্য করে থাকে। গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যাও দূরে পালায়। অন্যদিকে বাঙালির প্রিয় পালং এবং নোটে শাকেও রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার, জিঙ্ক, প্রোটিন, ভিটামিন এ, সি, ই এবং ভিটামিন কে। রয়েছে ফলেট, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো উপকারী উপাদান। তাই বুঝতেই পারছেন, সুস্থ থাককে চাইলে সপ্তাহে দিন দুয়েক শুক্তো, নয়তো শাক খেতে ভুলবেন না যেন!

৩. ডাল

pixabay

খেয়াল করে দেখবেন নিয়মিত যাঁরা এক বাটি করে ডাল খায়, তাঁদের রোগ-ব্যাধি একটু কমই হয়। কারণ, প্রায় সব রকমের ডালেই মজুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, যা দেহের গঠনে বিশেষ ভূমিকা নেয়। সেই সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, ডালে উপস্থিত ফলেট এবং ম্যাগনেসিয়াম, হার্টকে চাঙ্গা রাখে। ফলে কোনও ধরনের কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

৪. মাছ

আর কিছু খান বা না খান, প্রতিদিন ভাত, ডালের সঙ্গে এক-দু'পিস মাছ খেতে ভুলবেন না যেন! কারণ, মাছে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা একাধিক উপকারে লাগে। এছাড়াও এতে মজুত রেয়েছে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, পটাশিয়াম এবং জিঙ্কের মতো ভিটামিন এবং মিনারেল, যা হার্টকে চাঙ্গা রাখার পাশাপাশি দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে এবং ব্রেন পাওয়ারের উন্নতি ঘটাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. পোস্ত

গরম গরম ভাত-ডালের সঙ্গে এক বাটি আলু পোস্ত বা পোস্তর বড়া থাকলে যে কোনও বাঙালির জিভে জল আসতে এক সেকেন্ডও সময় লাগে না। মজার বিষয় কি জানেন? পোস্ত যতটা রসনা তৃপ্তি করে, ততটাই শরীরের দেখভালও করে থাকে। আসলে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড় এবং দাঁতকে শক্তপোক্ত রাখে। সেই সঙ্গে স্ট্রেস-অ্যাংজাইটির প্রকোপ কমাতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

৬. সরষের তেল এবং হলুদ

pixabay

বাঙালি রান্নায় বেশি মাত্রায় সরষের তেল এবং হলুদের ব্যবহার হয় বলেই হয়তো আমরা কথায় কথায় অসুস্থ হয়ে পড়ি না। কারণ, সরষের তেল এবং হলুদে উপস্থিত উপকারী উপাদানগুলি মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে হার্ট ডিজিজ এবং ক্যান্সারের মতো মারণ রোগকে দূরে রাখতে সরষের তেল এবং হলুদের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!