কোনও শিশু দত্তক নেওয়ার আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন

কোনও শিশু দত্তক নেওয়ার আগে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন

আগে হয়তো ছিল না, তবে ইদানীং আমাদের দেশেও adoption বা দত্তক নেওয়ার বিষয়টি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ভারতে সরকারি এজেন্সি CARA রয়েছে, যেখানে আবেদন করে আপনিও মা-বাবা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন। তবে একটি শিশুকে দত্তক নেওয়ার আগে শুধুমাত্র আইনের কচকচি জানলেই হবে না, নিতে হবে মানসিক প্রস্তুতিও (mental preparation), আর মানসিক প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন, সে সংক্রান্তই কিছু টিপস রইল এখানে। 

স্বামী-স্ত্রী, দু'জনেই দু'জনের মতামতকে সম্মান করুন

শাটারস্টক

হয়তো আপনার স্বামী বাবা হবার জন্য তৈরি, কিন্তু মানসিকভাবে আপনি এখনো তৈরি নন; কিংবা ঘটনাটা উল্টোও হতে পারে - এক্ষেত্রে কিন্তু একেবারেই কোনও শিশুকে দত্তক নেওয়ার কথা ভাবা উচিত নয়। দু'জনে দু'জনের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন এবং তারপর একটা সিদ্ধান্তে আসুন, যাতে পরে গিয়ে কোনও সমস্যা না হয়।

নিজেদের পরিবারের লোকজনকে জানান

হয়তো দেখা গেল, আপনারা স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই একটি শিশুকে নিজেদের জীবনে ও পরিবারে অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তুত, কিন্তু আপনাদের পরিবারের বয়স্ক মানুষরা এই ব্যবস্থায় খুশি নন (বেশিরভাগ ভারতীয় পরিবারেই এই সমস্যাটা দেখা দেয়)। সেক্ষেত্রে কী করণীয়? আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি বা মা-বাবাকে বোঝান, যদি তাঁরা আপনাদের সিদ্ধান্তে মত দেন, তা হলে খুবই ভাল, তা না হলে আপাতত দত্তক নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রাখুন। কারণ, যখন আপনি একটি শিশুকে দত্তক নিচ্ছেন, তখন তার মনেও পরিবার পাওয়ার একটা আশা জাগে। আর আপনাদের বাড়িতে এসে সে যদি দাদু-ঠাকুরমা বা দাদু-দিদার কাছ থেকে ভালবাসা না পায়, তা হলে তা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

টাকাপয়সার দিকটাও দেখতে ভুলবেন না

একটা বাচ্চা যেমন আমাদের জীবনে একরাশ আনন্দ নিয়ে আসে, সেরকম কিন্তু অনেক দায়িত্বও নিয়ে আসে। সেটা ভুলে যাবেন না। একটি শিশুকে দত্তক নেওয়ার আগে যেরকমভাবে টাকা-পয়সা খরচ করতেন, দত্তক নেওয়ার পরে কিন্তু দৃশ্যটা সম্পূর্ণ বদলে যাবে - তার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিন। প্রথমত, যখন আপনি বাচ্চা দত্তক নেওয়ার জন্য আবেদন করবেন, তখন এজেন্সি থেকে হাউজ ভিজিট করতে আসবে। যাতে জানা যায় যে, আপনারা আদৌ শিশুর দায়িত্ব নিতে আর্থিকভাবে সক্ষম কিনা। এর পর শিশুটির জিনিসপত্র, ওষুধ, খাবার, খেলনা, তারপর সেই শিশু বড় হলে তার স্কুল এবং আরও নানা খরচ - আপনি এবং আপনার পার্টনার তার জন্য প্রস্তূত কিনা সেটা একবার ভেবে নেবেন। প্রস্তুত না থাকলে আর একটু তৈরি হয়ে তারপর দত্তক নেওয়ার কথা ভাবুন।

শিশুর দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত হন

একটি শিশুকে মানুষ করা মোটেও সহজ কাজ নয়। আপনারা দু'জনেই যদি নিজ-নিজ কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকেন, তা হলে তো সেটা আরও কঠিন! অনেকে অবশ্য বাড়িতে থাকেন, কিন্তু তারপরও সব দায়িত্ব একা নেওয়া সম্ভব না। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করে নিন যে, কে কখন বাচ্চাকে সময় দিতে পারবেন। তা ছাড়া দাদু-ঠাকুরমা বা দাদু-দিদাকে কতটা ইনভল্ভ করবেন বাচ্চার দায়িত্ব দেওয়ার জন্য, সেটাও ভেবে নিন।

সন্তানের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ

শাটারস্টক

আপনার যদি সন্তান থাকে, সেক্ষেত্রে আরও একটি শিশুকে দত্তক নেওয়ার আগে তার সঙ্গেও কথা বলুন। তাকে জানান যে, তার ভাই অথবা বোন এলে সে তাকে কতটা মেনে নেবে। তার মতামতকে গুরুত্ব দিন, যাতে দত্তক নেওয়া শিশুটির সঙ্গে কোনও কারণে আপনার সন্তান খারাপ ব্যবহার না করে বা মনে-মনে তাকে অপছন্দ না করে। যদি আপনার সন্তান না চায়, সেক্ষেত্রে হয় তাকে বোঝান। নয়তো দত্তক নেওয়ার ভাবনা বাদ দিন।

পরবর্তী সময়ের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন

অনেক দম্পতি আছেন, যাঁরা নিজেরা প্রেগন্যান্সির ঝামেলা এড়ানোর জন্য অথবা জাস্ট একটি অনাথ শিশুকে পরিবার উপহার দিতে চান বলে দত্তক নেন। কিন্তু অনেকসময়েই দেখা যায়, একটি শিশু দত্তক নেওয়ার পর তাঁদের আত্মজ/জা জন্ম নেয়। সেক্ষেত্রে অনেকে দত্তক নেওয়া মা-বাবার মধ্যেই দত্তক নেওয়া শিশুটির প্রতি আচরণে পরিবর্তন আসে। আবার অনেকসময় মা-বাবার আচরণে পরিবর্তন না এলেও পরিবাবের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আগের শিশুটির প্রতি আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে অশান্তি দেখা দিতে পারে। কাজেই, দত্তক নেওয়ার আগে খুব ভাল করে ভেবে-চিন্তে তারপরই দত্তক নিন।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!