আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে সুস্থ থাকতে নিয়মিত খেতেই হবে এই খাবারগুলি

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে সুস্থ থাকতে নিয়মিত খেতেই হবে এই খাবারগুলি

আপনি রোজ কী ধরনের খাবার কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন, তার সঙ্গে শরীরের ভাল-মন্দের যে একটা যোগ রয়েছে, সেকথা অ্যালোপ্যাথি এবং হোমিওপ্যাথির পাশাপাশি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রও মেনে নিয়েছে। প্রায় দু'হাজার বছর আগে লেখা এই প্রাচীন শাস্ত্রে এমন উল্লেখ পাওয়া যায় যে বায়ু, পিত্ত এবং কফ, এই তিনটি বিষয়ের উপর শরীরের খারাপ-ভাল নির্ভর করে থাকে। যখনই এই তিনটি উপাদানের মধ্যের ভারসাম্য বিগড়ে যায়, তখনই মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে হাজার রকমের রোগ। তাই কোনওভাবে যদি বায়ু,পিত্ত, কফের মধ্যে ভারসাম্য ঠিক রাখা যায়, তা হলেই শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তা থাকবে না। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই কাজটা করবেন কীভাবে, তা জানেন কি? আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উপকার পেতে বিশেষ কিছু খাবার (foods) যেন রোজের ডায়েটে থাকে, তা হলেই আর কোনও চিন্তা থাকবে না। কী-কী খাবার সেই লিস্টে থাকবে?

১. ঘি

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এই খাবারটি 'সুপার ফুড'-এর তকমা পেয়েছে। আর কেন পাবে নাই বা বলুন! শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানগুলিকে ধ্বংস করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে বায়ু, পিত্ত আর কফের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ঘিয়ের জুড়ি মেলা ভার। তা ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও ঘিয়ের নানা উপকারিতার কথা মেনে নিয়েছে। বেশ কিছু স্টাডিতে একথা প্রমাণিতও হয়ে গেছে যে, নিয়মিত ঘি খাওয়ার অভ্যাস করলে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে যেমন সময় লাগে না, তেমনই উপকারী ফ্যাটের ঘাটতিও পূরণ হয়, যে কারণে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে, সঙ্গে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমতে শুরু করে। প্রতিদিন ঘি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

২. দুধ

নানা দোষ মেটানোর পাশাপাশি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর করে হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে দুধের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। তাই তো সুস্থ থাকতে নিয়মিত এক গ্লাস করে গরম দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা।

৩. আদা

আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় বহু কাল ধরেই আদার ব্যবহার হয়ে আসছে। কারণ, এই প্রাকৃতিক উপাদানটি একাধিক উপকারী উপাদানে ঠাসা, যা শরীরকে রোগ মুক্ত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। বিশেষত, মাথা ঘোরা কমাতে, হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে, অ্যাস্থেমার প্রকোপ কমাতে এবং লিভারকে সুস্থ রাখতে আদার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। সেই সঙ্গে দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে এবং পিরিয়ডের সময়কার যন্ত্রণা কমাতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি নানা ভাবে সাহায্য করে থাকে। এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন যে সুস্থ থাকতে হলে নিয়মিত আদা খেতে ভুলবেন না যেন! ইচ্ছা হলে আদা চাও খেতে পারেন, তাতেও সমান উপকার পাওয়া যায়।

৪. জিরা

বায়ু, পিত্ত, কফের ভারসাম্য ঠিক রাখতে চান? তাহলে নিয়মিত ঘুম থেকে উঠে জিরে ভেজানো জল খেতে ভুলবেন না যেন! তাতে ছোট-বড় নানা রোগ-ব্যাধি তো দূরে থাকবেই, সঙ্গে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতেও সময় লাগবে না। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুসারে নিয়মিত জিরা ভেজানো জল খেলে নাকি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থারও উন্নতি ঘটে। ফলে শরীর নিয়ে আর কোনও চিন্তাই থাকবে না।

৫. গরম জল

আয়ুর্বেদ চিকিৎসার উপর লেখা একাধিক বইয়ে এমনটা দাবী করা হয়েছে যে প্রতি ঘন্টায় যদি এক গ্লাস করে গরম জল পান করা যায়, তাহলে নাকি নানা রোগের খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনই ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতেও সময় লাগে না। সঙ্গে শরীরের জলের চাহিদাও পূরণ হয়, যে কারণে ওয়াটার রিটেনশন হয়ে গিয়ে ওজন বৃদ্ধির আশঙ্কাও কমে।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!