আপনার সঙ্গে ‘আড্ডা’ দিতে রাজি সায়নী ঘোষ, তারিখ এবং জায়গা জেনে নিন এখনই...

আপনার সঙ্গে ‘আড্ডা’ দিতে রাজি সায়নী ঘোষ, তারিখ এবং জায়গা জেনে নিন এখনই...

সহজ কথা সহজ ভাবে বলতে জানেন। মুখের ওপর কথা বলেন। অভিনয়টা ভাল। কাজ করে ঠিকই, কিন্তু বড় ঠোঁটকাটা। বড় বড় কথা বলেন। এ হেন নানা মন্তব্য টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর সম্পর্কে শোনা যায়। তিনি অর্থাৎ অভিনেত্রী সায়নী (Saayoni )ঘোষ। কিন্তু তিনি তাঁর মতোই। আর নিজেকে এতটুকু না বদলে সারভাইভ করছেন এতদিন ধরে। হ্য়াঁ, ‘সারভাইভ’ করছেন। একথা তাঁরই। কারণ বাংলা ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিশেষ কিছু আশা করেন না!

সায়নী এবার আপনার সঙ্গে ‘আড্ডা’ দিতে আসছেন। ১৩ সেপ্টেম্বর ডেট দিয়েছেন। অর্থাৎ আজই সেই দিন। আর ভেন্যু আপনার সুবিধে মতো যে কোনও সিনেমা হল। মানে? মানেটা খুব ক্লিয়ার। আজই মুক্তি পেল সায়নীর নতুন ছবি ‘আড্ডা’। অভিনেত্রীর সঙ্গে ‘আড্ডা’ দিতে চাইলে হলে যাওয়াটা মাস্ট।

গল্পটা কেমন?

সায়নী জানালেন, এই মুহূর্তের গল্প। ফাস্ট্রেশন, ইনসিকিওরিটি, সেগুলো তুলে তুলে নানা ঘটনা দেখানো হয়েছে। “আমিও একটা জায়গায় আড্ডা মারছি। আমার চরিত্রের নাম তানিয়া। স্ট্রাগলিং অ্যাক্টর। যতটা পর্দার জীবনটা রঙিন, ততটাই ডিগ্ল্যাম, ড্যামেজ ওর ব্যক্তিগত জীবন। সেই জার্নিটা কন্টিনিউ হয়। ইন্দ্রাশিস আমার বরের ক্যারেক্টারটা করেছে” বললেন সায়নী। আসলে কলকাতা থেকে চলে গেলে সকলে কলকাতাকে মিস করে। কিন্তু কলকাতায় থাকলে গালাগালি করে, এমন মানুষদের কথাই রয়েছে।

শুটিং ডায়েরি

মাত্র তিনদিনে নিজের অংশের শুটিং শেষ করেছেন সায়নী। বন্ধুদের সঙ্গে শুটিং। সুতরাং মজা করে কাজ হয়েছে জানালেন। কিন্তু এত কম সময়ে ছবির শুটিং? “এখনও ১১, ১২ দিনে শুট হচ্ছে। আর দু-এক বছর পরে এক সপ্তাহে বাংলা ছবির শুটিং হবে। শুধু এখন বলে নয়, ইন্ডিয়ান ইকনমি যখন ভাল ছিল, তখনও বাংলা ইন্ডাস্ট্রি দারুণ কিছু ছিল, এমন তোনও তথ্য তো আমার জানা নেই। অডিয়েন্স হলে গিয়ে টিকিট কেটে সিনেমাটা দেখলে তবেই আমাদের ইকনমি স্ট্রং হবে” স্পষ্ট বললেন অভিনেত্রী।

কেন এই অবস্থা?

সায়নীর কথায়, “ভাল ছবি হচ্ছে না তো বলব না। রিমেক চলছে না। দর্শকের কমপ্লেনও কমেছে। আসলে দর্শক বোধহয় ভাবেন, সেই একটা সময় উত্তমকুমারের যুগ ছিল। তারপর চিরদিনই তুমি যে আমার দিয়ে কর্মাশিয়ালের যুগ শুরু হল! তারপর সেটাও পছন্দ হল না। আমার মন হয়, অডিয়েন্সের মধ্যেও প্রচুর ভাগ রয়েছে। তারাও কনফিউসড। মানে, যাঁরা দেবের ছবি দেখেন, তাঁরা আবিরের ছবি দেখেন না। আবার যাঁরা আবিরের ছবি দেখেন, তাঁরা যিশুর ছবি দেখেন না…! অডিয়েন্সের চাহিদা বা পছন্দটা বুঝতে পারছি না।” 

ইন্ডিপেন্ডেন্টদের সমস্যা

সায়নী দাবি করলেন, তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্টিস্ট। অর্থাৎ কারও সঙ্গে কোনও চুক্তির সম্পর্ক নেই তাঁর। কনট্র্যাক্ট আর্টিস্ট নন। ‘আড্ডা’র মতো ছবি না চললে, এই ধরনের শিল্পীদের খুবই সমস্যা। “আমি যে ধারার অভিনয় করি সেটা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবিতেই হয়। আমাকে কেউ কর্মাশিয়াল হিরোইন করবে না। কলকাতাতেও নতুনরা কাজ করছেন। আগামী পাঁচ বছরের জন্য আমি আশাবাদী।” মত সায়নীর।

ওয়েব দুনিয়া

কাজ ভাল হলে প্ল্যাটফর্মটা ম্যাটার করে না বলে মনে করেন সায়নী। ওয়েব অডিয়েন্স তাঁকে গ্রহণ করেছে। তিনি বললেন, “আমি হইচই-এর সঙ্গে যত ওয়েব করেছি তত ছবি করিনি। কিন্তু আরও কাজ জেনারেট হতে হবে তো। তবে নতুন ডিরেক্টরদেরও ওয়েবে যাওয়া মুশকিল। সেখানেও তো হাঙররা বসে আছে। ওরা তো চুনোপুটি।”

স্পষ্ট কথায় কষ্ট নেই?

সত্যি কথা বরাবরই মুখের ওপর বলে দেন সায়নী। তাতে টিকে থাকার লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে যায় না? হেসে জবাব দিলেন, “১১ বছর এভাবেই কাজ করছি। সারভাইভ করছি। বাংলা ইন্ডাস্ট্রির কাছে আমার আলাদা কোনও এক্সপেক্টেশন নেই। অত ভাবি না। আমাকে যদি এভাবেই পাঁচজনও ভালবাসেব, আমি তাতেই খুশি। সংখ্যাটা কম হলেও ক্ষতি নেই।”

বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ?

দৃশ্যই হতাশ শোনায় সায়নীর গলা। “এখন এমন বিতর্কসভা হয়, যার টপিক বাংলা সিনেমার কিস্যু হবে না। সেটা আবার লোকে বসে দেখে। ফেসবুক লাইভ হয়। যারা কথা বলে, তারাও ইন্ডাস্ট্রিরই সদস্য। কোথাও না কোথাও তাদেরও স্টেক আছে। লোকে ধরেই নিয়েছে এই ইন্ডাস্ট্রির আর কিছু হবে না। তবুও চাইব, দর্শক হলে যাক। ইন্ডাস্ট্রির ভাল হোক” শেয়ার করলেন সায়নী।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!