স্ট্রাগল, #মিটু, টলিউড নিয়ে সায়ন্তনীর বিশেষ সাক্ষাৎকার in bengali | POPxo

মুম্বইয়ে স্ট্রাগল, ইন্ডাস্ট্রির #MeToo, টলিউডে কাজ নিয়ে অকপট আড্ডায় অভিনেত্রী সায়ন্তনী ঘোষ

মুম্বইয়ে স্ট্রাগল, ইন্ডাস্ট্রির #MeToo, টলিউডে কাজ নিয়ে অকপট আড্ডায় অভিনেত্রী সায়ন্তনী ঘোষ

কলকাতায় মডেলিং এবং অভিনয়ের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। মুম্বইতে বেড়াতে এসে দেওয়া অডিশন থেকেই যে বাণিজ্যনগরী তাঁর কাজের জায়গা হবে তা কখনও ভাবেননি সায়ন্তনী (Sayantani) ঘোষ। একের পর এক অফার। টেলিভিশনে তুমুল সাফল্য। তারপরও মাটিতে পা রেখে চলা জীবন নিয়ে খোলামনে আড্ডা (interview) দিলেন অভিনেত্রী।

কেমন আছেন?

ভাল আছি। আপনি?

ভাল। অনেকদিন পরে বাংলায় ইন্টারভিউ, তাই তো?

হ্যাঁ, মুম্বইয়ে বাঙালি প্রচুর। কিন্তু আমার কাজ তো হিন্দি ভার্শনেই। ফলে হিন্দিতেই বেশিরভাগটা হয়।

কলকাতায় কাজ শুরু করে সেই যে মুম্বই এলেন, তার পর তো বাণিজ্যনগরীরই স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গেলেন…

আসলে এখানে পর পর কাজ। তাই এখানেই থাকা হয়। তবে কলকাতায় বাড়ি, বাবা,মা আত্মীয় সবাই রয়েছেন।

অনেকদিন হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রিতে। শুরুর জার্নিটা একটু বলুন…

ক্লাস টুয়েলভের পরীক্ষার পর দু’তিন মাসের একটা গ্যাপ ছিল। সে সময় মডেলিং শুরু করি। সানন্দা তিলোত্তমায় সেকেন্ড রানার আপ হয়েছিলাম। শাড়ি, জুয়েলারির মডেলিংয়ের পর পর অফার আসতে থাকে তখন। প্রথম অভিনয় কৌশিক গঙ্গোপাধ্য়ায়ের ডিরেকশনে। ‘শুধু তোমারই জন্য’ নামের একটা সিরিজ হত। সেখানে। যিশু সেনগুপ্ত আমার প্রথম কোঅ্যাক্টর ছিল। এটা সম্ভবত ২০০৩-০৪ সাল। অভিনয়ের প্রথম ব্রেক পেয়েছিলাম। ওটারই তিন, চারটে গল্পে অভিনয় করেছিলাম।

প্রথম ছবি?

হরনাথ চক্রবর্তীর ডিরেকশনে ‘রাজু আঙ্কেল’। ওখানে আমার অপোজিটে বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়) ছিল। এক বছরে দু’টো ছবি করেছিলাম। তার পর মুম্বই।

মুম্বইয়ের অফার পেয়েছিলেন কীভাবে?

অফার পাওয়া ঠিক সেভাবে নয়। আসলে ২০০৬-এ ভাইয়ের সঙ্গে মুম্বই (mumbai) বেড়াতে এসেছিলাম। তখন ‘কুমকুম’ হত মনে আছে? ওখানে জেনারেশন লিপ নিচ্ছিল। আমি জানতে পেরে এক্সপিরিয়েন্স করার জন্য অডিশন দিয়েছিলাম। তারপর কলকাতা ফিরে যাই। ফাইনাল এগজ্যামও ছিল। তখনও ভাবিনি মুম্বইতেই থাকব কখনও। হঠাৎই ফোন পাই, ইউ আর সিলেক্টেড।

তা হলে ফাইনাল পরীক্ষাটা আর দেওয়া হয়নি?

না, না। কলেজ খুব হেল্প করেছিল। মুম্বইতে কাজের জন্য চলে এসেছিলাম ঠিকই। কিন্তু পরীক্ষা দিতে আর টলিউডের (Tollywood) বাকি কাজ কমপ্লিট করতে আবার কলকাতায় গিয়েছিলাম।

পড়াশোনা কোথায় করেছেন?

আমার বেহালায় বাড়ি। সেন্ট টেরেসাস খিদিরপুর থেকে টেন্থথ। এমপি বিড়লায় টুয়েলভথ। ফার্স্ট ইয়ারটা লোরেটোতে করেছিলাম। তার পর গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করি ভবানীপুর গুজরাতি এডুকেশন সোসাইটি থেকে।

 

২০০৬-এ মুম্বইয়ের প্রথম ব্রেক পাওয়ার পর তো বেশ কিছু হিট সিরিয়ালে লিড করেছেন আপনি…

হুম। ‘ঘর এক স্বপ্না’তে লিড করেছিলাম। তার পর ‘নাগিন’ তো হিউজ হিট হয়েছিল।

অনেকেই বলেন, মুম্বই স্ট্রাগলের জায়গা। আপনাকে কতটা স্ট্রাগল করতে হয়েছিল?

দেখুন ২১ বছর বয়সে আমি মুম্বই এসেছিলাম। তার আগে বাড়ি থেকে কখনও দরে থাকিনি। দেখি না কী হয়… এটা ভেবেই এসেছিলাম। তার পর থেকে একটার পর একটা ঘটনা ঘটতে থাকে। সবার স্ট্রাগল কিন্তু আলাদা আলাদা। অনেকে অনেক বছর ধরে এসেও কাজ পায় না। আমি কিন্তু কাজ নিয়েই মুম্বই এসেছিলাম। ফলে আমার স্ট্রাগলটা ছিল পার্সোনাল। প্রথম তিন, চার মাস মা ছিল। তার পর একা থেকেছি। রাস্তাঘাট চেনা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, রান্না করা- সব করতে হয়েছে। এভরিথিং। লিভিং লাইফ ওয়াজ আ চ্যালেঞ্জ। ২০-২১ বছর বয়সে কী ভাবে দুনিয়ার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয় সেটা খুব কম লোকই শেখে। আরও সাত, আট বছর পরে যেটা ফেস করা উচিত ছিল সেটা ২১ বছে শুরু করেছিলাম। তার আগে তো বাবা-মা সব করে দিত। ফলে পার্সোনাল লেভেলে জীবন বাঁচাটা স্ট্রাগল ছিল। তার এক, দেড় বছরের মধ্যেই নিজের বাড়ি হয়ে গিয়েছিল। মানে, কিছুটা গুছিয়ে নিতে পেরেছিলাম।

মুম্বই আপনাকে কাজের দিক থেকে ফেরায়নি, তাই তো?

২০০৯ পর্যন্ত ওয়াজ আ রকিং পিরিয়ড। তার পর প্রায় এক বছর কাজ করিনি। আসলে কাজ করে একটা জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার পর সেটা মেনটেন করাটা আরও কঠিন। কাজের কোয়ালিটি নিয়ে কম্প্রোমাইজ করা যায় না। কাজ পাচ্ছিলাম। কিন্তু সেই লেভেলটা ম্যাচ করছিল না। আর এটা তো ইনসিকিওরড প্রফেশন। ফলে সেই স্ট্রাগলটা ছিল।

তাহলে ওই এক বছর কীভাবে কেটেছিল?

২০১০-এ একটা, দু’টো ক্যামিও করেছিলাম। ভাল ভাল প্রজেক্ট আসতে শুরু করল। ‘মহাভারত’ করলাম। ‘মা’ এর হিন্দি ভার্সন হল, ‘মেরি মা’। সেটা খুব ভাল হয়েছিল। তাছাড়া নাচ করতাম। প্রচুর শো থাকত।

বাংলা ছবির কী হল? করবেন না আর? নাকি অফার আসেনি?

না না, অফার এসেছিল মাঝে অনেকগুলো। আমি করতেও চাই। কিন্তু ডেলি সোপ করলে করা মুশকিল। টাইম ম্যাচ করানো ডিফিকাল্ট। বাংলায় অনেকের সঙ্গেই আমি কানেক্টেড। এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে তো আমরা ওয়েল কানেক্টেড। এখন আর ওই ব্যপারটা নেই। বাংলায় কাজ করছে মানে হিন্দি করবে না, বা উল্টোটা। কারও সঙ্গে দেখা হলে, কাজ করার ইচ্ছেও প্রকাশ করি। শ্রীকান্ত তো ‘হইচই’-এর জন্য বলেওছিল। টাইম ম্যানেজমেন্টটা বড় ইস্যু।

বাংলা যা কাজ হচ্ছে, দেখেন?

ওয়েব খুব একটা দেখি না। আর সিনেমা মুম্বইতে রিলিজ করলে দেখি। আমার আবার টিভিতে (TV) দেখতে ভাল লাগে না। হলে গিয়ে দেখি। শিবুর (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) ছবি দেখেছি। আবিরের (চট্টোপাধ্যায়) গোয়েন্দা গল্প দেখলাম।

দীর্ঘদিন ধরে ছোটপর্দায় অভিনয় করছেন। বড়পর্দায় সেভাবে কাজ এখনও হয়নি। রিগ্রেট আছে কোনও?

না। একেবারেই নেই। আমার আইডেন্টিটিই ছোটপর্দা। আর সেটা নিয়ে খুব প্রাউড ফিল করি। অনেকে মনে করেন হয়তো ছবি না করলে জীবন ব্যর্থ। আমার একেবারেই তা মনে হয় না। আই ডোন্ট থিঙ্ক সো। ইটস আ বিগ ইন্ডাস্ট্রি। অরগ্যানিক্যালি কিছু হলে আই উড লভ টু ডু।

কলকাতাতেও কাজ করেছেন। আবার মুম্বইতেও দীর্ঘদিন হল। কী কী ডিফারেন্স চোখে পড়ল?

দেখুন, কাজ কাজই। সেই কমিটমেন্ট টলিউড, বলিউড সব জায়গাতেই থাকবে। এখন কলকাতায় কেমন কাজ হচ্ছে, সেটা নিয়ে কমেন্ট করব না। কারণ সেটা জানি না। আমি যখন কাজ করতাম তখনকার পারস্পেকটিভে মনে হয়, টেকনিক্যালি ন্যাশনাল লেভেলটা ভাল। তবে দু’টো জায়গার টেস্ট আলাদা। শুটিংয়ের ধরনও আলাদা। ডিফারেন্ট কালচার। মুম্বইতে প্রফেশনালিজম একটু বেশি। কলকাতায় এভরিথিং ভেরি পার্সোনাল।

এত বছরের কেরিয়ার। ভাল মুহূর্ত ডেফিনেটলি অনেক এসেছে। যে কোনও একটা শেয়ার করবেন?

১৩, ১৪ বছরে অনেক কিছুই হয়েছে। লাইফ আমার টিচার। যে কোনও একটা ঘটনা বলা মুশকিল। … ‘নামকরণ’ শেষ হচ্ছিল যখন টুইটারে খুব ট্রেন্ড করেছিল। আমার চরিত্র ‘নীলা’কে মেরে ফেলা হয়েছিল। সৎ মায়ের চরিত্র ছিল। কিন্তু টিপিক্যাল সৎ মা নয়। সে সময় ভট্ট সাহেব (মহেশ ভট্ট) টুইট করেছিলেন, ‘সায়ন্তনী ইউ আর দ্য ব্যাকবোন… থ্যাঙ্ক ইউ।’

আমার শেষ প্রশ্ন। কয়েক মাস আগে #মিটু নিয়ে প্রবল আলোচনা হল। এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন?

এই জিনিসটা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে আই থিঙ্ক কম। আমি পার্সোনালি বলতে পারি, এমন ঘটনা ঘটতে পারে সেই পর্যন্তই কাউকে যেতে দিইনি। এড়িয়ে গিয়েছি। তবে এমন ঘটনার কথা আমি শুনেছি। খুবই আনফরচুনেট। শুধুমাত্র মহিলাদের সঙ্গেই হয়, তেমন নয় কিন্তু। পুরুষরাও ফেস করেন। অ্যাবিউস অফ পাওয়ার। এখানে আরও একটা কথা বলব। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির এমনিতেই সবেতে বদনাম হয়। টিপিক্যাল একটা মাইন্ডসেট আছে। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা সব জায়গাতেই হয়। সমাজের সব জায়গায়। এমনকী বাড়িতেও হয়।

থ্যাঙ্ক ইউ, আমাদের এতটা সময় দেওয়ার জন্য। POPxo বাংলার তরফে অনেক শুভেচ্ছা…

আমারও কথা বলে খুব ভাল লাগল। থ্যাঙ্ক ইউ।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আপনি যদি রংচঙে, মিষ্টি জিনিস কিনতে পছন্দ করেন, তা হলে POPxo Shop-এর কালেকশনে ঢুঁ মারুন। এখানে পাবেন মজার-মজার সব কফি মগ, মোবাইল কভার, কুশন, ল্যাপটপ স্লিভ ও আরও অনেক কিছু!