বারোয়ারি টু থিমের পুজো, ভায়া সার্বজনীন, দুর্গাপুজোর সেকাল ও একাল in Bengali | POPxo

পুজোর নস্ট্যালজিয়া: বারোয়ারি থেকে সার্বজনীন, সেখান থেকে থিমপুজো, একনজরে দুর্গাপুজোর দিনবদল

পুজোর নস্ট্যালজিয়া: বারোয়ারি থেকে সার্বজনীন, সেখান থেকে থিমপুজো, একনজরে দুর্গাপুজোর দিনবদল

পুরো জার্নিটার কথা একবার ভাবুন তো, গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে! সেই কবে ১৭৯০ সালে গুপ্তিপাড়ার ১২ জন ব্রাহ্মণ বন্ধু মিলে শুরু করেছিলেন বারো-ইয়ারি (barowari) দুর্গাপুজো, সেই পুজো কালক্রমে ডালপালা মেলে এমন ব্যাপারে গিয়ে দাঁড়াল যে, এখন পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রির নামই দ্য গ্রেট দুর্গা পুজো! পাঁচদিনের এই উৎসবটিকে এখন প্রায় মহালয়ায় টেনে নিয়ে গিয়েছি আমরা! এটিকে উপলক্ষ করেই এখন বাঙালির জীবন আবর্তিত হয়। ইন ফ্যাক্ট, আমাদের ক্যালেন্ডারও শুরু হয় পুজো থেকেই! তাই এহেন উৎসবটি যে এত দিন ধরে বারবার রূপ, রস, ঢং পাল্টাবে, সে তো জানা কথাই! আজ দুর্গাপুজোর (Durga Puja) এই জার্নির (evolution) কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিতে এসেছি আমরা... 

বারো ইয়ারি দুর্গা পুজো, বন্ধুদের হাত ধরেই সার্বজনীন উৎসবের সূচনা

হুগলির গুপ্তিপাড়ায় যদি বনেদি বাড়ির পুজোয় জাতিধর্মনির্বিশেষে সকলের প্রবেশানুমতি থাকত আর সকলে মিলে সেখানে আনন্দ করতে পারতেন, তা হলে হয়তো আমরা এখন দশেরা পালনের প্রস্তুতি নিতাম আর দুর্গাপুজো ব্যাপারটা বনেদি বাড়ির নাকউঁচু লোকদের একচেটিয়া হয়েই থেকে যেত! তার উপর সকলের পুজো হয়ে ওঠা হত না। আসলে ১৭ শতকে গ্রামের পুজোতে সকলের আনন্দ করার অনুমতি ছিল না বলেই, গুপ্তিপাড়ার ১২ জন বন্ধু মিলে ঠিক করেছিলেন তাঁরা এমন একটা পুজো শুরু করবেন, যেখানে সকলে সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন! সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় বারোয়ারি পুজো। বারো জন ইয়ার বা বন্ধু মিলে এই পুজো শুরু করেন বলে তার নাম লোকমুখে হয়ে যায় বারোইয়ারি পুজো, সেখান থেকে অপভ্রংশ হয়ে বারোয়ারি! এই বারোয়ারি দুর্গাপুজোই এখনকার সার্বজনীন পুজোর দাদাঠাকুর বলতে পারেন! সালটা কত, তা নিয়ে নানা মতামত আছে। কেউ বলেন, ১৭৬১, কেউ বলেন ১৭৯০। মোট কথা, সেই ১৭ শতকেই বিপ্লবটা ঘটেছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।  

২. কলকাতার কয়েকটি বিখ্যাত বারোয়ারি পুজোর গল্প

ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রাম

জেলা দিয়ে যে বিপ্লব শুরু হয়েছিল, তার ঢেউ কলকাতায় এসে পৌঁছতে অনেকটা সময় নিয়েছিল। কলকাতার প্রথম বারোয়ারি দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয় ভবানীপুরে, বলরাম বসু ঘাট রোডে। ১৯০৯ সালে এই পুজোর আয়োজক ছিল ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা। এই পুজো উপলক্ষেই শ্রী অরবিন্দ তাঁর বিখ্যাত দুর্গা স্তোত্রটি রচনা করেছিলেন। সেই স্তোত্রটি নিয়ে এতটাই হইহই পড়ে গিয়েছিল চতুর্দিকে যে, সরকার বাহাদুর ভেবেও নিয়েছিলেন যে, দুর্গাপুজোর আড়ালে আসলে দেশমাতৃকার পুজোরই আয়োজন করা হয়েছে সেখানে। এর পর বেশ কয়েকটি বারোয়ারি পুজো শুরু হয় উত্তপ কলকাতায়। ১৯১১ সালে শ্যামপুকুর আদি সার্বজনীন (শ্যামবাজার অঞ্চলে), ১৯১৩ সালে নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপুজো, যেটি পরে বাগবাজার সার্বজনীনে (১৯১৯ সাল থেকে) রূপান্তরিত হয়েছে, হিসেবমতো এবার এই পুজো ১০০ বছর পার করবে। ১৯১৫ সালে কলেজ স্ট্রিট চত্বরের তামের লেনে শুরু হয় আরও একটি বারোয়ারি দুর্গাপুজো, তামের লেন সার্বজনীন দুর্গোৎসব। ২০১৫ সালে এই পুজোটি ১০০ বছর পেরিয়েছে! ১৯২৬ সালে সিমলা ব্যায়াম সমিতি শুরু করে সার্বজনীন দুর্গাপুজো। স্বামী বিবেকানন্দের ছোট ভাই মহেন্দ্র লাল দত্ত থেকে শুরু করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু পর্যন্ত অনেক মহাপুরুষের নামই জড়িয়ে ছিল এই পুজোর সঙ্গে। 

এর পর কলকাতার আরও বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয় নানা বারোয়ারি পুজোর, যার পোশাকি নাম তখন হয়েছে সার্বজনীন দুর্গাপুজো। 

 

৩. থিম পুজোর সেকাল ও একাল

ইনস্টাগ্রাম
ইনস্টাগ্রাম

দুর্গা পুজোরও যে থিম হতে পারে, প্যান্ডেল থেকে শুরু করে প্রতিমা, আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে লাউডস্পিকারে বাজা গানও যে একই ধাঁচে ঢালা হতে পারে, তা জানাই যেত না, যদি না এশিয়ান পেন্টস পূর্ব ভারতে তাদের ব্যবসা বড় করার কথা ভাবত! এই রংয়ের কোম্পানিটি প্রথম শারদ সম্মান চালু করে, যার ট্যাগলাইন ছিল সুস্থ রুচি, শুদ্ধ শুচি! মানে, প্যান্ডেল-প্রতিমা-আলোকসজ্জা, সবকিছুর মধ্যে থাকতে হবে সুস্থ ভাবনার ছাপ, পরিশীলিত রুচির আঁচড়, তবেই আপনার পুজোটি হয়ে উঠবে সেরা! এই পুরস্কারের চক্করে পড়েই কলকাতার সার্বজনীন দুর্গোৎসব এক ধাক্কায় সাবালক হয়ে গেল! তখন মা দুর্গা নিত্য নতুন রূপে দেখা দিতে শুরু করলেন। লাউডস্পিকারে কিশোরকুমারের জায়গায় চলে এলেন বিসমিল্লা খান আর আলোকসজ্জাও হয়ে গেল একেবারে ঢিমে, পরিশীলিত। মোট কথা, বাঙালি দুর্গাপুজো আর গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের বাৎসরিক এগজিবিশনের মধ্যে আর কোনও ফারাক রইল না! 

এশিয়ান পেন্টসের পরও আরও বহু ব্র্যান্ড পুজোর সম্মান চালু করেছে। অনেকগুলি জনপ্রিয়তাও পেয়েছে। কিন্তু সাবেকি পুজোকে থিম পুজোয় পরিণত করার কৃতিত্বের সিংহভাগের দাবিদারই এই শারদ সম্মানটি!

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এসে গেল #POPxoEverydayBeauty - POPxo Shop-এর স্কিন, বাথ, বডি এবং হেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে, যা ব্যবহার করা ১০০% সহজ, ব্যবহার করতে মজাও লাগবে আবার উপকারও পাবেন! এই নতুন লঞ্চ সেলিব্রেট করতে প্রি অর্ডারের উপর এখন পাবেন ২৫% ছাড়ও। সুতরাং দেরি না করে শিগগিরই ক্লিক করুন POPxo.com/beautyshop-এ এবার আপনার রোজকার বিউটি রুটিন POP আপ করুন এক ধাক্কায়...