পুজোর সকালে বাড়িতেই তৈরি করুন মুখরোচক হিংয়ের কচুরি আর ছোলার ডাল, রইল রেসিপি

পুজোর সকালে বাড়িতেই তৈরি করুন মুখরোচক হিংয়ের কচুরি আর ছোলার ডাল, রইল রেসিপি

দুর্গা পুজো (Durga Puja) মানেই পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বেশ অনেকটা সময় কাটানো। দুর্গা পুজো মানে ব্যস্ততা ভরা জীবনের থেকে একটু বিরতি। দুর্গা পুজো (Durga Puja) মানে কিন্তু আবার পেটপুজোও বটে! আর সক্কাল সক্কাল বাঙালিদের পাতে কচুরি আর ছোলার ডাল না পড়লে কি জলখাবারটা জমে? রইল দুটো সনাতনী বাঙালি জলখাবারের রেসিপি (authentic bengali breakfast recipes), এই দুর্গা পুজোতে আপনিও ট্রাই করতে পারেন। 

নারকেল কুচি দিয়ে ছোলার ডাল

ইনস্টাগ্রাম

দুর্গা পুজোর (Durga Puja) সকালে যদি পেটপুজোটাও বেশ জমাটি হয় তাহলে মন্দ কী! নারকেল কুচি দিয়ে মিষ্টি মিষ্টি ছোলার ডাল হিঙের কচুরির সঙ্গে কিন্তু বেশ ভালই লাগে, তাই না?

যা-যা উপকরণ প্রয়োজন

ছোলার ডাল – ২০০ গ্রাম, নারকেল কুচি – দুই টেবিল চামচ, কাজু বাদাম – ১০-১৫টি, কিশমিশ – ১ টেবিল চামচ, আদা বাটা – ১ টেবিল চামচ, কাঁচা লঙ্কা বাটা – আধ চা চামচ, হলুদ গুঁড়ো – আধ চা চামচ, জিরে গুঁড়ো – আধ চা চামচ, কাশ্মীরি লাল লঙ্কার গুঁড়ো – আধ চা চামচ, হিং – আধ চা চামচ, তেজপাতা – একটি (বড়), গোটা জিরে – আধ চা চামচ, শুকনো লঙ্কা – ২টো, দারচিনি – একটি (ছোট টুকরো), এলাচ – দুটো, লবঙ্গ – ৩-৪টে, গরম মশলা গুঁড়ো – এক চা চামচ, চিনি – এক চা চামচ, নুন – স্বাদ অনুযায়ী, আলু – একটা (ছোট মাপের এবং ছোট টুকরো করা) এবং সাদা তেল – এক টেবিল চামচ

প্রণালী

এক কাপ জলে দুটো গোটা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ছোলার ডাল সেদ্ধ করে নিন। যদি প্রেশার কুকারে সেদ্ধ করেন তাহলে তিনটে সিটি পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং তিনটি সিটি পড়ার পর ভাপ ছাড়লে তবেই প্রেশার কুকারের ঢাকনা খুলে দিন। এবারে একটা কড়াইতে তেল গরম করে প্রথমে হিং দিন এবং একে একে গোটা তেজপাতা, গোটা জিরে, লবঙ্গ, এলাচ, শুকনো লঙ্কা, দারচিনি ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বেরলে আগে থেকে কেটে রাখা আলুর টুকরো দিয়ে সামান্য ভেজে নিন। লাল করে কিন্তু ভাজবেন না। এবারে আদা বাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। এবারে একে একে জিরে গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো এবং কাঁচা লঙ্কা বাটা দিন। মশলা ভাজা ভাজা হয়ে গেলে নারকেল কুচি দিয়ে নেড়ে নিন। এবারে কাশ্মীরি লাল লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে কষিয়ে নিন। এবারে সেদ্ধ করে রাখা ছোলার ডাল জল সমেত কড়াইতে ঢেলে দু’তিন মিনিট ফোটান। এ সময়ে কিন্ত আঁচ বাড়িয়ে নেবেন। এবারে নুন দিয়ে নেড়ে নিন এবং বেশি আঁচেই ফুটতে দিন ডাল। যতক্ষণ ছোলার ডাল ফুটছে, তার মধ্যে কাজু, কিশমিশ ও চিনি দিয়ে দিন। দেখবেন ডাল বেশ ঘন হয়ে আসছে। তখন উপর থেকে গরম মশলা ছড়িয়ে আরও একবার নেড়ে নিন। আঁচ বন্ধ করে মিনিট পাঁচেক ঢাকা দিয়ে রাখুন। এরপর গরম গরম হিঙের কচুরির সঙ্গে পরিবেশন করুন নারকেল কুচি দেওয়া ছোলার ডাল!

হিঙের কচুরি

ইনস্টাগ্রাম

নারকেল কুচি দিয়ে ছোলার ডালের সঙ্গে সকালের জলখাবারে যদি হিঙের কচুরি পাওয়া যায়, তাহলে কিন্তু দুর্গা পুজোটা (Durga Puja) জমে যাবে বলুন?

যা-যা উপকরণ প্রয়োজন

পুরের জন্য: বিউলির ডাল – ১৫০ গ্রাম (সারা রাত জলে ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে জল ঝরিয়ে নিন), আদা – এক ইঞ্চি, কাঁচা লঙ্কা – দু’তিনটি,  হিং – ১ টেবিল চামচ, সাদা তেল – এক টেবিল চামচ, চিনি – এক চা চামচ, নুন – স্বাদ অনুযায়ী

কচুরির জন্য: ময়দা – ২৫০ গ্রাম, কালোজিরে – আধ চা চামচ, চিনি – এক চা চামচ, নুন – স্বাদ অনুযায়ী এবং সাদা তেল – ভাজার জন্য

ভাজা মশলার জন্য: গোটা ধনে – এক টেবিল চামচ, গোটা জিরে – এক টেবিল চামচ, শুকনো লঙ্কা – ছয় সাতটি

প্রণালী

হিঙের কচুরির পুরে ভাজা মশলা পড়ে, কাজেই সবার আগে ভাজা মশলাটা তৈরি করে নিন। শুকনো খোলায় গোটা ধনে, জিরে আর শুকোনো লঙ্কা হালকা সেঁকে নিয়ে গ্রাইন্ডারে দিয়ে গুঁড়ো করে নিন। মিহি করে গুঁড়ো করা হয়ে গেলে আলাদা করে সরিয়ে রাখুন।

এবারে ময়দা মেখে নিন। সামান্য নুন ও চিনি ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে হাত দিয়ে মিশিয়ে নিন। এবারে সামান্য হিং দিয়ে আরও একবার শুকনো অবস্থাতেই মিশিয়ে নিন। এবারে সাদা তেল দিয়ে ভাল করে মেশান এবং অল্প অল্প করে জল দিয়ে ঠেসে একটা ডো তৈরি করে নিন। ময়দা মাখার সময়ে অল্প কালো জিরেও ছড়িয়ে দিতে পারেন। ময়দা মাখা হয়ে গেলে একটা নরম কাপড় দিয়ে মিনিট ২০ ঢাকা দিয়ে রেখে দিন এবং তার মধ্যে কচুরির পুর তৈরি করে নিন।

এবার পুর তৈরি করে নিতে হবে। তার জন্য প্রথমে ভেজানো বিউলির ডাল বেটে নিন। ডাল বাটার সময়ে তার মধ্যেই আদা আর কাচালঙ্কাও একসঙ্গে দিয়ে নিন। এবারে একটা কড়াই বা ফ্রাইং প্যানে তেল গরম করে তাতে কালোজিরে ফোড়ন দিন এবং বেটে রাখা ডাল দিয়ে দিন। এবারে একে একে নুন, চিনি, ভাজা মশলা আর হিং দিয়ে বেশ ভাল করে মেশাতে হবে। এই কাজটা খুব তাড়াতাড়ি করতে হবে যাতে ডাল পুড়ে না যায় অথচ ডালের সঙ্গে বাকি মশলাগুলোও সমানভাবে মিশে যায়। এবার নাড়তে নাড়তে যখন দেখবেন শুকিয়ে গেছে, তখন আঁচ বন্ধ করে কচুরির পুরটা অন্য একটা পাত্রে নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে নিন।

এবারে কচুরি তৈরি করতে হবে। তবে তার আগে মেখে রাখা ময়দা আরও একবার ঠেসে নিন এবং ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। এবারে লেচি গোল করে নিন এবং চেপে চেপে একটি বাটির আকার দিন। এবারে তৈরি করে রাখা পুর অল্প করে নিয়ে ময়দার বাটিতে ভরে দিন এবং খুব সাবধানে বাটির মুখ বন্ধ করে আরও একবার গোল্লা পাকিয়ে হালকা হাতে বেলে নিন। এবারে কড়াইতে বেশ খানিকটা তেল নিয়ে গরম করে নিন এবং একটা একটা করে কচুরি ভেজে নিন। লাল লাল হয়ে উঠলে কচুরির থেকে তেল ঝরিয়ে নারকেল কুচি দেওয়া ছোলার ডালের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

সঙ্গে কিন্তু মিষ্টি অবশ্যই পরিবেশন করবেন, তবে সেটা কেনা মিষ্টি হলেও ক্ষতি নেই!

মূল ছবি সৌজন্য:ইনস্টাগ্রাম 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এসে গেল #POPxoEverydayBeauty - POPxo Shop-এর স্কিন, বাথ, বডি এবং হেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে, যা ব্যবহার করা ১০০% সহজ, ব্যবহার করতে মজাও লাগবে আবার উপকারও পাবেন! এই নতুন লঞ্চ সেলিব্রেট করতে প্রি অর্ডারের উপর এখন পাবেন ২৫% ছাড়ও। সুতরাং দেরি না করে শিগগিরই ক্লিক করুন POPxo.com/beautyshop-এ এবার আপনার রোজকার বিউটি রুটিন POP আপ করুন এক ধাক্কায়...