বনেদি বাড়ির পুজোর ভোগ আর নৈবেদ্যর বৈচিত্র রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেয়!

বনেদি বাড়ির পুজোর ভোগ আর নৈবেদ্যর বৈচিত্র রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেয়!

তামাম কলকাতা শহর ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যে যে বনেদি বাড়ির পুজো (puja) হয় তা নিয়ে রীতিমতো একটি গবেষণাপত্র লিখে ফেলা যায়। ইতিমধ্যেই আমরা কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নানা বনেদি (aristocrat) বাড়িতে (families) আপনাদের নিয়ে গেছি। কিন্তু শুধু বনেদি বাড়ির পুজোর রীতি দিয়েই ইতিহাস শেষ হয়না। একেক বাড়িতে আছে একেক রকম ভোগ (bhog) নিবেদনের পালা। বৈচিত্র আছে নৈবেদ্যতেও। আপনি শুনলে অবাক হবেন এই ভেবে যে এমনটাও হয় নাকি। আসুন দেখে নেওয়া যাক কোন বাড়িতে কীরকম ভোগ আর নৈবেদ্য দেওয়া হয় মা দুর্গাকে। 

Instagram

পাথুরিয়াঘাটার ঘোষবাড়িতে কোনও অন্নভোগ দেওয়া হয়না মা দুর্গাকে। তার পরিবর্তে দেওয়া হয় নানা রকমের মিষ্টি যেমন চন্দ্রপুলি, পেস্তার বরফি ইত্যাদি। সঙ্গে তামার থালায় দেওয়া হয় পাঁচকলাই, আদা কুচি আর সৈন্ধব নুন। শীতল ভোগে মা খান লুচি আর চন্দনী ক্ষীর। তবে নৈবেদ্যর কথাই যদি বলেন তাহলে একবার অন্তত শীলবাড়ির পুজো দেখে আসবেন। এখানে দেওয়া হয় ২৮ কেজির নৈবেদ্য। ২৮টি পাত্রে এক মণ করে চাল, কলা আর মিষ্টি দিয়ে এই নৈবেদ্য দেওয়া হয়। ঘোষবাড়ির মতো শীলবাড়িতেও কোনও অন্নভোগ হয়না। তার বদলে মাকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। পঞ্চমীর দিন এই বাড়িতে ভিয়েন বসিয়ে তৈরি হয় কচুরি, শিঙাড়া, নিমকি, লেডিকেনি, মালপোয়া, গজা, নারকেল নাড়ু ইত্যাদি। 


বিধান সরণির চন্দ্র বাড়িতে ভোগ আর নৈবেদ্য দুটোই রীতিমতো হাঁ করে তাকিয়ে দেখতে হয়। প্রতি বছর নিয়ম করে পুজোর সময় এখানে ভিয়েন বসে। প্রতিদিন মা দুর্গাকে ১৭টি থালায় চাল, কলা আর মিষ্টি দিয়ে নৈবেদ্য দেওয়া হয়। ভোগের মধ্যে থাকে লুচি, আলুভাজা, নারকেল নাড়ু, রসবড়া, চন্দ্রপুলি সব। দশমীর দিন নিয়ম আছে মাছ কিনে রান্না করে খাওয়ার। একেকটি বাড়ির একেকটি নিয়ম। হাটখোলার দত্তবাড়িতে যেমন চিনি বেটে তারপর রান্নায় দেওয়া হয়। ঘিয়ে ভাজা লুচি আর বাটা চিনি এই বাড়ির বিশেষ ভোগ। আবার ২১ রকমের তাক লাগানো মিষ্টি দেওয়া হয় লাহা বাড়িতে। এদিকে যুগ যুগ ধরে হালদারবাড়ি মেনে আসছে ‘পাঁচ পো’ প্রথা। এর মানে হল এখানে চাল, ডাল, দুধ, নুন, তেল সব কিছুই থাকবে পাঁচ পো। যদি একচুলও কম বা বেশি হয় তাহলে সেই ভোগ আর দেবীকে দেওয়া যায়না। 

শোভাবাজার রাজবাড়ির স্পেশ্যাল আলুরদম

Instagram

তবে ভোগ আর নৈবেদ্য শুধু নয়, কলকাতার বিভিন্ন বনেদি বাড়িতে পুজোর সময় রান্না হয় কিছু স্পেশ্যাল পদ। যেমন ষষ্ঠীর দিন শোভাবাজার বাজার রাজবাড়িতে লুচির সঙ্গে হয় স্পেশ্যাল আলুরদম। এই আলুরদমের রেসিপি বংশ পরম্পরায় সিক্রেট হিসেবে চলে আসছে। বাড়ির গিন্নি এই আলুরদমে দেন স্পেশ্যাল মশলা। যার মধ্যে থাকে শুকনো লঙ্কা, সাদা জিরে গোটা, গোটা ধনে, গরমমশলা,  দারচিনি, লবঙ্গ, ছোট এলাচ। এগুলো আগে শুকনো খোলায় ভেজে গুঁড়িয়ে নিতে হবে। এই মশলা আলুর সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার পর ছড়িয়ে দিতে হবে আমচুর। 

সাবর্ণ চৌধুরীদের পেঁয়াজ রসুন ছাড়া স্পেশ্যাল চিংড়ি মালাইকারি

instagram

নিরামিষ আলুরদমে যেমন কেল্লা ফতে করেছে শোভাবাজার, ঠিক তেমনই পেঁয়াজ রসুন ছাড়াই চিংড়ির মালাইকারি করে সিক্সার হাঁকায় সাবর্ণ চৌধুরীরা। এর জন্য আপনাকে তেল আর ঘি মিশিয়ে কড়াইতে দিতে হবে। তার মধ্যে গরমমশলা, নুন আর আদাবাটা দিয়ে কষে হলুদ আর লঙ্কাগুঁড়ো জলে গুলে তার মধ্যে ঢেলে দিন। তার মধ্যে চিংড়িমাছগুলো দিন। আগে থেকে নুন হলুদ মিশিয়ে রাখবেন। এর মধ্যে কাজু বাদাম বাটা, চিনি আর নারকেলের দুধ দিয়ে দশ মিনিট ভাপালেই রান্না রেডি।  

 

Featured Images: kalikalpalata and getbengal

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এসে গেল #POPxoEverydayBeauty - POPxo Shop-এর স্কিন, বাথ, বডি এবং হেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে, যা ব্যবহার করা ১০০% সহজ, ব্যবহার করতে মজাও লাগবে আবার উপকারও পাবেন! এই নতুন লঞ্চ সেলিব্রেট করতে প্রি অর্ডারের উপর এখন পাবেন ২৫% ছাড়ও। সুতরাং দেরি না করে শিগগিরই ক্লিক করুন POPxo.com/beautyshop-এ এবার আপনার রোজকার বিউটি রুটিন POP আপ করুন এক ধাক্কায়...