রান্নার গ্যাস বাঁচানোর এই কায়দাগুলি জেনে রাখলে মাসের শেষে সুবিধে হবে আপনারই

রান্নার গ্যাস বাঁচানোর এই কায়দাগুলি জেনে রাখলে মাসের শেষে সুবিধে হবে আপনারই

একটা দুঃস্বপ্নের কথা দিয়ে শুরু করা যাক! ধরুন, একদিন সকালে উঠে দেখলেন, রান্নার গ্যাসের উপর থেকে সরকার ভর্তুকি তুলে দিয়েছে। কী মনে হবে আপনার? আচ্ছা, কয়েকটা অপশন দিচ্ছি। এক, ভিরমি খেয়ে আবার ঘুমোতে চলে যাবেন। দুই, দড়ি-কলসি খুঁজবেন, তারপর পুকুর। তিন, সরকারকে তেড়ে গালি দিয়ে ঠিক করবেন এবার সোলার কুকার কিনবেন। চার, ঘাবড়ে গিয়ে ঠিক করবেন এবার থেকে হাওয়া খেয়ে ডায়েটিংটা শুরু করে দেবেন! আমার তো চার নম্বরটাই সবচেয়ে জোরদার ঠেকছে। আসলে রান্নার গ্যাস আর ওষুধপত্র, এই দু'টি বিষয় ছাড়া আজকাল ঠিকঠাক শ্বাস-প্রশ্বাসই নেওয়া যায় না। দ্বিতীয়টিতে কোনওদিনই ভর্তুকি ছিল না। কিন্তু প্রথমটিতে এখনও আছে। আর সেই জোরেই আমরাও আছি। সরকার গ্যাস (cooking gas) থেকে ভর্তুকি তুলে দেওয়ার কথা বললেই আমাদের বুক ধরফরানি শুরু হয়! কারণ, গড়ে প্রতিটি মধ্যবিত্ত বাঙালি বাড়িতেই মাসে দেড় খানা সিলিন্ডার গ্যাস লাগেই। ভর্তুকি দিয়েই সেই সিলিন্ডারের যা দাম, ভর্তুকি উঠে গেলে সেই সিলিন্ডারের যে কত দাম দাঁড়াবে, তা ভাবতেও কেউ চায় না। তাই সময় থাকতে-থাকতে গ্যাস বাঁচানোর (save) কায়দা (tricks) রপ্ত করে রাখুন। বিপদের দিনে বেবাক কাজে আসবে।   

গ্যাস বাঁচানোর ১০টি কায়দা

Pixabay

১. নিয়মিত চেকআপ জরুরি: গ্যাসের বার্নার, পাইপ, নব, রেগুলেটর নিয়মিত লিকের জন্য পরীক্ষা করাবেন। হয়তো আপনি জানেনও না, কোনও একটি ছোট্ট লিক দিয়ে অল্প-অল্প করে গ্যাস বেরিয়ে যাচ্ছে, যা অলক্ষেই আপনার গ্যাসের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। তা ছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণেও এটি করা জরুরি।

২. রান্নার পাত্র যেন শুকনো থাকে: রান্নার জন্য কড়াই, ডেকচি, সসপ্যান যা-ই গ্যাসের উপর বসান না কেন, তা যেন শুকনো হয়। আমাদের অনেকেরই অভ্যেস আছে কড়াইয়ে একবার রান্না করে সেটি জল-ধোওয়া করে নিয়ে আবার অন্য একটি রান্নার জন্য বসানোর। এক্ষেত্রে গ্যাসে কড়াই শুকোবেন না। তাতে ফালতু গ্যাসের খরচ বাড়বে। পাত্রটি শুকিয়ে নিয়ে কিংবা মুছে নিয়ে তবেই সেটি গ্যাসে চাপান।

৩. অতিরিক্ত সময় ধরে ফুটতে দেবেন না: তাতে খাবারের স্বাদ তো বাড়বেই না, উল্টে গ্যাস পুড়বে অহেতুক।

৪. ঢাকা দেওয়া পাত্রে রান্না করুন: রান্না করার সময় ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। এতে তাপজনিত বাষ্প ভিতরেই জমা হয়ে তাড়াতাড়ি সেদ্ধ করে। ফলে গ্যাসের খরচ কর হয়।

৫. ফ্লাস্কে গরম জল স্টোর করুন: রান্না শুরুর আগে প্রয়োজনমতো জল একবারে ফুটিয়ে নিয়ে তা একটি ফ্লাস্কে ভরে রেখে দিন। এর পর ডাল, ঝোল কিংবা তরকারিতে জল দেওয়ার সময় ওই জলই ব্যবহার করুন। যেহেতু ওটি ফ্লাস্কে রাখা ছিল, ফলে তা গরমই আছে। গরম রান্নায় ঠান্ডা জল ঢেলে রান্নার তাপমাত্রা নামিয়ে আবার বেশি সময় ও গ্যাস খরচ করে সেটিকে ফোটানোর কোনও মানে হয় না।

৬. কম আঁচে রান্না করুন: গ্যাস সিম করে রান্না করলেই আসলে গ্যাসের খরচ সবচেয়ে বেশি কম হয়। এটা মাথায় রাখবেন সব সময়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে নাকি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস বাঁচে।

৭. প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন: শুধুমাত্র স্টু তৈরির সময় নয়। কিংবা বাচ্চার খাবার তৈরির সময়ও নয়। রোজকার রান্নাবান্নাতেও প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন যতটা বেশি করে পারেন। দরকার হলে ইউ টিউবে প্রেশার কুকারে রান্না করার পদ্ধতি শিখে নিন।

৮. বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার করুন: বার্নার যত নোংরা থাকবে, গ্যাস তত বেশি পুড়বে। তাই দিনপনেরো পরপর বার্নার ভাল করে পরিষ্কার করে নিন।

৯. উপকরণগুলি হাতের কাছে নিয়ে তবেই রান্না শুরু করুন: এটা আমাদের বদভ্যেস। ধরুন, মাছের ঝোল রাঁধবেন। মাছে নুন-হলুদ মেখে ভাজতে বসিয়ে দিলেন, এদিকে আলু কাটা হয়নি। এবার মাছ ভাজা হতেই থাকল...আপনি আলু-টালু কুটে তারপর আবার গ্যাস বাড়িয়ে রান্না শুরু করলেন। এতে গ্যাস যে বেশি খরচ হল, সে খেয়াল আমরা অনেকেই রাখি না। তাই রান্নার জন্য যা-যা চাই, তা হাতের কাছে নিয়ে তারপর রান্না চাপান।

১০. রান্না হয়ে এলে গ্যাস নিভিয়ে দিন: অবাক হচ্ছেন? হবেন না প্লিজ। আসলে রান্না চলাকালীন খাবারটি এতটাই উত্তাপ ভিতরে স্টোর করে রাখে যে, গ্যাস নিভিয়ে দেওয়ার পরেও সেই তাপ নামতে একটু সময় লাগে। তাই সেই তাপে বাকিটুকু রান্না হয়ে যায়। সেটি শুধু-শুধু গ্যাস জ্বালিয়ে শেষ করার দরকার নেই।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

এসে গেল #POPxoEverydayBeauty - POPxo-র স্কিন, বাথ, বডি এবং হেয়ার প্রোডাক্টস নিয়ে, যা ব্যবহার করা ১০০% সহজ, ব্যবহার করতে মজাও লাগবে আবার উপকারও পাবেন! এই নতুন লঞ্চ সেলিব্রেট করতে প্রি অর্ডারের উপর এখন পাবেন ২৫% ছাড়ও। সুতরাং দেরি না করে শিগগিরই ক্লিক করুন POPxo.com/beautyshop-এ এবার আপনার রোজকার বিউটি রুটিন POP আপ করুন এক ধাক্কায়..