‘চূনী-পান্না’য় তুলিকার চরিত্রটি কি ‘গয়নার বাক্স’র মৌসুমীর মতো? in bengali | POPxo

‘চূনী-পান্না’য় তুলিকার ভূতের চরিত্রটি কি ‘গয়নার বাক্স’র মৌসুমীর মতো?

‘চূনী-পান্না’য় তুলিকার ভূতের চরিত্রটি কি ‘গয়নার বাক্স’র মৌসুমীর মতো?

দীর্ঘ ২২ বছরের অভিনয় জীবন তাঁর। ফিল্ম হোক বা টেলিভিশন- সমান স্বচ্ছন্দ তিনি। যে কোনও চরিত্র আজও পারফর্ম করার আগে নিজের সঙ্গে নিজের একটা প্রস্তুতি সেরে নিতে ভালবাসেন। সময়ে পৌঁছনো, কথা দিয়ে কথা রাখা তাঁর পছন্দের। তিনি অর্থাৎ অভিনেত্রী তুলিকা (Tulika) বসু। 

আগামী শুক্রবার মুক্তি পাবে নেহাল দত্ত পরিচালিত ‘জিও জামাই’। মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন হিরণ। সেখানে তুলিকা রয়েছেন অন্যরকম চরিত্রে। “অন্যরকম বলতে টিপিক্যাল মা নয়। এখানে মেয়ের মায়ের চরিত্র আমার। যে শাঁখা, পলা পরে না। খোঁপাতে অভ্যস্ত নয়। আবার সিঁদুরটাও হাইলাইট করে না। মেয়ের বাবা-মায়ের সম্পর্কটা এক্সপ্লোর করা হয়েছে এখানে” বললেন তুলিকা।

সেই তুলিকাই যখন একমাথা সাদা চুলের খোঁপা, বড় সিঁদুরের টিপ, শাঁখা-পলা, আটপৌরে শাড়ি পরে এসে টেলিভিশনের পর্দায় দাঁড়ান, দর্শক বাহবা দিয়ে ওঠেন। ‘চূনী-পান্না’ ধারাবাহিকে তুলিকার চরিত্রের সাজ অনেকটা এমনই। ভূতের (ghost) চরিত্র! খুব বেশিদিন এই ধারাবাহিকের বয়স নয়। কিন্তু এর মধ্য়েই তাঁর কাজ ভাল লাগছে দর্শকের।

 

‘জিও জামাই’-এর একটি দৃশ্যে রজতাভ দত্ত এবং হিরণের সঙ্গে তুলিকা।
‘জিও জামাই’-এর একটি দৃশ্যে রজতাভ দত্ত এবং হিরণের সঙ্গে তুলিকা।

ভূতের চরিত্র করতে কেমন লাগছে? তুলিকা হেসে বললেন, “খুবই ভাল লাগছে। এই বাড়ির সঙ্গে মহিলার একটা সম্পর্ক রয়েছে। সেটা ধীরে ধীরে এক্সপ্লোর হবে। আর যে মেয়েটি বাড়ির বউ হয়ে আসে তার আবার ভূত নিয়ে অবসেশন রয়েছে। সে ভূত ধরতে চায়। আর এই ভূতের সেটা পছন্দ নয়। অন্য রকমের কাজ।”

প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামা তুলিকার বরাবরের অভ্যেস। ভুতকে জ্যান্ত করে তুলতে কেমন প্রস্তুতি ছিল? “মনের ইচ্ছেটা সব সময় তো বলি না। কিন্তু ঈশ্বর বোধহয় আমার এই ইচ্ছেটার কথা শুনেছিলেন। কিছুদিন আগেই একটা চরিত্র করেছিলাম যেটা পুরো ঘটি বাড়ির। আর এই ভূত বাঙাল ভাষায় কথা বলে। শক্ত বাঙাল কথা নয়। কারণ সেটা দর্শকের বুঝতে সমস্যা হতে পারে। সহজ করে যতটা বলা যায়, আমি সেটা নিয়ে ভেবেছি। আমার বাবা-মা দুজনেরই আদি বাড়ি বাংলাদেশে। ফলে আমি বাঙাল। কিন্তু আমার বড় হওয়া কলকাতায়। ছোটবেলায় যেখানে ভাড়া থাকতাম, চারপাশে কাকা, দাদু, পিসি অর্থাৎ অন্যান্য ভাড়াটেদের সঙ্গে এমনই আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তাঁরা বাঙাল উচ্চারণে কথা বলতেন। সেটা শুনেছি। সেটাই বোধহয় ভিতরে কোথাও থেকে গিয়েছিল” শেয়ার করলেন তুলিকা।

 

প্রশংসা যেমন রয়েছে, সমালোচনাও থাকাটা স্বাভাবিক। দর্শকের একটা অংশের মনে হয়েছে, অপর্ণা সেন পরিচালিত ‘গয়নার বাক্স’ ছবিতে ভূত পিসিমা অর্থাৎ মৌসুমি চট্টোপাধ্যায় অভিনীত চরিত্রের সঙ্গে এই ধারাবাহিকে তুলিকার চরিত্রটির সাদৃশ্য রয়েছে। সত্যিই কি তাই? তুলিকার জবাব, “আমি যতদূর স্ক্রিপ্ট পড়েছি, কোনও মিল পাইনি। আসলে এটা বাঙালির স্বভাব। তুলনা করতে পছন্দ করি আমরা। একটা শিশু যখন জন্ম নেয়, তখন আমরা বলি কানটা বাবার মতো বা নাকটা মায়ের মতো। শিশু বড় হলে দেখা যায়, হয়তো মায়ের মতো দেখায়। কিন্তু আদতে সে একটা আলাদা মানুষ। তাই কেউই কারও মতো হয় না। একটার থেকে অন্য চরিত্র আলাদা হবেই।”

 

বাংলা ছবির মতো টেলিভিশনেও এখন বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে কাজ হচ্ছে। তাহলে সেই চিরাচরিত শাশুড়ি-বউমার ঝগড়ার কনসেপ্ট থেকে বেরিয়ে কি সাবালক হচ্ছে ছোটপর্দা? তুলিকা মনে করেন, “দর্শক সমালোচনা করেন, আবার দেখেনও। আমি এখনও পর্যন্ত যে সব ধারাবাহিকে কাজ করেছি, টিপিক্যাল সাবজেক্ট নিয়ে নয়। আলাদা। তবে কি বলুন তো, পর্দার গল্প তো বাস্তব থেকেই নেওয়া। আপনারা চারদিকে তাকালেই বুঝবেন, আমাদের বা আত্মীয়-বন্ধুদের বাড়িতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। সে কারণেই তা থেকে গল্প তৈরি হয়। হয়তো এর থেকে নৃশংস ঘটনাই ঘটে। ধারাবাহিকের গল্পের তুলনায় অনেক হিংস্র, ভয়ানক, বিরক্তিকর ঘটনা আমরা নিউজ চ্যানেলে দেখছি প্রতিদিন। সে সব আমরা দেখাতে পারব না। সেন্সরে আটকে দেবে।” 

 

বেতন, কাজের সময় ইত্যাদি নানা সমস্যায় কয়েক মাস আগেও টালমাটাল ছিল টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি। এখন কি সেই সমস্যা মিটেছে? তুলিকা বললেন, “আর্টিস্ট ফোরামের করে দেওয়া নিয়ম এখন অনেকটাই মেনটেন করা হয়। তবে ধারাবাহিকের পারিশ্রমিক পেতে সমস্যা আমারও হয়েছিল। আর্টিস্ট ফোরামের পাশাপাশি অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় খুব সাহায্য করেছিলেন। আগে ইন্ডাস্ট্রিতে এত রাজনীতির মানুষ ছিলেন না। আমরা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মিটিয়ে নিতে পারতাম। এখন তো তা নয়। আমার মনে হয়, আমরা শিল্পী। আমাদের কাজ অভিনয় করা। পারিশ্রমিক বা অন্যান্য বিষয়গুলো দেখার জন্য তো বিভিন্ন পদে অন্য লোক আছেন। সে সব জায়গায় যদি সঠিক মানুষদের নিয়ে আসা হয়, তাহলে আরও ভাল হবে বলে আমার বিশ্বাস।” 

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, তেলুগু, মারাঠি আর বাংলাতেও!

আমাদের এক্কেবারে নতুন POPxo Zodiac Collection মিস করবেন না যেন! এতে আছে নতুন সব নোটবুক, ফোন কভার এবং কফি মাগ, যেগুলো দারুণ ঝকঝকে তো বটেই, আর একেবারে আপনার কথা ভেবেই তৈরি করা হয়েছে। হুমম...আরও একটা এক্সাইটিং ব্যাপার হল, এখন আপনি পাবেন ২০% বাড়তি ছাড়ও। দেরি কীসের, এখনই POPxo.com/shopzodiac-এ যান আর আপনার এই বছরটা POPup করে ফেলুন!