বসন্তে সুস্থ থাকতে ট্রাই করুন এই রেসিপি দুটি

বসন্তে সুস্থ থাকতে ট্রাই করুন এই রেসিপি দুটি

বসন্ত (spring) এসে গিয়েছে। না, সে জন্য এত নাচানাচি করার কিছু নেই। বসন্তকালে না গরম না শীত ব্যাপারটা থাকলেও এই সময়ে কিন্তু বাতাসে নানারকমের জীবাণুর প্রকোপও বেড়ে যায় এবং একইসঙ্গে রোগ-ভোগও আমাদের শরীরকে কাবু করার চেষ্টা করে। তবে বসন্তের একটা ভাল বিষয় হল এই সময় এমন কিছু শাক-সব্জি পাওয়া যায় যা আবার আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়েও দেয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেরকমই কয়েকটি রেসিপি (recipes), যা খেতেও ভাল আবার খাওয়াও ভাল।

লাউ শুক্তো

লাউ শুক্তো, তবে তেতো নয় (ছবি সৌজন্য - ইনস্টাগ্রাম)

শুক্তো খাওয়া শরীরের পক্ষে এমনিই ভাল। মোটামুটি সব রকমের সব্জি থাকে এই রেসিপিটিতে (recipes)। তবে অনেকসময়েই অনেকে সব রকমের সব্জি খেতে চান না। তবে তাতে কিন্তু শুক্তো খাওয়া বন্ধ হবে না। লাউ দিয়ে যদি শুক্তো রান্না করা যায়, তাহলে শরীরে বাতাসের জীবাণু তো প্রবেশ করবেই না, এমনকি পেট থাকবে ঠান্ডা, ফলে শরীরের ভিতরেও বসন্তের (spring) কোনও রোগ বাসা বাঁধবে না। চট করে দেখে নিন এই রেসিপিটি।

উপকরণ

দশ গ্রাম পোস্ত, কয়েকটি ডালের বড়ি, এক চা চামচ আদা বাটা, স্বাদ অনুযায়ী নুন ও চিনি, এক কাপ দুধ, আধ টেবিল চামচ ময়দা, আধ টেবিল চামচ সর্ষের দানা, দুটি তেজ পাতা, এক চা চামচ ঘি, এক কিলো লাউ, কচি লাউয়ের ডাটাও দিতে পারেন যদি থাকে, এক টেবিল চামচ সাদা তেল

প্রণালী

ঘন্টা দুয়েক পোস্ত জলে ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন। এবারে লাউয়ের খোসা ছাড়িয়ে ঝিরিঝিরি করে কেটে নিন। এবারে একটি বড় পাত্রে মাঝারি আঁচে কেটে রাখা লাউ দিয়ে তাঁর মধ্যে সামান্য নুন ও জল দিয়ে একটু নাড়াচাড়া করে দশ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন। লাউ এমনিই জলীয় সব্জি কাজেই খুব বেশি জলে লাউ সেদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। লাউ নরম হয়ে এলে অন্য একটি পাত্রে ঢেলে রেখে দিন। এবারে আবার পাত্রটি গরম করে তাতে সাদা তেল গরম করুন এবং তাতে বড়ি ভেজে নিন। বড়ি হালকা বাদামী হয়ে গেলে তুলে রাখুন। এবারে ওই তেলেই সর্ষে ও তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে আদা বাটা দিয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে দিয়ে পাঁচ মিনিট কষে নিন যাতে আদার কাঁচা গন্ধ চলে যায়। এবারে সেদ্ধ করে রাখা লাউটা দিয়ে দিন। পোস্ত বাটা দিয়ে ভাল করে মেশান এবং নুন ও চিনি দিয়ে নেড়ে নিন। মাঝারি আঁচে মিনিট পাঁচেক রান্না করুন। এবারে দুধ ও ময়দার মিশ্রণ ঢেলে ভাল করে মিশিয়ে পাঁচ মিনিটের জন্য কম আঁচে ঢাকা দিয়ে রাখুন। ইতিমধ্যে বড়ি ভেঙে নিন এবং লাউয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। গরম ভাতে পরিবেশন করুন।

ঝিঙের ঝাল

ঝিঙের ঝাল বসন্তে খেতেও ভাল খাওয়াও ভাল (ছবি সৌজন্য - ইনস্টাগ্রাম)

ঝিঙে পোস্ত তো অনেক খেয়েছেন, কিন্তু ঝিঙের ঝাল খেয়েছেন কি? আসলে বসন্তকালে (spring) যেহেতু আবহাওয়া পরিবর্তিত হয়, শীত থেকে হঠাৎ করেই গরম পড়ে যায়, এই সময়ে শরীরও অসুস্থ হয়ে যায় চট করে। কাজেই, এমন কিছু খাওয়া উচিত যাতে শরীর গরম না হয় আবার খেতেও সুস্বাদু। ঝিঙের এই রেসিপিটি (recipes) কিন্তু একবার বাড়িতে তৈরি করতে পারেন।

উপকরণ

৫০০ গ্রাম ঝিঙে, দুটি কাঁচা লঙ্কা, একটি শুকনো লঙ্কা, আধ চা চামচ কালোজিরে, এক কাপ দুধ, আধ চা চামচ ময়দা, স্বাদ অনুযায়ী নুন ও চিনি, দুই টেবিল চামচ নারকেল কোরানো, এক কাপ জল, দুই টেবিল চামচ সর্ষের তেল

প্রণালী

প্রথমেই ঝিঙের খোসা ছাড়িয়ে ডুমো ডুমো করে কেটে নিন। এবারে একটি হামান-দিস্তায় কাঁচা লঙ্কা, চিনি এবং কালোজিরে ভাল করে থেঁতো করে নিন। সামান্য জল দিয়ে নারকেল বেটে নিন। একটি বড় পাত্রে ঝিঙের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। সামান্য নুন দিন এবং এক কাপ জল দিন। মিনিট দশেক মাঝারি আঁচে রাখুন। এতে ঝিঙে সেদ্ধ হয়ে যাবে কিন্তু গলে যাবে না। এবারে অন্য একটি প্যানে সর্ষের তেল গরম করে তাতে তেজ পাতা, শুকনো লঙ্কা, গোটা কাঁচা লঙ্কা, কালো জিরে ফোড়ন দিয়ে জলসুদ্ধ সেদ্ধ করা ঝিঙে দিয়ে দিন। একটু নেড়ে প্যানে আগে থেকে থেঁতো করে রাখা কাঁচা লঙ্কা, কালো জিরে এবং চিনি দিয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে দিন এবং একটু ফোটাতে থাকুন। ফুটে উঠলে নারকেল বাটা দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। প্রতিটি উপকরণ যেন একে অন্যের সঙ্গে খুব ভাল করে মিশে যায় খেয়াল রাখবেন। কম আঁচে ঢাকা দিয়ে দশ মিনিট রাখুন। এবারে দুধ ও ময়দার মিশ্রণটি দিয়ে আরও একবার ভাল করে নেড়ে নিন। দু’মিনিট আরও ফুটিয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে দুপুরবেলা এই রেসিপিটি পরিবেশন করুন।

POPxo এখন চারটে ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

২০২০ শুরু করুন আমাদের দারুণ দারুণ প্ল্যানার আর স্টেটমেন্ট সোয়েটশার্ট দিয়ে। এগুলো সবকটাই আপনারই মতো একশ শতাংশ মজার এবং অসাধারণ! ওহ হ্যাঁ, শুধুমাত্র আপনার জন্য রয়েছে ২০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থাও। দেরি কিসের আর, এখনই POPxo.com/shop থেকে কেনাকাটা সেরে ফেলুন আর নিজেকে আরেকটু পপ আপ করে ফেলুন!