করোনা হয়েছে কিনা জানতে টেস্ট করাতে পারেন নিজেই? সত্য়িই কি তাই?

করোনা হয়েছে কিনা জানতে টেস্ট করাতে পারেন নিজেই? সত্য়িই কি তাই?

করোনা (coronavirus) ভাইরাসের আতঙ্কে ত্রস্ত গোটা পৃথিবী। ভারতে চলছে লকডাউন। বিভিন্ন দেশ লকডাউনের পথ বেছে নিয়েছে। গৃহবন্দি অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যের চরম অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে মৃত্যু। আর এই পরিস্থিতিতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু মিথ বা খবর ঘুরছে যার সত্যতা বিচার করে নেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। অসত্য বা অর্ধসত্য মিথের উপর নির্ভর করে কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সেটা আপনার ক্ষতি ডেকে আনবে।

এমনই একটি মিথ হল, প্রতিটি মানুষ নিজেই নাকি নিজের করোনা টেস্ট করাতে পারেন। সত্য়িই কি তাই? সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করছেন, যদি কাশি বা অন্য কোনও রকম অসুবিধে ছাড়া ১০ সেকেন্ড প্রশ্বাস বন্ধ করে রাখা যায়, তাহলে আপনার এখনও পর্যন্ত করোনা হয়নি, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারবেন। এই পরিস্থিতি তৈরি হলে, আপনি ধরে নিতে পারেন করোনা এখনও আপনার ফুসফুসে আক্রমণ করেনি।

এই মিথের ভিত্তি কি? মনে করা হচ্ছে, করোনা রোগীর জ্বর বা কাশির উপসর্গ থাকে। তাঁদের ফুসফুসের ৫০ শতাংশে ফিব্রোসিস থাকে। যার ফলে চিকিৎসায় সমস্যা হয়। ১০ সেকেন্ড প্রশ্বাস বন্ধ করে রেখে অসুবিধে না হওয়ার অর্থ নাকি ফুসফুস এখনও পর্যন্ত সংক্রামিত নয়।

মনে রাখা জরুরি, কোনও বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসক এই মিথের এখনও পর্যন্ত কোনও সত্যতা দাবি করেননি। আপনার কাশি রয়েছে কিনা, প্রশ্বাস বন্ধ করে রেখে তা হয়তো আন্দাজ পেতে পারেন। কিন্তু করোনা রয়েছে কিনা, তা বোঝার জন্য নির্দিষ্ট পরীক্ষা প্রয়োজন। কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞই একমাত্র এ বিষয়ে শেষ কথা বলতে পারবেন। ফলে এই মিথ বিশ্বাস করার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং কোনও সমস্যা হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসায় গাফিলতি করলে ভবিষ্যতে তা বড় আশঙ্কার কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে করোনা-পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আগামী সোমবার ফের ভিডিয়ো-বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম দফার লকডাউন ঘোষণার আগে, ২০ মার্চ মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিয়ো-বৈঠকে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। ১১ এপ্রিল দ্বিতীয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীদের অধিকাংশই লকডাউন বাড়ানোর পক্ষে মত দেন। তার পরে ৩ মে পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার লকডাউন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি সূত্রের মতে, মোট ৪০ দিনের লকডাউন শেষের পরে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্র। কিন্তু তার আগে মুখ্যমন্ত্রীদের কাছ থেকে গোটা দেশের বাস্তব পরিস্থিতির খতিয়ান নিতে চান প্রধানমন্ত্রী। সোমবার অর্থাৎ ২৭ এপ্রিলের বৈঠক সেই কারণেই ডেকেছেন তিনি। তিনি মুখ্যমন্ত্রীদের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের জন্য পরামর্শও নেবেন। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই কৌশল প্রস্তুত করতে চায় কেন্দ্র।

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!