পার্লার বন্ধ তো কী হয়েছে, লকডাউনে ত্বকের যত্ন নিন বাড়িতেই

পার্লার বন্ধ তো কী হয়েছে, লকডাউনে ত্বকের যত্ন নিন বাড়িতেই

লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং – এমন নানা ভারী ভারী শব্দ আমরা গত কয়েক সপ্তাহে শিখে ফেলেছি, আর পুরো ক্রেডিটই কিন্তু ওই ছোট্ট একটা জীবাণু, যাকে খালি চোখে দেখাও যায় না, সেই করোনা ভাইরাসের! না, প্লিজ ভাববেন না যে খুব সিরিয়াসলি কথাটা বলছি। আসলে অন্য সবার মতো, বাড়িতে থাকতে থাকতে সারাদিন করোনা ভাইরাসের আপডেট শুনতে শুনতে দমবন্ধ হয়ে আসছে, তাই একটু মজা করলাম আর কি! যাই হোক, লকডাউনের কারণে বাড়ির সব সদস্যদেরই বাড়ির কিছু না কিছু কাজ হয়তো করতে হচ্ছে, তবে যেহেতু আমাদের একটা ধারণা আছে যে সাংসারিক কাজকর্ম মহিলারাই বেশি ভাল পারেন, কাজেই বাড়ির মহিলাদের উপরে কাজের চাপটা বেশ বেশি। বাসন মাজা থেকে শুরু করে, ঘর মোছা, কাপড় কাচা, রান্না করা – সবটাই সামালতে হচ্ছে একা হাতে। ফলে, হাত-পা ও চোখ-মুখের যে কী দশা হয়ে চলেছে তা আপনি জানেন। কিন্তু অন্য সময় হলে না হয় পার্লারে গিয়ে পেডিকিওর-ম্যানিকিওর আর ফেসিয়াল করিয়ে আসা যেত, কিন্তু লকডাউনের কারণে এখন আপনি তাও করতে পারবেন না। চিন্তা নেই, বাড়িতেই আপনি অনায়াসে পেডিকিওর (pedicure), ম্যানিকিওর (manicure) ও ফেসিয়াল (facial) করে ফেলতে পারেন।

বাড়িতেই কীভাবে পেডিকিওর ও ম্যানিকিওর করবেন

বাড়িতেই করে নিতে পারেন পেডিকিওর (ছবি - শাটারস্টকের সৌজন্যে)

যদি আপনার বাড়িতে পেডিকিওর ও ম্যানিকিওর কিট না থাকে সেক্ষেত্রে মাত্র কয়েকটি উপকরণের সাহায্যেই আপনি অনায়াসে নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পারেন।

যা যা প্রয়োজন

  • গরম জল
  • গামলা
  • ফুট স্ক্রাবার
  • গা ঘষার জালি
  • ইয়ার বাড
  • নেল কাটার ও ফাইলার
  • শ্যাম্পু
  • বডি লোশন

কীভাবে করবেন

প্রথমেই হাত ও পায়ের নখ থেকে নেলপলিশ তুলে ফেলুন। গামলায় করে গরম জল নিয়ে কিছুক্ষন হাত ও পা ডুবিয়ে বসুন। এতে মরা কোষ নরম হবে এবং ঘষে তুলতে সুবিধে হবে। এবারে গা ঘষার জালিতে কিছুটা শ্যাম্পু লাগিয়ে বেশ ভাল করে হাতে ও পায়ে (বিশেষ করে নখের চারপাশে) ঘষে নিন। এবারে ইয়ার বাডের সাহায্যে নখের কিউটিক্যালস পিছনের দিকে ঠেলুন এবং অতিরিক্ত ময়লা পরিষ্কার করে নিন। ফুট ও হ্যান্ড স্ক্রাবার দিয়ে ত্বকের উপরে জমে থাকা মরা কোষ ঘষে তুলে ফেলুন এবং হাত ও পা ধুয়ে নিন। নখ কেটে ফাইল করে নিতে পারেন যদি দরকার হয়। পেডিকিওর ও ম্যানিকিওর হয়ে গেলে হাতে-পায়ে বডি লোশন লাগিয়ে নিন। 

জেনে নিন কীভাবে বাড়িতেই ফেসিয়াল করবেন

বাড়িতেই করে নিতে পারেন ফেসিয়াল (ছবি - শাটারস্টকের সৌজন্যে)

ত্বকের, বিশেষ করে মুখের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি কারণ আমাদের মুখের ত্বক শরীরের বাকি অংশের ত্বকের থেকে অনেক বেশি নরম ও সংবেদনশীল হয়। কাজেই, মাসে অন্তত একবার করে ফেসিয়াল করা খুব প্রয়োজন। ত্বকের উপরিভাগ থেকে মরা কোষ দূর করা, গভীরভাবে ত্বকে আর্দ্রতা জোগানো, ত্বক পরিষ্কার করা – এগুলো সবই হয় ফেসিয়ালের মাধ্যমে। তবে ফেসিয়াল করার একটি বড় অঙ্গ হল মাসাজ। মাসাজের ফলে আমাদের শরীরে, বিশেষ করে মুখের মাংসপেশি ও শিরায় রক্তচলাচল ভালভাবে হয় এবং ত্বক ভিতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তবে ফেসিয়াল করার আগে একটি বিষয় মাথায় রাখবেন। আমাদের এক একজনের ত্বক এক এক রকমের হয়; এবং ভিন্ন ত্বকের জন্য প্রোডাক্টও আলাদা আলাদা হয়। কাজেই নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল করা কিন্তু খুব জরুরি। তবে যেহেতু এই মুহূর্তে লকডাউন চলছে এবং আপনি বাইরে গিয়ে ফেসিয়াল কিট কিনে আনতে পারবেন না, কাজেই আমরা বলে দিচ্ছি ঘরোয়া কিছু উপকরণ দিয়েই কীভাবে আপনি ফেসিয়াল করতে পারবেন

যা যা প্রয়োজন

  • দুই টেবিল চামচ দুধ
  • তুলো
  • স্ক্রাব
  • আপনার রোজকার মাখার ফেস ক্রিম
  • এক টেবিল চামচ মধু

কীভাবে করবেন

ফেসিয়াল করার প্রথম ধাপ হল ক্লেনজিং। মুখের উপরিভাগে থাকা ময়লা পরিষ্কার না করে যদি আপনি বাকি ধাপগুলো ফলো করেন তাহলে ত্বকের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বেশি। দুধে তুলো চুবিয়ে নিয়ে তা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এবারে প্রয়োজন ত্বকের উপরিভাগের মরাকোষ দূর করা। তার জন্য আপনাকে স্ক্রাব করতে হবে। জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ভাল করে স্ক্রাব করুন। বিশেষ করে নাকের পাশে, চিবুকে এবং কপালে স্ক্রাবিং খুব দরকার কারণ এখানে ব্ল্যাকহেডস বেশি থাকে। স্ক্রাব করা হয়ে গেলে মুখ ধুয়ে নরম একটি তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ফেস ক্রিম লাগান। প্রতিদিন যে ক্রিমটি ব্যবহার করেন, আপাতত তা দিয়েই মাসাজ করুন। মিনিট ২০ মাসাজ করে মুখ ধুয়ে নিন। এবারে ফেসপ্যাক লাগাতে হবে। ফেসপ্যাক হিসেবে মধু ব্যবহার করতে পারেন কারণ সব ধরনের ত্বকেই মধু ব্যবহার করা যায়। সামান্য জলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে একটা পেস্ট তৈরি করে নিন এবং মুখে ও গলায় লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে মুখ ধুয়ে নিন। মনে রাখবেন যেদিন ফেসিয়াল করবেন সেদিন মুখে কোনও রাসায়নিক ক্রিম বা কসমেটিকস ব্যবহার না করাই ভাল।

POPxo এখন চারটে ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!