পাত্র খুঁজতে ঘটকই ভরসা, নাকি অনলাইনই সেরা চয়েস? সিদ্ধান্ত নিন এই টিপসগুলি মেনে!

পাত্র খুঁজতে ঘটকই ভরসা, নাকি অনলাইনই সেরা চয়েস? সিদ্ধান্ত নিন এই টিপসগুলি মেনে!

মিলেনিয়ালরা তো জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, সবই অনলাইনে সেরে থাকেন। তাই তাঁদের কাছে মনের মতো জীবনসঙ্গী খোঁজার সেরা ঠিকানা যে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট, তাতে কোনও সন্দেহ নেই! কিন্তু প্রশ্ন হল, যে ভাবে এতদিন পাত্রীর বাবা-মায়েরা পাত্রের খোঁজ পেয়ে আসছিলেন, তা কী মোটেই আর ভরসাযোগ্য নয়? তাহলে কি ঘটকদের দিন শেষ হল বলে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে দু'দিকই বিচার করে দেখা উচিত, তবেই না আসল ছবিটা সামনে আসবে।

আত্মীয় স্বজনদের মাধ্যমে খোঁজ পাওয়া পাত্রের উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা না গেলেও ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা যে কিছুটা হলেও কম থাকে,তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। প্রথমত, পাত্রের পরিবারের সঙ্গে আগে থাকতেই চেনাশোনা থাকার কারণে পাত্রের চরিত্র এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে জানতে যেমন কোনও সমস্যা হয় না, তেমনই পাত্রের মানসিকতার সঙ্গে আপনার মিল রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও অল্পবিস্তর ধারণা করে নেওয়ার সুযোগ থাকে। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া তো রয়েছেই। পাত্রের নাম জানার পরে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে গিয়ে একটু খোঁজখবর চালালেও অনেক কিছু জেনে ফেলা যায়। তাহলে কি ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট উপর ভরসা না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ? না না, সে কথা নয়! তথাকথিত সম্বন্ধ করে বিয়ে করতে কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনলাইনে বিকল্প অনেক। একটা ক্লিকেই আপনি হাজার হাজার সুযোগ্য পাত্রের সন্ধান পেয়ে যাবেন। আর বিকল্প যেহেতু অনেক, তাই তার মধ্যে থেকে মনের মতো জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার সম্ভবনাও যে বেশি, তাতে কোনও সন্দেহ নেই! তবে আরও কতগুলি বিষয় একটু তলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। যেমন ধরুন...

একটু খোঁজখবর না নিলেই বিপদ

pixabay

কোনও মানুষই নিজের খারাপ দিকটা কাউকে দেখাতে চায় না। তাই স্বাভাবিকভাবেই ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে কারও প্রোফাইলেই তিনি ড্রিঙ্ক বা স্মোক করেন কিনা, তা নিয়ে কিছুই লেখা থাকে না। বরং এমন টোনে প্রোফাইল তৈরি করা হয়, যা পড়ে মনে হতেই পারে যে সবাই সাধুসন্ত। তাই ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে কাউকে পছন্দ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে এগোনো উচিত নয়। বরং একটু তলিয়ে দেখে নেওয়া উচিত প্রোফাইলটা ফেক কিনা। এরপরে ছেলের সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেনে বুঝে নেওয়ার পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন, তাতে ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা কমবে। আচ্ছা, তথাকথিত রীতি মেন সম্বন্ধ করলে কি এমন ঝুঁকি থাকে না বলছেন? থাকে ঠিকই, কিন্তু কম। খেয়াল করে দেখবেন সম্বন্ধ আসে মূলত চেনাশোনার মধ্যে থেকে। তাই তো ছেলের দোষ-গুণ সম্পর্কে জানতে খুব একটা ঘাম ঝরানোর প্রয়োজন পড়ে না। তাতে করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কাও কমে।

অনলাইনে স্বাধীনতা অনেক বেশি

pixabay

ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটে একসঙ্গে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ থাকে। তাতে মনের মতো জীবনসঙ্গী পাওয়ার সম্ভবনা যে বাড়ে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ঘটকের উপর ভরসা রাখলে আজ একজনের সন্ধান পাবেন, তো কয়েক মাস পরে আরও একজনের। আর তাঁরা যে আপনার মনের মতো হবেনই, সে নিশ্চয়তা কোথায়! তাই কম সময়ে যদি সুযোগ্য জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে চান, তাহলে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটের উপর ভরসা রাখলেই কাজের কাজটা হবে।

আরও পড়ুন: Matrimonial Website-এ থাকে ভুরি-ভুরি নকল প্রোফাইল! সেগুলির হদিস পান এই টিপসগুলি মেনে

উপসংহার

pixabay

অনলাইনে পাত্র-পাত্রী খুঁজলে সময় যেমন বাঁচে, তেমনই একটা ক্লিকেই মনের মতো অনেকের খোঁজ মেলে। কিন্তু একথাও ঠিক যে ম্যাট্রিমনিয়াল সাইটগুলিতে আজকাল ফেক প্রোফাইলের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, তাতে একটু সাবধান না হলেই ফাঁদে পড়বেন! এদিকে ঘটকের উপর ভরসা রাখলে আর এক বিপদ! এতে খুব সময় নষ্ট হয়। ফলে চটজলদি বিয়ে সেরে ফেলার ইচ্ছা থাকলে 'সে গুড়ে বালি'! তবে একথাও অস্বীকার করলে চলবে না যে যোগ্য পাত্র খোঁজার দায়িত্ব যদি চেনাশোনা মানুষদের উপর ছেড়ে দেন, তাহলে ঠকে যাওয়ার আশঙ্কা কিছুটা হলেও কম থাকে। তাই বুঝতেই পারছেন, অনলাইল এবং ট্রাডিশনাল (traditional matchmaking), দুটি ক্ষেত্রেই বেশ কিছু সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনই খারাপ দিকটাও উপেক্ষা করার মতো নয়। তাই সব বুঝেশুনে পা ফেলুন। অনলাইনে প্রোফাইল আপডেট করুন না, তাতে কোনও অসুবিধা নেই। সেই সঙ্গে আত্মীয় স্বজনদের কানেও সম্বন্ধের কথাটা একটু দিয়ে রাখতে ক্ষতি কী বলুন!

POPxo এখন ৬টা ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!