কোঁকড়া চুল নিয়ে জর্জরিত? ট্রাই করুন এই ঘরোয়া টোটকাগুলি

কোঁকড়া চুল নিয়ে জর্জরিত? ট্রাই করুন এই ঘরোয়া টোটকাগুলি

আজ আপনাদের সঙ্গে একটা সিক্রেট শেয়ার করব। আমার চুল বরাবরই স্ট্রেট, কিন্তু সেই স্কুলবেলা থেকেই কোঁকড়া চুলের (curly hair) প্রতি আমার এক অদম্য আকর্ষণ! আমার বন্ধু ছিল অমৃতা, ওর চুল ছিল প্রচন্ড কোঁকড়া; আর স্কুলে যেহেতু আমরা পাশাপাশি বসতাম, সারাক্ষনই ওর চুলের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। এমনকি, বাড়িতেও শুকনো চুলে অল্প জল স্প্রে করে সরু সরু বিনুনি পাকিয়ে রাখতাম যাতে আমার চুলও কোঁকড়া হয়। বালিকাবেলার কীর্তিকলাপ আর কী!

কোঁকড়া চুল (curly hair) দেখতে দারুন লাগলেও এ ধরনের চুল সামলে রাখা সত্যিই বড্ড ঝক্কির কাজ। শ্যাম্পু (shampoo) করার পরেই চুল ফুলে বেলুনের মত হয়ে যায়। তাছাড়া, কোঁকড়া চুলের জট ছাড়ানো তো আরেকটা বড় এবং বেশ পরিশ্রমের কাজ। অনেক সময় এমনও হয় যে জট তো ছাড়েই না, উল্টে চিরুনি ভেঙে যায়। আসলে অতিরিক্ত রুক্ষতা থেকে চুল কুঁকড়ে যায়। তবে, কী কী করলে আপনি খুব সহজেই কোঁকড়া চুল সামলাতে পারবেন, সে কথাই আজ বলব।

কোঁকড়া চুলের যত্নে এই ঘরোয়া টোটকাগুলি ট্রাই করুন

একঢাল লম্বা কোঁকড়া চুল দেখতে দারুন লাগে

কোঁকড়া চুল (curly hair) স্ট্রেট হবে না হয়ত, কিন্তু যথেষ্ট ম্যানেজেবল হবে এই ঘরোয়া টোটকাগুলির (home remedies) সাহায্যে। বেশিরভাগ উপকরণই আমাদের বাড়িতে মজুত থাকে, আর যদি কিছু না থাকে, ঝটপট অনলাইনে অর্ডার করে ফেলুন।

অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার

সমপরিমাণে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার এবং জল মিশিয়ে নিন। ভাল করে মাইল্ড কোনও শ্যাম্পু বা হেয়ার ক্লেনজার দিয়ে চুল ধুয়ে নিন এবং শেষে জল মেশানো অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার চুলে ঢালুন। মিনিট দুই-তিন রেখে আর একবার ঠাণ্ডা জলে চুল ধুয়ে নিন। মাসে একবার এই ঘরোয়া টোটকা ট্রাই করলেই যথেষ্ট।

বিয়ার

বিয়ারের বদলে বিয়ার শ্যাম্পুও ব্যবহার করতে পারেন কোঁকড়া চুল সামলাতে (ছবি - অ্যামাজন)

না, বিয়ার খেলে কোঁকড়া চুল মোলায়েম হবে না, বরং ভুড়ি বাড়বে; তার চেয়ে বরং বিয়ার দিয়ে চুল ধুতে পারেন। বিয়ারে মল্ট এবং হপস রয়েছে, যা চুলে পুষ্টি যোগায় এবং ড্যামেজ হয়ে যাওয়া চুলও মেরামত করে। এছাড়াও বিয়ারে রয়েছে নানা ভিটামিন, যা চুলের ভল্যুম বাড়াতে এবং চুল উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে। শ্যাম্পু করার পর এক মগ বিয়ার ধীরে ধীরে মাথায় ঢালুন। খেয়াল রাখবেন সব চুলে যেন বিয়ার লাগে। পাঁচ মিনিট পর ঠান্ডা জলে চুল ধুয়ে ফেলুন।

ডিম

ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, আর আমরা সবাই জানি প্রোটিন চুলের জন্য অত্যন্ত কার্যকর। চুলে পুষ্টি জুগিয়ে গোড়া থেকে চুল মজবত করে এবং চুল মোলায়েমও করে তুলতে সাহায্য করে যেকোনও ধরনের প্রোটিন। একটি ডিম, এক টেবিল চামচ মেয়নিজ এবং দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ভাল করে ফেটিয়ে নিন। এবারে ওই মিশ্রণটি ভাল করে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে ঘন্টাখানেক রেখে দিন। পরে ঠান্ডা জলে চুল ধুয়ে নিন। সেদিন শ্যাম্পু করবেন না। সপ্তাহে একবার এই ঘরোয়া টোটকা মেনে চলুন, দেখবেন খুব সহজেই কোঁকড়া চুল সামলাতে পারছেন।

মূল ছবি সৌজন্য - ইনস্টাগ্রাম

POPxo এখন চারটে  ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!