আপনি কি সুখে থাকতে ভয় পান? হতে পারে আপনি হ্যাপিনেস অ্যাংজাইটির শিকার!

আপনি কি সুখে থাকতে ভয় পান? হতে পারে আপনি হ্যাপিনেস অ্যাংজাইটির শিকার!

অন্যান্য দিন যেভাবে প্রতিবেদন লেখা শুরু করি, আজ একটু অন্যরকমভাবে করছি। তার কারণ আছে। তবে তার আগে, আপনাদের থেকে একটা বিষয় জানতে চাই, আপনারা কেমন আছেন! আসলে কী জানেন তো, আজকাল সবাই আমরা নিজেদের জীবনে এত বেশি ব্যস্ত (happiness anxiety symptoms and solutions) যে অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করতেই ভুলে যাই যে তাঁরা কেমন আছেন। একে দৈনন্দিন নানা চাপ, আর এখন তো করোনা পরিস্থিতিতে জীবনের চাপ আরও বেড়ে গিয়েছে। 

যাই হোক, আপনি একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন তো - করোনা ভাইরাস পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়েছে, পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়েছে আর আপনি দারুণ একটা রিসর্টে বেড়াতে গিয়েছেন! সামনে সমুদ্রের নীল জল আর ঢেউয়ের শব্দ, আপনার হাতে আপনার পছন্দের ঠান্ডা জুসের গ্লাস, আপনি এক চুমুক জুস খেলেন। আহ! কী শান্তি! শেষ পর্যন্ত আপনি বহুদিন পর বেড়াতে গেলেন!

কিন্তু, হঠাৎ আপনার মনে পড়ে গেল যে এই ছুটি তো ফুরিয়ে আসবে, তারপর আবার সেই দৈনন্দিন জীবনের ঝঞ্ঝাটে জড়াতে হবে। আবার অফিসে একগাদা কাজের বোঝা, বসের খিটখিট, সহকর্মীদের পলিটিক্স, বাচ্চার স্কুলের পড়াশোনা করানো, বাড়িতে কাজের দিদি না এলে বাড়ির কাজও করা, শাশুড়ির গোমরা মুখ – উফ! আর ভাবা যাচ্ছে না! এসব ভেবে তো ঘোরার আনন্দই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এবার আপনার হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে, শ্বাস নিতে অসুবিধে হচ্ছে, একটা অদ্ভুত অ্যাংজাইটি কাজ করছে!

এবার আমাকে একটা কথা বলুন, এরকম কি কখনও আপনার সঙ্গে ঘটেছে? যদি ঘটে থাকে, তাহলে জেনে রাখুন আপনি Cherophobia-র শিকার, যা হ্যাপিনেস অ্যাংজাইটি (happiness anxiety symptoms and solutions) নামেই বেশি পরিচিত।

Cherophobia বা হ্যাপিনেস অ্যাংজাইটি কী

হেলথলাইন ম্যাগাজিনের বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, হ্যাপিনেস অ্যাংজাইটি (happiness anxiety symptoms and solutions) হল এমন এক মানসিক পরিস্থিতি যেখানে যিনি এই সমস্যার শিকার, তিনি যে-কোনও আনন্দদায়ক পরিস্থিতি এড়িয়ে যান। অথবা বলা ভাল, যে-কোনও আনন্দদায়ক পরিস্থিতি বা সুখের কথা ভাবতে চান না। নানা অজানা ভয়ের বশবর্তী হয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন এবং তাঁর মনে সব সময়েই একটি দ্বন্দ চলতে থাকে। এমনকি ছোট ছোট সুখের মুহূর্তও তিনি উপভোগ করতে পারেন না, বা করতে ভয় পান।

আপনি যদি একটু মনে করার চেষ্টা করেন তাহলেই বুঝতে পারবেন, যে আপনি হয়ত নিজেও অনেক সময়ে আপনার জীবনে ঘটা কোনও ভাল খবর বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করতে চেয়েছেন, কিন্তু করেননি, এই ভয়ে যে যদি কারও ‘নজর’ লেগে যায়! অনেকের মধ্যেই একটা প্রবণতা দেখা যায় যে তাঁরা তাঁদের চাকরি ক্ষেত্রে প্রমোশন হলে অথবা নতুন সম্পর্কে জড়ালে অথবা প্রেগন্যান্সির খবরও কারও সঙ্গে শেয়ার করেন না। শুধুমাত্র এই ভয়ে যে যদি কেউ জানতে পারে তাহলে সেই ‘ভাল বিষয়টি’ তাঁদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী হবে না। এটাই Cherophobia বা হ্যাপিনেস অ্যাংজাইটি (happiness anxiety symptoms and solutions)।

কীভাবে কাটিয়ে উঠবেন হ্যাপিনেস অ্যাংজাইটি

১। একটি কথা সব সময়ে মনে রাখুন, ‘বর্তমানে বাঁচুন, কারণ অতীত আমরা ফেলে এসেছি আর ভবিষ্যৎ জানি না’। হতে পারে অতীতের কোনও খারাপ অভিজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে হয়ত আপনার মধ্যে কোনও ভাল পরিস্থিতিতে আনন্দ পাওয়ার ইচ্ছে চলে গিয়েছে, কিন্তু এভাবে তো বাঁচা সম্ভব নয়! নিজেকে সব সময়ে বলুন, আজ আপনার সুখের সময়ের জন্য আপনি দায়ী। আপনার ভাল কাজের ফলস্বরূপ আপনি সুখে রয়েছেন এবং এই সময়টা আপনি ডিসার্ভ করেন।

২। সম্ভব হলে প্রতিদিন অন্তত পনের মিনিট হলেও মেডিটেশন করুন। যখন মেডিটেশন করবেন, তখন অন্য কিছু চিন্তা করবেন না। মস্তিষ্ক ও মন যেন একদম খালি থাকে। ডিপ ব্রিডিং টেকনিক ফলো করতে পারেন। এর অর্থ হল নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ার অভ্যাস। এতে মন অনেকটা শান্ত হয় এবং ধীরে ধীরে হ্যাপিনেস অ্যাংজাইটি (happiness anxiety symptoms and solutions) থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।

৩। সমস্যা খুব বেড়ে গেলে অবশ্যই কোনও বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

POPxo এখন চারটে  ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!