স্ট্যামিনা বাড়াতে ঠিক কী কী করতে হবে, জেনে নিন

স্ট্যামিনা বাড়াতে ঠিক কী কী করতে হবে, জেনে নিন

আচ্ছা, আপনি কি অল্প পরিশ্রম করেই হাঁপিয়ে যান? সারা দিন খুব ক্লান্ত লাগে? মনে হয় একটু শুয়ে নিই তারপরে বাকি কাজ সারব! এরকম যদি হয়, তাহলে কিন্তু আপনার স্ট্যামিনার অভাব হচ্ছে। হ্যাঁ, এই কথাটা আমরা অনেকেই শুনেছি বা বলেছি। কিন্তু স্ট্যামিনা বাড়াবেন কিভাবে (how to increase stamina), আর স্ট্যামিনা ব্যাপারটাই বা আদতে কী – তা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

স্ট্যামিনা কী

এক কথায় বলতে গেলে, যে-কোনও কাজ অনেকক্ষণ ধরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে করতে পারার নামই হল স্ট্যামিনা। সহজভাবে বলতে গেলে, যদি বেশ অনেকক্ষণ পরিশ্রমের পরেও ক্লান্তিবোধ না হয়, শরীর সচল থাকে এবং মস্তিষ্কও – তাহলে বলা যেতে পারে আপনার শরীরে স্ট্যামিনার কোনও অভাব নেই।

শরীরের স্ট্যামিনা কিভাবে বাড়াবেন

১। প্রথমেই আপনার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা বেশিরভাগ সময়েই স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খাই না। আপনারও যদি বাইরের তেলেভাজা, ফাস্ট ফুড, প্রসেসড ফুড বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যেস থাকে, অবিলম্বে তা ত্যাগ করতে হবে। প্রতিদিনের ডায়েটে প্রোটিন, আয়রন ও ক্যালশিয়ামযুক্ত খাবার রাখুন। ব্রোকলি, পালং শাক, ছোট মাছ, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি খান, এতে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন রয়েছে। আমলকি, ডাল, ব্রাউন রাইস, পনির, কলা ইত্যাদিও নিয়মিত খান। এতেও শরীরে শক্তি বাড়বে ও সঙ্গে স্ট্যামিনাও (how to increase stamina)।

জল শরীরের টক্সিন ফ্লাশ আউট করতে সাহায্য করে, ফলে ক্লান্তি কম আসে (ছবি - শাটারস্টক)

২। আপনি কি সারাদিনে যথেষ্ট পরিমানে জল পান করেন? সারা দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার জল অবশ্যই পান করতে হবে। জল হল ন্যাচারাল টক্সিন রিমুভার। আমাদের শরীরে যত টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ রয়েছে, তা না বেরলে মুশকিল। ধীরে ধীরে শরীরে টক্সিন জমে নানা অসুখ-বিসুখ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিমান মত জল খেলে এই ভয়টা আর থাকে না। ফলে শরীর অনেক হাল্কা লাগে এবং স্ট্যামিনাও বাড়ে। জলের বদলে আপনি মাঝে মধ্যে চা অথবা ফলের রসও খেতে পারেন। তবে চা খেলে লিকার চা খাওয়াই ভাল।

৩। স্ট্যামিনা বাড়াতে (how to increase stamina) কিছু কিছু অভ্যেস বদলে ফেলা অত্যান্ত জরুরি। আপনার যদি মদ্যপান বা ধূমপানের অভ্যেস থাকে, তাহলে তা ত্যাগ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা অনেক বছর ধরে নিয়মিত ধূমপান করেন, তাঁদের স্ট্যামিনা প্রায় থাকে না বললেই চলে। ফুসফুসের প্রবল ক্ষতি হয় এবং শরীরে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। ফলে সারাক্ষণ একটা ক্লান্তি বোধ হয়।

স্ট্যামিনা বাড়াতে ওজন কমানো খুব জরুরি (ছবি - শাটারস্টক)

৪। নিয়মিত ওজন চেক করুন। অনেকসময়েই কিন্তু শরীরের বাড়তি ওজন আমাদের নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ফেলতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়েবেটিস, হার্টের অসুখ, মানসিক অবসাদ, স্ট্রেস – ইত্যাদি নানা সমস্যা হতে পারে যদি ওজন বাড়তির দিকে থাকে। নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন। স্ট্রেন্থ বিল্ডিং এবং মোবিলিটি এক্সারসাইজ করুন, দেখুন ধীরে ধীরে স্ট্যামিনা বাড়বে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষকের তত্বাবধানে ব্যায়াম করুন।

৫। শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মনের খেয়াল রাখাও কিন্তু একান্ত জরুরি। যদিও দুঃখের বিষয় হল, বেশিরভাগ মানুষই মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদাসিন। আপনি যখনই সময় পাবেন, মেডিটেশন করুন। অনলাইনে নানা মেডিটেশন অ্যাপ রয়েছে যেখানে আপনি গাইডেড মেডিটেশন করতে পারেন। যদি পয়সা খরচ না করতে চান, সেক্ষেত্রে ইন্টারনেটে অনেক ফ্রি মেডিটেশন সেশন পাওয়া যায়। সেগুলো ট্রাই করতে পারেন। দেখবেন ক্লান্তি অনেক কমে গিয়েছে।

৬। খাওয়া-দাওয়া, ব্যায়াম, মেডিটেশন ইত্যাদির সঙ্গে কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমানে বিশ্রামও প্রয়োজন। আপনি যদি কর্মরতা হন, সেক্ষেত্রে কাজ থেকে মাঝে মাঝে একটু ব্রেক নিন। একটানা কাজ করতে করতে অনেক সময়েই আমাদের ক্লান্তি বোধ হয়। কম্পিউটার বা মোবাইলের নীল আলো আমাদের চোখের জন্য ভাল নয়। আবার একটানা চেয়ারে বসে কাজ করতে করতে পিঠ ও কোমরেও ব্যথা হয়। কাজেই ব্রেক নেওয়াটা জরুরি। রাতে শোওয়ার আগে মোবাইল বা টিভি দেখার অভ্যেস থাকলে তা ত্যাগ করুন। আপনি গৃহবধূ হলেও কিন্তু নিজের জন্য কিছুটা হলেও সময় বার করতেই হবে যদি স্ট্যামিনা বাড়াতে চান  (how to increase stamina)।

মূল ছবি সৌজন্য - পেক্সেলস ডট কম

POPxo এখন চারটে  ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!