ছোট্ট ছোট্ট কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই অনায়াসে বাঁচাতে পারেন রান্নার গ্যাস

ছোট্ট কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই অনায়াসে বাঁচাতে পারেন রান্নার গ্যাস in bengali

আচ্ছা ভাবুন তো, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন যে বাড়িতে গ্যাস শেষ আর সঙ্গে সঙ্গে খবরও পেলেন যে সরকার রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি বন্ধ করে (how to save cooking gas) দিচ্ছে! মাথায় বাজ পড়বে তো? আসলে আমরা প্রকৃতি থেকে নিজেদের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ে ফেলেছি এবং প্রকৃতির ভান্ডার অপরিসীম নয়। কাজেই, এখনও পর্যন্ত রান্নার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তবে কতদিন পর্যন্ত পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তবে, এই সমস্যা থেকে আপনি কিছুটা হলেও মুক্ত হতে পারেন, যদি এখন থেকেই গ্যাস বাঁচানোর অভ্যেসটা করে ফেলেন।

রান্নার গ্যাস বাঁচানোর সহজ দশটি উপায়

১। গ্যাসের বার্নার, পাইপ, নব, রেগুলেটর নিয়মিত লিকের জন্য পরীক্ষা করাবেন। হয়তো আপনি জানেনও না, কোনও একটি ছোট্ট লিক দিয়ে অল্প-অল্প করে গ্যাস বেরিয়ে যাচ্ছে, যা অলক্ষেই আপনার গ্যাসের খরচ (how to save cooking gas) বাড়িয়ে দিচ্ছে। তা ছাড়া নিরাপত্তাজনিত কারণেও এটি করা জরুরি।

২। রান্নার জন্য কড়াই, ডেকচি, সসপ্যান যা-ই গ্যাসের উপর বসান না কেন, তা যেন শুকনো হয়। আমাদের অনেকেরই অভ্যেস আছে কড়াইয়ে একবার রান্না করে সেটি জল-ধোওয়া করে নিয়ে আবার অন্য একটি রান্নার জন্য বসানোর। এক্ষেত্রে গ্যাসে কড়াই শুকোবেন না। তাতে ফালতু গ্যাসের খরচ বাড়বে। পাত্রটি শুকিয়ে নিয়ে কিংবা মুছে নিয়ে তবেই সেটি গ্যাসে চাপান।

৩। অতিরিক্ত সময় ধরে ফুটতে দেবেন না, তাতে খাবারের স্বাদ তো বাড়বেই না, উল্টে গ্যাস পুড়বে (how to save cooking gas) অহেতুক।

৪। রান্না করার সময় ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। এতে তাপজনিত বাষ্প ভিতরেই জমা হয়ে তাড়াতাড়ি সেদ্ধ করে। ফলে গ্যাসের খরচ কর হয়।

৫।  রান্না শুরুর আগে প্রয়োজনমতো জল একবারে ফুটিয়ে নিয়ে তা একটি ফ্লাস্কে ভরে রেখে দিন। এর পর ডাল, ঝোল কিংবা তরকারিতে জল দেওয়ার সময় ওই জলই ব্যবহার করুন। যেহেতু ওটি ফ্লাস্কে রাখা ছিল, ফলে তা গরমই আছে। গরম রান্নায় ঠান্ডা জল ঢেলে রান্নার তাপমাত্রা নামিয়ে আবার বেশি সময় ও গ্যাস খরচ (how to save cooking gas) করে সেটিকে ফোটানোর কোনও মানে হয় না।

৬। গ্যাস সিম করে রান্না করলেই আসলে গ্যাসের খরচ সবচেয়ে বেশি কম হয়। এটা মাথায় রাখবেন সব সময়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে নাকি ১৫ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস বাঁচে।

৭। শুধুমাত্র স্টু তৈরির সময় নয়। কিংবা বাচ্চার খাবার তৈরির সময়ও নয়। রোজকার রান্নাবান্নাতেও প্রেশার কুকার ব্যবহার করুন যতটা বেশি করে পারেন। দরকার হলে ইউ টিউবে প্রেশার কুকারে রান্না করার পদ্ধতি শিখে নিন।

৮। বার্নার যত নোংরা থাকবে, গ্যাস তত বেশি পুড়বে। তাই দিনপনেরো পরপর বার্নার ভাল করে পরিষ্কার করে নিন।

৯। উপকরণগুলি হাতের কাছে নিয়ে তবেই রান্না শুরু করুন। এটা আমাদের বদভ্যেস। ধরুন, মাছের ঝোল রাঁধবেন। মাছে নুন-হলুদ মেখে ভাজতে বসিয়ে দিলেন, এদিকে আলু কাটা হয়নি। এবার মাছ ভাজা হতেই থাকল...আপনি আলু-টালু কুটে তারপর আবার গ্যাস বাড়িয়ে রান্না শুরু করলেন। এতে গ্যাস যে বেশি খরচ (how to save cooking gas) হল, সে খেয়াল আমরা অনেকেই রাখি না। তাই রান্নার জন্য যা-যা চাই, তা হাতের কাছে নিয়ে তারপর রান্না চাপান।

১০। রান্না হয়ে এলে গ্যাস নিভিয়ে দিন। অবাক হচ্ছেন? হবেন না প্লিজ। আসলে রান্না চলাকালীন খাবারটি এতটাই উত্তাপ ভিতরে স্টোর করে রাখে যে, গ্যাস নিভিয়ে দেওয়ার পরেও সেই তাপ নামতে একটু সময় লাগে। তাই সেই তাপে বাকিটুকু রান্না হয়ে যায়। সেটি শুধু-শুধু গ্যাস জ্বালিয়ে শেষ করার দরকার নেই।

মূল ছবি - পেক্সেলস ডট কম 

POPxo এখন চারটে  ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!