জানেন কি, শাড়ির মেটেরিয়ালের উপরে ভিত্তি করে হয় বেনারসির শ্রেণীবিভাগ?

জানেন কি, শাড়ির মেটেরিয়ালের উপরে ভিত্তি করে হয় বেনারসির শ্রেণীবিভাগ? in bengali

আমরা সাধারণত বেনারসির কাজ বা রং দেখেই মুগ্ধ হয়ে যাই। কিন্তু বেনারসির আসল বিষয়বস্তু হল তার জমি বা বেস। অর্থাৎ কোন জাতীয় কাপড়ের উপর বেনারসি (6 types of banarasi saree based on material) বোনা হয়েছে। এটা অনেকটা সাদা ক্যানভাসের মতো। কিছু ক্যানভাসে যেমন জলরং ভাল লাগে আবার কিছু ক্যানভাসে তেলরঙ, ঠিক তেমনই বেনারসির মেটিরিয়ালের উপর নির্ভর করে শাড়িটি কেমন হবে। বেনারসি আসলে সিল্কের শাড়ি। বেনারসে যখন এই জাতীয় সিল্ক থেকে শাড়ি বোনা হয় তখন তাকে বেনারসি শাড়ি বলা হয়। শাড়ির মেটিরিয়ালের উপর ভিত্তি করে এখানে শ্রেণীবিভাগ করা হয়েছে বেনারসির।

বেস বা মেটেরিয়াল অনুযায়ী কত রকমের বেনারসি হয়

১। স্যাটিন সিল্কের বেসের উপর যদি বেনারসি ডিজাইন করা হয় তাহলে সেটাকেই স্যাটিন বেনারসি (6 types of banarasi saree based on material) বলা হয়। তবে স্যাটিন যদি খাঁটি না হয় তাহলে স্বভাবতই বেনারসির জরির কাজ ভাল করে ফুটে উঠবে না। যেহেতু ফ্যাব্রিক হিসেবে স্যাটিন বেশ ভারী হয় তাই এই জাতীয় বেনারসির ওজন বেশ ভাল হয়।

২। বেনারসির সাম্প্রতিক ডিজাইনের বেশিরভাগ দেখা যায় জর্জেট বেনারসিতে। এটিকে ডিজাইনার শাড়ির পর্যায়ে ফেলা যায়। বিভিন্ন পার্টি এবং অনুষ্ঠানে জর্জেট বেনারসির চাহিদা খুব বেশি।জর্জেট ফ্যাব্রিক খুব হাল্কা হয় এবং এই শাড়ি বুনন পদ্ধতি হয় খুব সহজ। এস এবং জেডের মতো প্যাঁচানো সুতো দিয়ে ওয়ার্প অ্যান্ড ওয়েফট পদ্ধতিতে এই শাড়ি বোনা হয়।

৩। কাতান একটি বিশেষ ধরনের বেনারসি। তবে বেনারসি (6 types of banarasi saree based on material) ছাড়াও অন্যান্য রূপে কাতান শাড়ি বা কাতান সিল্ক পাওয়া যায়।কাতান আসলে এক বিশেষ ধরনের সুতো যা বিভিন্ন রকমের সিল্ক সুতো পেঁচিয়ে তৈরি হয়। মূলত দুটি সিল্কের সুতো পেঁচিয়ে কাতানের সুতো তৈরি হয়। কাতান বেনারসির ফ্যাব্রিক খুব হাল্কা হয়।  

৪। এখন টিস্যু বেনারসি পরার খুব চল হয়েছে। কারণ এই জাতীয় বেনারসি খুব আকর্ষণীয় হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম টিস্যু বেনারসি খুব পছন্দ করে। এই বেনারসি এমনভাবে বোনা হয় যাতে জরির ব্রোকেডের কাজ দেখে মনে হয় সেটা সোনার জরি দিয়ে বোনা হয়েছে। এই শাড়িতে জরি আর সিল্ক দুই মিশিয়ে কাজ হয়। 

৫। অরগ্যাঞ্জা বেনারসি (6 types of banarasi saree based on material) প্রকৃতপক্ষে ব্রোকেডের বেনারসি। এখানে শাড়ির বুনন খুব ঘন হয়। অরগ্যাঞ্জা বেনারসি তৈরি করার সময় ওয়ার্প অ্যান্ড ওয়েফট নামক বিশেষ বুনন পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়। এই বেনারসিকে কোরা বেনারসিও বলা হয়। রূপালি সুতোর উপর সোনালি রং করে নেওয়া হয় তারপর খুব ঘন বুননের মাধ্যমে জরি ব্রোকেড তৈরি হয়।

৬। তসর বেনারসিও কিন্তু খুবই হাই ডিমান্ডে। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এক্ষেত্রে শাড়ির জমি বা বেস হবে তসর। হ্যান্ডলুম বা হাতে তৈরি তসর কিন্তু একটু খসখসে হয়। আর এটাই প্রকৃত তসরের পরিচয়। তাই তসর বেনারসিও একটু খসখসে হবে। এর উপর হাত রাখলে রেশমের মতো অনুভূতি আসবে না।

মূল ছবি সৌজন্য - ইনস্টাগ্রাম

POPxo এখন চারটে  ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!            

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!