স্ত্রী ও প্রাক্তন প্রেমিকার উপর অত্যাচারের অভিযোগ! এবার কি তবে #মিটু দীপাংশুর বিরুদ্ধেও?

 স্ত্রী ও প্রাক্তন প্রেমিকার উপর অত্যাচারের অভিযোগ! এবার কি তবে #মিটু দীপাংশুর বিরুদ্ধেও?

"না না কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন ভালবাসা ছাড়া!" শুনলেই বুকের মধ্যে এক হিমশীতল দুঃখ অনুভব হয়। 'হুডখোলা কবিতা'-র রাজকুমারির গান একসময় বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। তারপর শাহজাহান রেজেন্সি ছবিতে অনির্বাণ ভট্টাচার্যর কণ্ঠে এই গান আবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই গানের স্রষ্টার প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ। তাঁকে কে না চেনেন? দীপাংশু আচার্য্য(writer dipangshu acharya) । একাধারে গীতিকার, কবি, লেখক, কমেডিয়ান আবার তার সঙ্গেই 'বিপ্লবীও' বটে। তার কলমের ধারে সবাই কুপোকাত! এই দীপাংশুকে নিয়েই আবার সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় পরশু রাত থেকেই। 

কিন্তু এইবার তাঁর কোনও সৃষ্টি নিয়ে নয়। প্রাক্তন প্রেমিকা ও স্ত্রী'কে না কি দিনের পর দিন অত্যাচার করেছেন দীপাংশু, অন্তত অভিযোগ এমনই। শুধুই মানসিক অত্যাচার নয়, শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ দীপাংশুর বিরুদ্ধে (dipangshu acharya faces meetoo allegations)। একবার তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকার যোনিতেও লাথি মেরেছিলেন তিনি। দীপাংশুর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তাঁর স্ত্রী, প্রেমিকা, বান্ধবী।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কী জানালেন দীপাংশুর প্রেমিকা শ্রেয়সী?

ছবি - ফেসবুক

২০০৮ সালে দীপাংশুর(writer dipangshu acharya) সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান শ্রেয়সী। প্রথম দিকে সম্পর্ক শুরু না করতে চাইলেও পরবর্তীতে তিনি সম্পর্ক শুরু করেন। এই সম্পর্ক শুরুর সময় প্রথম একমাস সব ঠিক থাকলেও ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয় অত্যাচার। ২০০৯-র জানুয়ারির বইমেলায় সকলের সামনে অপদস্ত করেন শ্রেয়সীকে। এরপর তাঁর সৃষ্টিকে নষ্ট করে বারবার একঘরে করে রাখতে চেয়েছিলেন শ্রেয়সীকে। দীপাংশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ এমনই। এখানেই সব থেমে যায়নি। শ্রেয়সীর বাড়িতে ঢুকেও তিনি শ্রেয়সীকে মারধর করেছেন। এমনকী তাঁর যোনিতেও লাথি মেরেছেন তিনি। শ্রেয়সীর কবিতার খাতায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। বারবার আত্মহত্যার হুমকিও দিতেন দীপাংশু। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর বারবার সম্পর্ক ঠিক করে নেওয়ার অনুরোধ করতেন তিনি। সম্পর্ক ঠিক হওয়ার পরেই আবার শুরু হত অত্যাচার। দিনের পর দিন এমনই চলেছে বলে অভিযোগ দীপাংশুর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ জানাচ্ছেন দীপাংশুর স্ত্রী শ্রীতমাও

ছবি - ফেসবুক

প্রায় তিন বছর হতে চলল দীপাংশু ও তাঁর স্ত্রী আলাদা থাকেন। একাধিক বার ডিভোর্স চাওয়া সত্বেও ডিভোর্স দিতে রাজি হননি দীপাংশু। শর্ত দিয়েছেন, যদি গার্হস্থ্য হিংসার কথা সামনে আনতেই হয়, তবে সেটা আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলতে হবে। দীপাংশুর স্ত্রী জানিয়েছেন, আইনি বিচ্ছেদ চলাকালীন অভিযুক্তের দ্বারা ক্রমাগত হেনস্থার স্বীকার হয়েছেন তিনি। হিংসার কথা নিয়ে প্রশ্ন তোলাতেই "ডিভোর্স দেব না" বলে হুমকি দেখানো হয়েছে। মিউচুয়াল ডিভোর্সের মামলায় অযথা দেরি করে দিনের পর দিন হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

দীপাংশু (writer dipangshu acharya) ও শ্রীতমার আরও এক বান্ধবী চান্দ্রেয়ী দে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ৩টেয় দীপাংশুর স্ত্রী তাঁকে ফোন করে বলেন, দীপাংশু তাঁর চুল কেটে দিয়েছে, প্রচণ্ড মারছে, তিনি কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। চান্দ্রেয়ী গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসেন নিজের বাড়িতে। কিছু ক্ষণের মধ্যে উপস্থিত হন দীপাংশু। বাড়ির দরজা টানাটানি করতে থাকেন। প্রতিবেশীদের সামনেই চিৎকার থেকে কান্নাকাটি করতে থাকেন। টানা পাঁচ ঘণ্টা দরজা না খোলায় শেষে ফিরে যান।

দীপাংশু কী বলছেন?

কী বলছেন দীপাংশু

এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে দীপাংশু (writer dipangshu acharya) একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে এখন কারও কোনও সম্পর্ক নেই। #মিটু-র অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দীপাংশু জানিয়েছেন, হ্যাঁ, মারামারি হয়েছে। কিন্তু সেটা দুই তরফেই। আর শ্রেয়সীর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পরেও তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল। এমনকি তিনি দীপাংশুর দ্বিতীয় বিয়ের তত্ত্বও সাজিয়েছিলেন। দীপাংশু বর্তমান স্ত্রীয়ের কাছে কয়েক বছর আগে ক্ষমাও চেয়েছিলেন একটি পোস্টের মাধ্যমে। তাঁর আর্থিক অনটনের কথাও জানান দীপাংশু। আপাতত কলকাতায় তাঁর থাকার জায়গা নেই।

কিন্তু এই পরিস্থিতি আমাদের কী শিক্ষা দিচ্ছে?

দীপাংশু আচার্য্যর (writer dipangshu acharya) বিরুদ্ধে অভিযোগ কতটা সত্যি, আদৌ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত হতে পারব না। কিন্তু এরকম অনেক সম্পর্কই হয় যেখানে দিনের পর দিন মুখ বুজে পার্টনারের অত্যাচার সহ্য করে চলেন ভিক্টিম। তাঁর পার্টনার যে ভিক্টিমের উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করতে পারেন তা তাঁকে সামনা সামনি দেখলে বুঝতেই পারবেন না। সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বড় কথা লিখলেও দেখা যায় সেই ব্যক্তিই ব্যক্তি জীবনে স্ত্রী ও প্রেমিকার উপর অত্যাচার করেন। শুধুই শারীরিক অত্যাচার নয়, ভার্বাল অ্যাবিউসও কিন্তু এক ধরনের মানসিক অত্যাচারই।

সম্প্রতি টুম্পা গানে ব়্যাপ করেছেন দীপাংশু

আপনার সম্পর্ক কি টক্সিক?

আপনার সম্পর্কও যদি এরকম টক্সিক হয়, তবে চুপ করে থাকবেন না। আজ আপনার উপর অত্যাচার হলে আজই প্রতিবাদ করুন। যদি এই মুহূর্তেই কোনও আইনি পদক্ষেপ না করতে পারেন তবে প্রথমেই টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন। যে মানুষ আজ আপনাকে অত্যাচার করেন, সেই অত্যাচার কোনওদিনও শেষ হয়ে যাবে না। তাঁর অন্যায়কে মেনে নেওয়া মানে নিজের সঙ্গে অন্যায় করা। আপনি কি নিজের সঙ্গে অন্যায় করছেন?

সম্পর্ক, বিশ্বাস আমাদের অনেকরকম কঠোর পদক্ষেপ করা থেকে আটকায়। দীর্ঘ বছর পর মুখ খুললে আমাদের কথা কেউ বিশ্বাস করতে চায় না। তাই আজ অন্যায় মানে আজই প্রতিবাদ। আপনার কণ্ঠই অনেকের কণ্ঠ হয়ে উঠতে পারে।

ছবি সৌজন্য - ফেসবুক, টুম্পা অফিসিয়াল ভিডিয়ো

POPxo এখন চারটে ভাষায়!ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন
#POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন
নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!