নাম রাখা হল 'হিন্দু হোটেল', জমি দিল মুসলিম পরিবার...কলকাতার এইসব পাইস হোটেলে খেয়েছেন?

নাম রাখা হল 'হিন্দু হোটেল', জমি দিল মুসলিম পরিবার...কলকাতার এইসব পাইস হোটেলে খেয়েছেন?

কলকাতায় সস্তায় কোথায় কোথায় খেতে পারেন, সেই সন্ধান অনেকেই করেন। দুপুরে কোথাও ঘুরতে বেরিয়েছেন কিংবা কলেজ স্ট্রিটে বই কিনতে গিয়েছেন, তখনই কোথায় খাওয়া যায় সেই নিয়ে একটা ভাবনা শুরু হয়। কফি হাউজে তো নিশ্চয়ই আর লাঞ্চ করবেন না। তখন বিকল্প খুঁজতেই হবে। কিন্তু ঝাঁ চকচকে রেস্তরাঁর আড়ালে কলকাতার বহু পুরনো কিছু পাইস হোটেল (pice hotels in kolkata) আছে, যাদের খাবারের গুণমান যেমন ভাল তেমনই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যও রয়েছে তাদের। 

কোনও কোনও হোটেল তো আবার ১০০ বছরের বেশি পুরনো। এইদিকে আপনি যদি লাঞ্চে যান, তবে ২০০ থেকে ৩০০টাকার মধ্যেই আপনার লাঞ্চ সেরে ফেলতে পারেন। আজ শহরের বিভিন্ন প্রান্তের সেরকমই কয়েকটি কলকাতার পাইস হোটেলের (pice hotels in kolkata) সন্ধান দেব আপনাকে।

পাইস হোটেল বিষয়টি ঠিক কী?

পাইস হোটেলের বিশেষত্ব হল প্রতিটা জিনিসের জন্যই দাম ধরা হয়। মানে পাতা, জল থেকে শুরু করে পাতের লেবুরও দাম ধরা হয়ে থাকে। মানে, এখানে যতবার খুশি আপনি ভাত, ডাল ইত্যাদি চাইতে পারেন। আপনার যতক্ষণ না পেট ভরছে। কিন্তু সেই প্রতিবারের জন্যই আপনাকে টাকা দিতে হবে। যদিও দাম যে অনেক, সেরকমও নয়। শিবরাম চক্রবর্তীর লেখায় কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বারবার এসেছে পাইস হোটেলের (pice hotels in kolkata) কথা!

আপনার জন্য কয়েকটি পাইস হোটেলের সন্ধান দিলাম আমরা

হোটেল তরুণ নিকেতন

এই তরুণ নিকেতনের যাত্রা শুরু জগৎচন্দ্র দেবের হাত ধরে। তখন সাল ১৯১৫। মানে বুঝতেই পারছেন ঠিক কত বছরের পুরনো এই হোটেল। ১০৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে কিন্তু এই হোটেল ঠায় দাঁড়িয়ে আছে কালীঘাট চত্বরে। আপনি যদি মেট্রো করে আসেন, তবে কালীঘাট মেট্রোয় নেবে গড়িয়াহাটের দিকে হাঁটতে হবে, ১০০ মিটারের মধ্য়েই আপনার ডান হাতে পড়বে এই পাইস হোটেল। পেটচুক্তিতে আপনাকে খেতে হবে। কালীঘাট মন্দিরের কাছাকাছি হওয়ার জন্য অনেক তীর্থযাত্রীরাও এক সময় এই হোটেলে (pice hotels in kolkata) খেতে আসতেন।

 

আবার বড় বড় সাহিত্যিকরাও কিন্তু এই হোটেলে খেতে আসতেন। তাই ঐতিহ্যের মানে এই হোটেল খুবই বিখ্যাত। আর খাবারের মানেও কম যায় না। লকডাউনের পর খাবারের মান সামান্য পড়েছে মনে হল। ভাত ঠান্ডা পরিবেশন করা হল। কিন্তু এর আগে যতবার গিয়েছি, হতাশ হয়ে ফিরিনি। এখানে আমার সবথেকে প্রিয় হল মাছের ডিমের বড়া। আপনিও ট্রাই করতে পারেন। ইলিশ মাছের কাঁটা দিয়ে কচুর লতিও কিন্তু সুপারহিট। আর হ্যাঁ, এখানে অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল...কলাপাতায় খাবার পরিবেশন। তাহলে ঘুরতে ঘুরতে একবার ঘুরে আসতেই পারেন তরুণ নিকেতন। লাঞ্চ কিন্তু জমে যাবে।

স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল

স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল

হোটেলের নামই নাকি স্বাধীন ভারত! ভাবা যায়? কিন্তু এই নামের পিছনে না কি নির্দিষ্ট কারণও রয়েছে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে কলেজ স্ট্রিট চত্বরেই এই পাইস হোটেল। চিংড়ির মালাইকারি থেকে খাসির মাংস, আবার নিরামিষেও একইরকম হিট এদের মেনু। স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেলের নাম যেমন বাংলায় লেখা আছে, লেখা আছে ওড়িয়াতেও। সেই ১৯১০ সালে পথচলা শুরু। ১২০ বছর পার করেও গায়ে একটুও জং ধরেনি এই পাইস হোটেলের (pice hotels in kolkata) । একসময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বন্ধুদের নিয়ে এই হোটেলেই খেতে আসতেন। শতরঞ্চি পেতে বসে পড়তেন গোল হয়ে। তখন তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র।

 

হোটেলের তৎকালীন মালিক মনগোবিন্দ নাম রেখেছিলেন 'হিন্দু হোটেল', জমি দিয়েছিল এক মুসলিম পরিবার। তখন কোনও ভেদাভেদ ছিল না আজও নেই। একসঙ্গে তারা দেশ স্বাধীন করেছেন, আজ এত বছর পরেও বংশ পরম্পরায় সেই কথাতেই বিশ্বাসী তারা। কলেজ স্ট্রিটের ফেভারিট কেবিনের মতোই এই হোটেলও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আখরা হয়ে ওঠে। সেই সব ইতিহাস বুকে নিয়েই এখনও ঠায় একই ভাবে স্বাধীন ভারত হিন্দু হোটেল। যে বছর দেশ স্বাধীন হল সেই বছরই নাম বদলানো হল। হিন্দু হোটেল হয়ে উঠল স্বাধীন ভার হিন্দু হোটেল। কলেজ স্ট্রিটের এই পাইস হোটেলে আসুন একদিন দুপুরের খাবার খেয়ে যান। কলা পাতায় ও মাটির ভাঁড়ে কেমন জমল দুপুরের খাবার, অবশ্য়ই জানাবেন।

আদর্শ হিন্দু হোটেল

না বিভূতিবাবুর 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' নয়, বরং এ এক সত্যিকারের হোটেল। চলে আসুন গড়িয়াহাট চত্বরে। গড়িয়াহাট মার্কেটের দোতলায় এই হোটেল। গড়িয়াহাট মার্কেটের পাশ দিয়ে যে রাস্তাটা বাজারের দিকে চলে যাচ্ছে, তারই বাঁ হাতে দেখতে পাবেন এই হোটেল। 

প্রায় ৬০ বছরের বেশি সময়ের পুরনো এই পাইস হোটেল। কালিপদ মাইতির হোটেল বলেও কিন্তু পরিচিত। এই ব্যবসায়ীরই হোটেল। শাল পাতার থালার উপর কলাপাতা আটকানো। আর মাটির ভাঁড়ে জল। ঝুরঝুরে আলু ভাজা, মাছ, মাংস, মৌরলা মাছের চচ্চড়ি... একটা দুপুর জমিয়ে দিতে আর কী চাই বলুন দেখি?

মূল ছবি - ইনস্টাগ্রাম

POPxo এখন চারটে  ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন
#POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন
নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!