জাকারিয়া স্ট্রিট থেকে টেরিটি বাজার...কলকাতার অলিগলিও যেন ফুড স্ট্রিট!

জাকারিয়া স্ট্রিট থেকে টেরিটি বাজার...কলকাতার অলিগলিও যেন ফুড স্ট্রিট!

কলকাতা থেকে যখন দূরে ছিলাম, তখন অনেক বেশি করে কলকাতাকে অনুভব করেছি। কলকাতার রাস্তা, কলকাতার বৃষ্টি এমনকী প্যাচপ্যাচে গরমটাও মনে পড়ত খুব। কারণ, এই কথা সত্যি যে ভালবাসার থেকে দূরে গেলে ভালবাসাকে বেশি অনুভব করা যায়। আর আমি খেতে বেশ ভালবাসি। মানে কোনও বড় রেস্তরাঁয় বসে যত না খেতে ভালবাসি, তার থেকে অনেক বেশি ভালবাসি স্ট্রিট ফুড। সারা শহর ঘুরে বেশ নতুন নতুন রকম স্ট্রিটফুড খেতে বেশ ভাল লাগে। আজ কলকাতার স্ট্রিট ফুড (kolkata street foods) নিয়ে একটু গল্প করব, সঙ্গে খাওয়া দাওয়া নিয়েও আড্ডা হবে বৈ কী!

টেরিটি বাজার

টেরিটি বাজার হল কলকাতার সবথেকে পুরনো চিনেপাড়া। ১৮ শতকের শেষের দিকে চিনের মানুষ এখানে বাস করতে শুরু করেন। ব্রেকফাস্টের জন্য এই জায়গা কিন্তু একদম আদর্শ। অবশ্য়ই রাস্তার ধারেই বিক্রি হয় খাবার। বিভিন্ন রকম খাবারে মন ভরাতে চাইলে টেরিটি বাজারে আসতেই হবে আপনাকেও। স্টিমড বান, গরম ডাম্পলিং, ওয়ানটন ও মোমো বিক্রি হয় মাত্র ৫০ টাকায় (kolkata street foods)। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দামের রকম ফের হতে পারে যদিও। তবে রবিবার গেলেই বেশি ভাল হয়, এইদিন নানা রকম খাবার আপনি পাবেন। সেরা খাবারও পাবেন রবিবার। তাই ভিড়ও হয় বেশি। ব্রেকফাস্ট যাঁরা বিক্রি করেন, তাঁরা নিজেদের আস্তিনের সেরা তাসটা রেখে দেন রবিবারের জন্য। রবিবারের বিশেষ প্রাতরাশের ঐতিহ্য চলছে কয়েক দশক ধরে। সপ্তাহের এ দিনটাতে খাবারের রকমফের যেমন বেশি, তেমন ভিড়ও বেশি।

জাকারিয়া স্ট্রিট

এখানে আপনি সব সময়ই যেতে পারেন, তবে অবশ্যই সন্ধ্যার দিকে যাবেন। আর সব থেকে বেশি ভাল হয় যদি আপনি রমজানের সময়ে ঘুরে আসতে পারেন জাকারিয়া। সেই সন্ধ্যায় অনায়াসেই নিজেকে উপহার দিতে পারেন একটি ফুড ওয়াক। নানারকম কাবাব সহ অন্যান্য খাবার জাকারিয়া স্ট্রিটের অন্য়তম সম্পদ। এছাড়াও কলুটোলার ইসলামিয়া হোটেলের স্পেশাল হালিমে গুল্লি গুল্লি মাটন কোফতার মিশেল অনেককেই এইখানে টেনে আনে। ফিয়ার্স লেনের দিকের শতাব্দী-প্রাচীন (kolkata street foods)মেঠাইওয়ালা হাজি আলাউদ্দিনের ভাঁড়ারে নানা কিসিমের স্পেশাল খাজলা। খাজলা আদতে কম মিষ্টি খাজা, যা দুধে ডুবিয়ে খেতে হয়। আর তার স্বাদ কিন্তু অমৃত। আর দিলশাদ কবাবির খিরি কাবাব, সুতি কাবাব বা কলুটোলায় চিকেনের পেয়ারে কবাব তো বছরভর মেলে! তাও রমজানের সময় অন্য়ভাবে সেজে ওঠে জাকারিয়া স্ট্রিট। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলেই সময় কাটান। স্বাদের হাতছানিতে ছুটে আসেন শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আর এটাই হয়তো আমার কলকাতার অন্য়তম ঐতিহ্য। কারণ, খাবারের অন্য কোনও ধর্ম হয় না, খাবার নিজেই একটা ধর্ম!

রোল

শুধুই কলকাতার বিশেষ কিছু জায়গা নয়, তার সঙ্গে সারা কলকাতা শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায় এগরোল, চিকেন রোল। স্বাদে, গন্ধে অতুলনীয়। একটা খেলেই পেট ভরে(kolkata street foods) যায়। আর কোন শহর মাত্র ৩০ টাকায় সন্ধ্যায় আপনার মন ভাল করে দিতে পারে বলুন তো!

ফুচকা, ঝালমুড়ি, তেলেভাজা

লিখতে লিখতেই জিভে জল আসছে, তাহলে খাওয়ার সময় কেমন হবে বলুন তো! ফুচকা, ঝালমুড়ির কথা ভাবলেই মন ভাল হয়ে যায়। বিবেকানন্দপার্কের ফুচকার (kolkata street foods)কথা মনে পড়ে যায়। আর তেলেভাজা আলুর চপ কিংবা আমের চপ যেন অমৃত!

দক্ষিণের খাবারও আপন করেছি

কলকাতা এমন এক শহর, যেখানে সারা দেশ ও বিদেশের নানারকম খাবার একসঙ্গে মিলে বন্ধুত্ব পাতিয়েছে। সে কথা আপনিও মনে মনে বেশ বিশ্বাস করেন। তাই দক্ষিণ ভারতে কলকাতার স্ট্রিট ফুড ততটা পাওয়া না গেলেও, আমাদের কলকাতায় কিন্তু দক্ষিণ ভারতের নানা রকম খাবার আপনি চাইলে পেতেই পারেন। আপনার পয়সাও উশুল আর মনও ভাল হয়ে যায় (kolkata street foods)।

মূল ছবি সৌজন্য - ইনস্টাগ্রা

POPxo এখন চারটে ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!        

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!