চলে এল জামাই ষষ্ঠী, কিন্তু জানেন কি, জামাইদের কোনও ভুমিকাই ছিল না এই উৎসবে!

চলে এল জামাই ষষ্ঠী, কিন্তু জানেন কি, জামাইদের কোনও ভুমিকাই ছিল না এই উৎসবে! in bengali

লোকাচার মতে, দিনটা ছিল আর পাঁচটা ষষ্ঠীর মতোই। যেদিন সন্তানের মঙ্গলকামনায় মায়েরা ঘটা করে মা ষষ্ঠীর পুজো করতেন, ব্রত পালন করতেন। কোত্থেকে যেন এই জষ্ঠি মাসের ষষ্ঠীতে সন্তানের সঙ্গে জুড়ে গেলেন জামাইরা ও! আর ধীরে-ধীরে এই ষষ্ঠীর নামই পালটে গেল জামাই ষষ্ঠীতে (how jamai sasthi started in bengal)। আর সেই সুযোগে ভরা জৈষ্ঠ্য মাসে চড়া রোদ মাথায় নিয়েই জামাই বাবাজিরাও শ্বশুরবাড়ি মুখো হলেন। জামাই বলে কথা, তাঁকে যত্ন আত্তি না করলে চলে! শাশুড়ি মাও তাই ঘাম ঝরিয়ে শুরু করলেন রান্না। পঞ্চব্যঞ্জনে শুরু হল ভুরিভোজ। সঙ্গী হল মেয়েও। সকলে মিলে বাপের বাড়িতে একটু স্পেশ্যাল আদর, মায়ের হাতের রান্না আর তালপাতার পাখার স্নেহমাখা হাওয়া, কার না ভাল লাগে বলুন! জামাই ও খুশি খাতির পেয়ে, শাশুড়িও খুশি একটি দিন মেয়ে-জামাইকে কাছে পেয়ে! ইতিহাস ঘাঁটলে আরও অনেক মজার মজার তথ্য় (how jamai sasthi started in bengal) উঠে আসে, যা নিয়ে এবার আলোচনা করব আমরা...

এ’বছর জামাই ষষ্ঠী কবে

ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এবছর জামাই ষষ্ঠী হল জুন মাসের ১৬ তারিখে,  বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে পয়লা আষাঢ়, ১৪২৮। যদিও এ’বছর লকডাউনের জন্য ক’জন সেভাবে জামাই ষষ্ঠী পালন করতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তবে যাঁদের শ্বশুরবাড়ি কাছাকাছি, তাঁরা হয়ত টুক করে চলে যেতে পারেন কবজি ডুবিয়ে ভোজ খাওয়ার জন্য।

জামাই ষষ্ঠীর মাহাত্ম্য

অনেকই ভাবেন, জামাই ষষ্ঠী (how jamai sasthi started in bengal) মানে শুধুই জামাই বাবাজিদের জন্য অনুষ্ঠান। আদতে কিন্তু তা নয়। শাস্ত্র মতে এই দিনটা মোটেই জামাইদের নয়। বরং বলা যেতে পারে বিবাহিত মহিলাদের কাছ থেকে এক প্রকার হাইজ্যাক করে এই দিনটিকে নিজেদের বানিয়ে ফেলেছেন জামাইয়েরা।

আগে এই দিনটিতে সন্তান লাভের আশায় বিবাহিত মহিলারা মা বিন্ধ্যবাসিনী স্কন্দ ষষ্ঠীর পুজো করতেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে শুরু হত উপোস। এরপরে পাঁচ ধরনের ফল, মিষ্টি এবং ১০৮ টা দুর্বাবাঁধা আঁটি নিবেদন করে হত পুজো। মাকে নিবেদন করা হত ধান এবং আমের পল্লবও। পুজো শেষে প্রসাদ খেয়ে উপোস ভাঙা হত। সেই প্রথা আজও আছে। জামাই ষষ্ঠীর দিন অনেকেই এই সব নিয়ম মেনে মা ষষ্ঠীর পুজো করে থাকেন। সঙ্গে সমান তালে চলে জামাই নিয়ে জামাই ষষ্ঠী উদযাপনও! 

তাহলে জামাইরা কীভাবে ভাগ বসালেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে সেই সময়ে, যখন মেয়েরা একা-একা বাড়ি থেকে বেরতেন না। বাপের বাড়ি যেতে গেলেও সেই নিয়মই প্রযোজ্য ছিল। ষষ্ঠীর দিন মেয়ের কল্যাণের আশায় তাকে পাখার বাতাস করবেন বলে মায়েরা উদগ্রীব হয়ে থাকতেন, তখন মেয়েদের সঙ্গে করে পৌঁছতে আসতেন জামাইরাই! প্রসঙ্গত, আরও অনেকরকম ষষ্ঠীব্রত বাংলায় আছে বটে, কিন্তু সেগুলি সন্তানের অসাক্ষাতেও পালন করা চলে। শুধু এই ষষ্ঠীতেই (how jamai sasthi started in bengal) সন্তানকে পাখার হাওয়া দেওয়া নিয়ম। বোধ করি, দিনটি তৈরিই হয়েছিল হয়তো মেয়েরা যাতে আরও একটি বেশিদিন বাপের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পান, সেজন্যেই!

যাই হোক, মেয়েকে পৌঁছে দিতে স্বয়ং জামাইও যখন বাড়িতে আসছেন, তখন তাঁকে একটু আদর আপ্যায়ন না করলে চলে। তাই ষষ্ঠীর দিনে শাশুড়ি মায়েরা জামাইদের পাত পেড়ে খাওয়াতেন। তাতে মা-মেয়ে মিলে ষষ্ঠীর পুজো যেমন করতে পারতেন, তেমনই জামাইকে একটু তোষামোদ করারও সুযোগ মিলত। সেই থেকেই শুরু হল ষষ্ঠীর দিন জামাই আদর। এবার তা হলে বুঝতেই পারছেন কীভাবে সাধারণ স্বন্দ ষষ্ঠী বদলে গেল জামাই ষষ্ঠীতে!

জামাই ষষ্ঠী (how jamai sasthi started in bengal) নিয়ে অবশ্য আর একটা গল্পেরও হদিশ মেলে। তখনকার দিনে মেয়েদের যতদিন না সন্তান হত, ততদিন নাকি তাঁর মুখ দেখতে পারতেন না বাবা-মায়েরা! ফলে অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের মুখ না দেখেই কাটাতে হত তাঁদের। তার সমাধানেই সমাজের বিধানদাতারা জৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠীকে বেছে নিলেন মা বিন্ধ্যবাসিনী স্কন্দ ষষ্ঠীর পুজোর দিন হিসেবে। যেদিন পুজো উপলক্ষে জামাই এবং মেয়েকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যা পরবর্তী সময় শুধুমাত্র জামাই ষষ্ঠী হিসেবেই পরিচিতি পায়। আর এখন তো অনেকেই মা ষষ্ঠীর পুজো করেন না, কিন্তু তাঁরাও জামাই ষষ্ঠী পালন করেন বেশ ধুমধাম করে।

মূল ছবি সৌজন্য: ইনস্টাগ্রাম

POPxo এখন চারটে ভাষায়! ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি আর বাংলাতেও!      

বাড়িতে থেকেই অনায়াসে নতুন নতুন বিষয় শিখে ফেলুন। শেখার জন্য জয়েন করুন #POPxoLive, যেখানে আপনি সরাসরি আমাদের অনেক ট্যালেন্ডেট হোস্টের থেকে নতুন নতুন বিষয় চট করে শিখে ফেলতে পারবেন। POPxo App আজই ডাউনলোড করুন আর জীবনকে আরও একটু পপ আপ করে ফেলুন!